Back to Bible Bibbia বাইবেল
To view a book in a new Tab or Window, right-click (or equivalent) the name of the book and select the relevant option.
Per visionare un libro in un nuovo pannello o finestra, clicca il nome del libro col pulsante destro (o gesto equivalente) e seleziona l’opzione desiderata.

পুরাতন নিয়মঃ আদি যাত্রা লেবীয় গণনা দ্বিতীয় বিবরণ যোশুয়া বিচারকচরিত রুথ ১ম সামুয়েল ২য় সামুয়েল ১ম রাজাবলি ২য় রাজাবলি ১ম বংশাবলি ২য় বংশাবলি এজরা নেহেমিয়া তোবিত যুদিথ এস্থার ১ম মাকাবীয় ২য় মাকাবীয় যোব সামসঙ্গীত প্রবচন উপদেশক পরম গীত প্রজ্ঞা বেন-সিরা ইসাইয়া যেরেমিয়া বিলাপ বারুক এজেকিয়েল দানিয়েল হোসেয়া যোয়েল আমোস ওবাদিয়া যোনা মিখা নাহুম হাবাকুক জেফানিয়া হগয় জাখারিয়া মালাখি
নূতন নিয়মঃ মথি মার্ক লুক যোহন শিষ্যচরিত রোমীয় ১ম করিন্থীয় ২য় করিন্থীয় গালাতীয় এফেসীয় ফিলিপ্পীয় কলসীয় ১ম থেসালোনিকীয় ২য় থেসালোনিকীয় ১ম তিমথি ২য় তিমথি তীত ফিলেমন হিব্রু যাকোব ১ম পিতর ২য় পিতর ১ম যোহন ২য় যোহন ৩য় যোহন যুদ প্রত্যাদেশ

আদিপুস্তক


অধ্যায়ঃ ১০ ১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮ ১৯ ২০ ২১ ২২ ২৩ ২৪ ২৫ ২৬ ২৭ ২৮ ২৯ ৩০ ৩১ ৩২ ৩৩ ৩৪ ৩৫ ৩৬ ৩৭ ৩৮ ৩৯ ৪০ ৪১ ৪২ ৪৩ ৪৪ ৪৫ ৪৬ ৪৭ ৪৮ ৪৯ ৫০

১:১ আদিতে, যখন পরমেশ্বর আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকাজ শুরু করলেন,
১:২ যখন পৃথিবী নিরাকার ও শূন্যময় ছিল, অতল গহ্বরের উপর অন্ধকার বিরাজ করত, এবং ঐশ্বরিক এক বায়ু জলরাশির উপরে বইত,
১:৩ তখন পরমেশ্বর বললেন, ‘আলো হোক;’ আর আলো হল।
১:৪ পরমেশ্বর দেখলেন, আলো মঙ্গলময়; পরমেশ্বর অন্ধকার থেকে আলো পৃথক করে দিলেন;
১:৫ আর পরমেশ্বর আলোর নাম দিন রাখলেন, ও অন্ধকারের নাম রাখলেন রাত। সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—প্রথম দিন।
১:৬ পরমেশ্বর বললেন, ‘জলরাশি দু’ভাগে পৃথক করার জন্য জলরাশির মাঝখানে একটা ফাঁপা শক্ত পরদা হোক।’
১:৭ তেমন পরদা তৈরি করে পরমেশ্বর পরদার নিচের জলরাশি থেকে পরদার উপরের জলরাশি পৃথক করে দিলেন; আর সেইমতই হল।
১:৮ পরমেশ্বর পরদার নাম আকাশ রাখলেন। সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—দ্বিতীয় দিন।
১:৯ পরমেশ্বর বললেন, ‘আকাশের নিচের জলরাশি একস্থানেই মিলিত হোক, ও স্থল দেখা দিক।’ আর সেইমতই হল।
১:১০ পরমেশ্বর স্থলের নাম ভূমি রাখলেন, ও জলরাশির নাম রাখলেন সমুদ্র; আর পরমেশ্বর দেখলেন, তা মঙ্গলময়।
১:১১ পরমেশ্বর বললেন, ‘ভূমি সবুজ ঘাস উৎপন্ন করুক, এমন উদ্ভিদও উৎপন্ন করুক যা বীজ বহন করে, এবং পৃথিবী জুড়ে এমন ফল-উৎপাদক গাছও উৎপন্ন করুক যাদের ফলের মধ্যে থাকবে নিজ নিজ জাত অনুযায়ী বীজ।’ আর সেইমতই হল।
১:১২ ভূমি ঘাস উৎপন্ন করল, এমন উদ্ভিদও উৎপন্ন করল যা নিজ নিজ জাত অনুযায়ী বীজ বহন করে, এবং এমন ফল-উৎপাদক গাছও উৎপন্ন করল যাদের ফলের মধ্যে রয়েছে নিজ নিজ জাত অনুযায়ী বীজ। পরমেশ্বর দেখলেন, তা মঙ্গলময়।
১:১৩ সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—তৃতীয় দিন।
১:১৪ পরমেশ্বর বললেন, ‘রাত্রি ও দিন পৃথক করার জন্য আকাশপরদায় নানা বাতি হোক; সেগুলি ঋতু, দিন ও বছর নির্দেশ করুক,
১:১৫ এবং পৃথিবীর উপরে আলো ছড়াবার জন্য বাতি হিসাবেই আকাশপরদায় থাকুক।’ আর সেইমতই হল:
১:১৬ পরমেশ্বর বড় সেই দু’টো বাতি তৈরি করলেন: বড়টা দিন নিয়ন্ত্রণের জন্য, আর তার চেয়ে ছোটটা রাত্রি নিয়ন্ত্রণের জন্য; তিনি তারানক্ষত্রও তৈরি করলেন।
১:১৭ পরমেশ্বর সেগুলোকে আকাশপরদায় বসালেন, যেন পৃথিবীর উপরে আলো ছড়ায়,
১:১৮ দিন ও রাত্রি নিয়ন্ত্রণ করে, এবং অন্ধকার থেকে আলো পৃথক করে। পরমেশ্বর দেখলেন, তা মঙ্গলময়।
১:১৯ সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—চতুর্থ দিন।
১:২০ পরমেশ্বর বললেন, ‘জলরাশি অসংখ্য প্রাণীতে ভরে উঠুক, এবং পৃথিবীর উপরে আকাশপরদা জুড়ে পাখি উড়ুক।’
১:২১ পরমেশ্বর সেই বিরাট বিরাট সমুদ্র-দানব ও সেই সমস্ত অসংখ্য প্রাণী নিজ নিজ জাত অনুসারে সৃষ্টি করলেন যেগুলো জলরাশিতে চলাফেরা করে; তিনি নিজ নিজ জাত অনুসারে সমস্ত উড়ন্ত পাখিও সৃষ্টি করলেন। পরমেশ্বর দেখলেন, তা মঙ্গলময়।
১:২২ সেই সমস্ত কিছু পরমেশ্বর এই বলে আশীর্বাদ করলেন: ‘তোমরা ফলবান হও, বংশবৃদ্ধি কর, সমুদ্রের জলরাশি ভরিয়ে তোল; পাখিরা স্থলভূমিতে বংশবৃদ্ধি করুক।’
১:২৩ সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—পঞ্চম দিন।
১:২৪ পরমেশ্বর বললেন, ‘পৃথিবী নিজ নিজ জাত অনুযায়ী গবাদি পশু, সরিসৃপ ও বন্যজন্তু—নিজ নিজ জাত অনুযায়ী সমস্ত প্রাণী উৎপন্ন করুক।’ আর সেইমতই হল।
১:২৫ পরমেশ্বর নিজ নিজ জাত অনুযায়ী বন্যজন্তু, নিজ নিজ জাত অনুযায়ী গবাদি পশু, ও নিজ নিজ জাত অনুযায়ী ভূমির সমস্ত সরিসৃপও তৈরি করলেন। পরমেশ্বর দেখলেন, তা মঙ্গলময়।
১:২৬ পরমেশ্বর বললেন, ‘এসো, আমরা আমাদের আপন প্রতিমূর্তিতে, আমাদের আপন সাদৃশ্য অনুসারে মানুষ নির্মাণ করি: তারা সমুদ্রের মাছের উপরে, আকাশের পাখিদের উপরে, গবাদি পশুদের উপরে, গোটা পৃথিবীর উপরে, ও মাটির বুকে চরে যত সরিসৃপের উপরে প্রভুত্ব করুক।’
১:২৭ পরমেশ্বর তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করলেন;
পরমেশ্বরেরই প্রতিমূর্তিতে তাকে সৃষ্টি করলেন:
পুরুষ ও নারী করে তাদের সৃষ্টি করলেন।
১:২৮ পরমেশ্বর তাদের আশীর্বাদ করলেন;
পরমেশ্বর তাদের বললেন,
‘ফলবান হও, বংশবৃদ্ধি কর,
পৃথিবী ভরিয়ে তোল, তা বশীভূত কর;
সমুদ্রের মাছের উপরে,
আকাশের পাখিদের উপরে,
ও ভূমির যত সরিসৃপের উপরে প্রভুত্ব কর।’
১:২৯ পরমেশ্বর বললেন, ‘দেখ, সারা পৃথিবী জুড়ে যত উদ্ভিদ বীজ বহন করে, ও ফল-উৎপাদক যত গাছ ফলের মধ্যে বীজ বহন করে, তা সবই আমি তোমাদের দিচ্ছি; তা হবে তোমাদের খাদ্য।
১:৩০ সমস্ত বন্যজন্তু, আকাশের সমস্ত পাখি ও মাটির বুকে চলাচল করে সমস্ত জীব—এই সকল প্রাণীকে আমি খাদ্যরূপে সবুজ যত উদ্ভিদ দিচ্ছি।’ আর সেইমতই হল।
১:৩১ পরমেশ্বর তাঁর তৈরি করা সমস্ত কিছুর দিকে তাকিয়ে দেখলেন; আর সত্যি, সেই সমস্ত কিছু খুবই মঙ্গলময়। সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—ষষ্ঠ দিন।
২:১ এইভাবে আকাশ ও পৃথিবী এবং তাদের যত বাহিনীর সৃষ্টিকাজ শেষ হল।
২:২ পরমেশ্বর যে সমস্ত কাজ সাধন করে আসছিলেন, তা সপ্তম দিনে শেষ করলেন; যে সমস্ত কাজ সাধন করে আসছিলেন, তা তিনি সপ্তম দিনে শেষ করে বিশ্রাম নিলেন।
২:৩ পরমেশ্বর সেই সপ্তম দিন আশীর্বাদ করলেন, তা পবিত্র করলেন, কেননা সৃষ্টিকাজে সেই সমস্ত কিছু সাধন করার পর পরমেশ্বর সেই দিনেই বিশ্রাম নিলেন।
২:৪ আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্নে এ হল আকাশ ও পৃথিবীর জন্মকাহিনী। যখন প্রভু পরমেশ্বর পৃথিবী ও আকাশ নির্মাণ করলেন,
২:৫ তখন পৃথিবীতে বন্য কোন ঝোপঝাড় ছিল না, বন্য কোন উদ্ভিদও উৎপন্ন হয়নি, কেননা প্রভু পরমেশ্বর পৃথিবীর উপরে বৃষ্টির জল তখনও বর্ষণ করেননি, মাটি চাষ করবে কোন মানুষও তখন ছিল না।
২:৬ সেসময়ে একটা জলধারা পৃথিবী-গর্ভ থেকে উৎসারিত হয়ে সমস্ত স্থলভূমি জলসিক্ত করত।
২:৭ প্রভু পরমেশ্বর মাটি থেকে ধুলো নিয়ে মানুষকে গড়লেন, এবং তার নাকে ফুঁ দিয়ে তার মধ্যে প্রাণবায়ু সঞ্চার করলেন; আর মানুষ সজীব প্রাণী হয়ে উঠল।
২:৮ প্রভু পরমেশ্বর প্রাচ্যদেশে—এদেনে—একটি বাগান করলেন, আর সেখানে তাঁর গড়া সেই মানুষকে রাখলেন।
২:৯ প্রভু পরমেশ্বর ভূমি থেকে এমন সব গাছ উৎপন্ন করলেন, যা দেখতে সুন্দর ও খেতে সুস্বাদু; বাগানটির মাঝখানে উৎপন্ন করলেন জীবনবৃক্ষ; মঙ্গল-অমঙ্গল জ্ঞানবৃক্ষও উৎপন্ন করলেন।
২:১০ এদেন থেকে এক নদী প্রবাহিত ছিল, যা বাগানটিকে জলসিক্ত করত, এবং সেখান থেকে আলাদা আলাদা হয়ে চতুর্মুখী হত।
২:১১ প্রথম নদীর নাম পিশোন: নদীটা সেই সমস্ত হাবিলা দেশ ঘিরে রাখে যেখানে সোনা পাওয়া যায়;
২:১২ সেই দেশের সোনা উত্তম; সেই দেশে সুরভি মলম ও বৈদূর্যমণিও পাওয়া যায়।
২:১৩ দ্বিতীয় নদীর নাম গিহোন: নদীটা সমস্ত ইথিওপিয়া দেশ ঘিরে রাখে।
২:১৪ তৃতীয় নদীর নাম টাইগ্রীস: নদীটা আসুর দেশের পুবদিকে বয়। চতুর্থ নদী ইউফ্রেটিস।
২:১৫ প্রভু পরমেশ্বর মানুষকে নিয়ে এদেন বাগানে রাখলেন, যেন সে মাটি চাষ করে ও বাগানের দেখাশোনা করে।
২:১৬ তখন প্রভু পরমেশ্বর মানুষকে এই আজ্ঞা দিলেন, ‘তুমি এই বাগানের সমস্ত গাছের ফল খুশি-স্বচ্ছন্দেই খাও;
২:১৭ কিন্তু মঙ্গল-অমঙ্গল জ্ঞানবৃক্ষের ফল খাবে না, কেননা যেদিন তার ফল খাবে, সেদিন তুমি মরবেই মরবে।’
২:১৮ প্রভু পরমেশ্বর বললেন, ‘মানুষের পক্ষে একা থাকা ভাল নয়; তার জন্য আমি তার মত একজন সহায়ক নির্মাণ করব।’
২:১৯ তখন প্রভু পরমেশ্বর মাটি থেকে সমস্ত বন্যজন্তু ও আকাশের সমস্ত পাখি গড়ে মানুষের কাছে আনলেন; দেখতে চাচ্ছিলেন, মানুষ তাদের কী কী নাম রাখবে; মানুষ যা কিছুর নাম রাখল, সেই সবকিছুর নাম ছিল ‘সজীব প্রাণী’:
২:২০ মানুষ সমস্ত গবাদি পশুর, আকাশের সমস্ত পাখির, ও সমস্ত বন্যজন্তুর নাম রাখল, কিন্তু তবু মানুষের জন্য উপযোগী কোন সহায়ক পাওয়া গেল না।
২:২১ তখন প্রভু পরমেশ্বর মানুষের উপর এমন গভীর নিদ্রা নামিয়ে আনলেন যে, সে ঘুমিয়ে পড়ল। তিনি তার একটা পাঁজর তুলে নিয়ে জায়গাটি মাংস দিয়ে বন্ধ করে দিলেন।
২:২২ মানুষ থেকে তুলে নেওয়া সেই পাঁজর দিয়ে প্রভু পরমেশ্বর এক নারী গড়লেন ও তাকে মানুষের কাছে আনলেন।
২:২৩ আর মানুষ বলল,
‘এবার এ-ই হল আমার হাড়ের হাড়
ও আমার মাংসের মাংস!
এর নাম নারী হবে,
কেননা নর থেকেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।’
২:২৪ এজন্য মানুষ তার পিতামাতাকে ছেড়ে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হবে এবং সেই দু’জন একদেহ হবে।
২:২৫ সেসময় মানুষ ও তার স্ত্রী দু’জনেই উলঙ্গ ছিল, এতে কিন্তু তারা কোন লজ্জা বোধ করত না।
৩:১ প্রভু পরমেশ্বর যে সমস্ত বন্যজন্তু নির্মাণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে সাপই ছিল সবচেয়ে ধূর্ত। সে সেই নারীকে বলল, ‘পরমেশ্বর নাকি তোমাদের বলেছেন, তোমরা এই বাগানের কোন গাছের ফল খাবে না।’
৩:২ নারী সাপকে উত্তরে বলল, ‘আমরা বাগানের গাছগুলোর ফল খেতে পারি;
৩:৩ কিন্তু বাগানের মাঝখানে যে গাছ রয়েছে, তার ফল সম্বন্ধে পরমেশ্বর বলেছেন, তোমরা তা খাবে না, স্পর্শও করবে না, করলে তোমরা মরবে।’
৩:৪ তখন সাপ নারীকে বলল, ‘তোমরা মোটেই মরবে না!
৩:৫ এমনকি পরমেশ্বর জানেন, যেদিন তোমরা তা খাবে, সেদিন তোমাদের চোখ খুলে যাবে আর তোমরা পরমেশ্বরের মত হয়ে মঙ্গল-অমঙ্গল জ্ঞান লাভ করবে।’
৩:৬ নারী দেখল, গাছটির ফল খেতে ভাল, চোখেও আকর্ষণীয়, এবং জ্ঞানদায়ী গাছ বিধায় আকাঙ্ক্ষণীয়; তাই সে তার কয়েকটা ফল পেড়ে নিজে খেল, ও তার সঙ্গে উপস্থিত তার স্বামীকেও দিল; সেও খেল।
৩:৭ তখন তাদের দু’জনেরই চোখ খুলে গেল, তারা এও বুঝতে পারল যে, তারা উলঙ্গ; তাই ডুমুরগাছের কয়েকটা পাতা সেলাই করে কোমরের জন্য এক প্রকার আবরণ তৈরি করল।
৩:৮ পরে মানুষ ও তার স্ত্রী প্রভু পরমেশ্বরের চলাচলের সাড়া পেল, তিনি দিনের স্নিগ্ধ বাতাসে বাগানের মধ্যে হেঁটে বেড়াচ্ছিলেন; তখন প্রভু পরমেশ্বরের সামনে থেকে তারা বাগানের গাছপালার মধ্যে নিজেদের লুকাল।
৩:৯ কিন্তু প্রভু পরমেশ্বর মানুষকে ডাকলেন; তাকে বললেন, ‘তুমি কোথায় আছ?’
৩:১০ সে উত্তরে বলল, ‘বাগানে তোমার সাড়া পেয়ে আমি ভয় পেলাম, কারণ আমি উলঙ্গ; তাই নিজেকে লুকিয়েছি।’
৩:১১ তিনি বললেন, ‘তুমি যে উলঙ্গ, একথা কে তোমাকে বলল? যে গাছের ফল খেতে তোমাকে নিষেধ করেছিলাম, তুমি কি তার ফল খেয়েছ?’
৩:১২ মানুষ উত্তরে বলল, ‘আমার সঙ্গিনী করে যাকে তুমি আমাকে দিয়েছ, সেই নারীই আমাকে সেই গাছের ফল দিয়েছে, আর আমি তা খেয়েছি।’
৩:১৩ প্রভু পরমেশ্বর নারীকে বললেন, ‘তুমি এ কী করলে?’ নারী উত্তরে বলল, ‘সাপ-ই আমাকে ভুলিয়েছে, আর আমি খেয়েছি।’
৩:১৪ তখন প্রভু পরমেশ্বর সাপকে বললেন, ‘এই কাজ করেছ বিধায় অভিশপ্তই তুমি সমস্ত গবাদি পশু ও সমস্ত বন্যজন্তুর চেয়ে! তোমাকে বুকেই হাঁটতে হবে, ও তোমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে ধুলো খেতে হবে।
৩:১৫ আমি তোমার ও নারীর মধ্যে, তোমার বংশ ও তার বংশের মধ্যে পরস্পর শত্রুতা জাগিয়ে তুলব; তার বংশ তোমার মাথা পিষে মারবে, আর তুমি তার পায়ের গোড়ালিতে ছোবল মারবে।’
৩:১৬ নারীকে তিনি বললেন, ‘আমি তোমার প্রসবযন্ত্রণা তীব্র করে তুলব, যন্ত্রণার মধ্যেই তুমি সন্তান প্রসব করবে; তোমার আকাঙ্ক্ষা হবে স্বামীর প্রতি, আর সে তোমার উপর কর্তৃত্ব চালাবে।’
৩:১৭ আদমকে তিনি বললেন, ‘যে গাছের ফল সম্বন্ধে আমি তোমাকে বলেছিলাম, তুমি তা খাবে না, তোমার স্ত্রীর কথা শুনে তুমি তার ফল খেয়েছ বিধায় তোমার কারণে ভূমি অভিশপ্ত হোক! তোমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে তুমি ক্লেশেই তা ভোগ করবে।
৩:১৮ এই ভূমি তোমার জন্য কাঁটাগাছ ও শেয়ালকাঁটা ফলাবে, মাঠের উদ্ভিদ হবে তোমার খাদ্য।
৩:১৯ তুমি মাথার ঘাম পায়ে ফেলেই আহার করবে—যতদিন না তুমি মাটিতে ফিরে যাও, যেহেতু মাটি থেকেই তোমাকে তুলে নেওয়া হয়েছে: কেননা তুমি ধুলো, আর ধুলোতেই আবার ফিরে যাবে।’
৩:২০ সেই মানুষ নিজের স্ত্রীর নাম হবা রাখল, কেননা সে সকল জীবিতের জননী হল।
৩:২১ কিন্তু প্রভু পরমেশ্বর মানুষ ও তার স্ত্রীর জন্য চামড়ার পোশাক প্রস্তুত করে তাদের পরালেন।
৩:২২ তখন প্রভু পরমেশ্বর বললেন, ‘দেখ, মঙ্গল-অমঙ্গল জ্ঞান সম্বন্ধে মানুষ আমাদের একজনের মত হয়ে উঠল; এখন কিন্তু সে যেন হাত বাড়িয়ে জীবনবৃক্ষের ফলও পেড়ে না খায় ও চিরজীবী হয়!’
৩:২৩ তাই প্রভু পরমেশ্বর তাকে এদেন বাগান থেকে বের করে দিলেন, যেন সে সেই মাটি চাষ করে যা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
৩:২৪ তিনি মানুষকে তাড়িয়ে দিলেন, এবং জীবনবৃক্ষের দিকের পথ রক্ষা করার জন্য এদেন বাগানের পুবদিকে খেরুবদের মোতায়েন করলেন, সেই অগ্নিময় খড়্গও রাখলেন, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে যার ঝলক।
৪:১ নিজের স্ত্রী হবার সঙ্গে আদমের মিলন হল; হবা গর্ভবতী হয়ে কাইনকে প্রসব করলেন; তিনি বললেন, ‘প্রভুর সহায়তায় একটি মানুষকে পেয়েছি।’
৪:২ তিনি কাইনের ভাই আবেলকেও প্রসব করলেন। আবেল পালক হয়ে মেষ পালন করত, কাইন মাটি চাষ করত।
৪:৩ এভাবে সময় কাটতে লাগল; একদিন কাইন ভূমির ফল প্রভুর কাছে অর্ঘ্যরূপে উৎসর্গ করল।
৪:৪ আবেলও নিজের পশুপালের প্রথমজাত কয়েকটা শাবককে ও তাদের চর্বি উৎসর্গ করল। প্রভু আবেলের প্রতি ও তার অর্ঘ্যের প্রতি মুখ তুলে চাইলেন,
৪:৫ কিন্তু কাইন ও তার অর্ঘ্যের প্রতি মুখ তুলে চাইলেন না; তাতে কাইন অধিক রেগে উঠল, তার মুখ বিষণ্ণ হল।
৪:৬ প্রভু কাইনকে বললেন, ‘তোমার এই রাগ কেন? তোমার মুখ বিষণ্ণ কেন?
৪:৭ সদ্ব্যবহার করলে তুমি কি মুখ উচ্চ করে রাখবে না? কিন্তু সদ্ব্যবহার না করলে পাপ-ই তোমার দ্বারে ওত পেতে বসে রয়েছে; তোমার জন্য সেই পাপ লোলুপ বটে, কিন্তু তা দমন করা তোমার উপরই নির্ভর করবে!’
৪:৮ কাইন ভাই আবেলের সঙ্গে কথা বলল, আর তারা মাঠে গেলে কাইন তাঁর ভাই আবেলকে আক্রমণ করে হত্যা করল।
৪:৯ প্রভু কাইনকে বললেন, ‘তোমার ভাই আবেল কোথায়?’ সে উত্তরে বলল, ‘জানি না; আমি কি আমার ভাইয়ের রক্ষক?’
৪:১০ তিনি বললেন, ‘তুমি কী করেছ? শোন! তোমার ভাইয়ের রক্ত মাটি থেকে আমার কাছে চিৎকার করছে।
৪:১১ আর এখন, অভিশপ্ত তুমি! বিচ্যুত হও সেই মাটি থেকে যা তোমার হাতের কর্মের ফলে তোমার ভাইয়ের রক্ত গ্রহণ করতে মুখ খুলেছে!
৪:১২ তুমি মাটি যতই চাষ কর না কেন, মাটি তোমাকে তার নিজের শক্তি আর দেবে না; তুমি পৃথিবীতে উদ্দেশবিহীন পলাতক হবে!’
৪:১৩ তখন কাইন প্রভুকে বলল, ‘না! আমার দণ্ডের ভার অসহনীয়!
৪:১৪ দেখ, তুমি আজ পৃথিবীর বুক থেকে আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছ, তাই আমাকে তোমার সম্মুখ থেকে নিজেকে লুকোতে হবে; পৃথিবীতে আমাকে উদ্দেশবিহীন পলাতক হতে হবে; কেননা যে কেউ আমার দেখা পাবে, সে আমাকে হত্যাই করবে।’
৪:১৫ প্রভু তাকে বললেন, ‘কিন্তু তবু যে কেউ কাইনকে হত্যা করবে, তাকে সাতগুণ বেশি প্রতিফল পেতে হবে।’ তাই প্রভু কাইনের জন্য একটা চিহ্ন রাখলেন, তার দেখা পেয়ে কেউই যেন তাকে মেরে না ফেলে।
৪:১৬ কাইন প্রভুর সাক্ষাৎ থেকে বিদায় নিয়ে এদেনের পুবদিকে নোদ দেশে গিয়ে বসতি করল।
৪:১৭ নিজের স্ত্রীর সঙ্গে কাইনের মিলন হল; তার স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে এনোখকে প্রসব করল; পরে কাইন একটা নগরের স্থাপনকর্তা হল যার নাম নিজের সন্তানের নাম অনুসারে এনোখ রাখল।
৪:১৮ এনোখের ঘরে ইরাদের জন্ম হল, আর ইরাদ হলেন মেহুয়ায়েলের পিতা, মেহুয়ায়েল হলেন মেথুসায়েলের পিতা, আর মেথুসায়েল হলেন লামেখের পিতা।
৪:১৯ লামেখ দু’টো স্ত্রী নিলেন, একজনের নাম আদা, আর একজনের নাম জিল্লা।
৪:২০ আদা যাবালকে প্রসব করলেন, তিনি হলেন তাঁবুবাসী পশুপালকদের আদিপুরুষ;
৪:২১ তাঁর ভাইয়ের নাম যুবাল, তিনি হলেন বীণা ও বাঁশি বাদকদের আদিপুরুষ।
৪:২২ এদিকে জিল্লা তুবালকাইনকে প্রসব করলেন, এই তুবালকাইন তাদেরই আদিপুরুষ হলেন যারা ব্রঞ্জ ও লোহার যন্ত্রপাতি বানায়; তুবালকাইনের বোনের নাম নায়ামা।
৪:২৩ লামেখ তার স্ত্রী দু’জনকে বললেন,
‘আদা, জিল্লা, তোমরা আমার এই কথা শোন;
লামেখের বধূ দু’জন, আমার কথন কান পেতে শোন;
আঘাতের কারণে আমি একটা মানুষকে,
প্রহারের কারণে একটা যুবককে হত্যা করেছি।
৪:২৪ কাইনের জন্য সাতগুণ প্রতিশোধ,
কিন্তু লামেখের জন্য সাতাত্তর গুণ প্রতিশোধ!’
৪:২৫ স্ত্রীর সঙ্গে আদমের আবার মিলন হল; তাঁর স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করলেন ও তার নাম সেথ রাখলেন, ‘কেননা পরমেশ্বর আবেলের স্থানে আর একটি পুত্রসন্তানকে আমার ঘরে স্থান দিলেন, যেহেতু কাইন তাকে হত্যা করেছে।’
৪:২৬ সেথের ঘরেও একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হল, আর তিনি তার নাম এনোস রাখলেন। সেসময়েই মানুষ প্রভুর নাম করতে আরম্ভ করল।
৫:১ আদমের বংশাবলি-পুস্তক এ। যেদিন পরমেশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করলেন, সেদিনে পরমেশ্বরের সাদৃশ্যেই তাকে নির্মাণ করলেন—
৫:২ পুরুষ ও নারী করে তাদের সৃষ্টি করলেন এবং তাদের তিনি আশীর্বাদ করলেন; তারা সৃষ্ট হলে পর তিনি তাদের নাম ‘মানুষ’ রাখলেন।
৫:৩ পরে আদম একশ’ ত্রিশ বছর বয়সে নিজের সাদৃশ্যে, নিজের প্রতিমূর্তি অনুসারে একটি পুত্রসন্তানের পিতা হয়ে তার নাম সেথ রাখলেন।
৫:৪ সেথের পিতা হওয়ার পর আদম আটশ’ বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
৫:৫ সবসমেত আদমের বয়স হল ন’শো ত্রিশ বছর; পরে তাঁর মৃত্যু হল।
৫:৬ সেথ একশ’ পাঁচ বছর বয়সে এনোসের পিতা হলেন;
৫:৭ এনোসের পিতা হওয়ার পর সেথ আটশ’ সাত বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
৫:৮ সবসমেত সেথের বয়স হল ন’শো বারো বছর; পরে তাঁর মৃত্যু হল।
৫:৯ এনোস নব্বই বছর বয়সে কেনানের পিতা হলেন;
৫:১০ কেনানের পিতা হওয়ার পর এনোস আটশ’ পনেরো বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
৫:১১ সবসমেত এনোসের বয়স হল ন’শো পাঁচ বছর; পরে তাঁর মৃত্যু হল।
৫:১২ কেনান সত্তর বছর বয়সে মাহালালেলের পিতা হলেন;
৫:১৩ মাহালালেলের পিতা হওয়ার পর কেনান আটশ’ চল্লিশ বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
৫:১৪ সবসমেত কেনানের বয়স হল ন’শো দশ বছর; পরে তাঁর মৃত্যু হল।
৫:১৫ মাহালালেল পঁয়ষট্টি বছর বয়সে যারেদের পিতা হলেন;
৫:১৬ যারেদের পিতা হওয়ার পর মাহালালেল আটশ’ ত্রিশ বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
৫:১৭ সবসমেত মাহালালেলের বয়স হল আটশ’ পঁচানব্বই বছর; পরে তাঁর মৃত্যু হল।
৫:১৮ যারেদ একশ’ বাষট্টি বছর বয়সে এনোখের পিতা হলেন;
৫:১৯ এনোখের পিতা হওয়ার পর যারেদ আটশ’ বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
৫:২০ সবসমেত যারেদের বয়স হল ন’শো বাষট্টি বছর; পরে তাঁর মৃত্যু হল।
৫:২১ এনোখ পঁয়ষট্টি বছর বয়সে মেথুসেলাহ্‌র পিতা হলেন;
৫:২২ এনোখ পরমেশ্বরের সঙ্গে চললেন; মেথুসেলাহ্‌র পিতা হওয়ার পর তিনি তিনশ’ বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
৫:২৩ সবসমেত এনোখের বয়স হল তিনশ’ পঁয়ষট্টি বছর।
৫:২৪ এনোখ পরমেশ্বরের সঙ্গে চললেন; পরে তিনি আর রইলেন না, কেননা পরমেশ্বর তাঁকে ছিনিয়ে নিলেন।
৫:২৫ মেথুসেলাহ্‌ একশ’ সাতাশি বছর বয়সে লামেখের পিতা হলেন;
৫:২৬ লামেখের পিতা হওয়ার পর মেথুসেলাহ্‌ সাতশ’ বিরাশি বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
৫:২৭ সবসমেত মেথুসেলাহ্‌র বয়স হল ন’শো ঊনসত্তর বছর; পরে তাঁর মৃত্যু হল।
৫:২৮ লামেখ একশ’ বিরাশি বছর বয়সে একটি পুত্রসন্তানের পিতা হয়ে
৫:২৯ তাঁর নাম নোয়া রাখলেন, কেননা তিনি বললেন, ‘প্রভু যে ভূমি অভিশপ্ত করেছেন, সেই ভূমির কারণে আমাদের যে শ্রম ও হাতের ক্লেশ হচ্ছে, সেই ব্যাপারে এ আমাদের সান্ত্বনা দেবে।’
৫:৩০ নোয়ার পিতা হওয়ার পর লামেখ পাঁচশ’ পঁচানব্বই বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
৫:৩১ সবসমেত লামেখের বয়স হল সাতশ’ সাতাত্তর বছর; পরে তাঁর মৃত্যু হল।
৫:৩২ নোয়া পাঁচশ’ বছর বয়সে শেম, হাম ও যাফেথের পিতা হলেন।
৬:১ যখন পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে লাগল ও তাদের বহু কন্যার জন্ম হল,
৬:২ তখন ঈশ্বরসন্তানেরা দেখল, আদম-কন্যারা কতই না সুন্দরী ছিল, এবং তাদের মধ্য থেকে যতজন খুশিই ততজনকে বিবাহ করল।
৬:৩ প্রভু বললেন, ‘মানুষের ভুলভ্রান্তির কারণে আমার আত্মা তাকে সবসময়ের মত চালিত করবেন না, সে তো মাংসমাত্র; তার আয়ু বরং হবে একশ’ কুড়ি বছর।’
৬:৪ সেকালে—এবং পরবর্তীকালেও—পৃথিবীতে মহাবীরেরা ছিল; ঠিক সেসময়ই ঈশ্বরসন্তানেরা আদম-কন্যাদের সঙ্গে মিলিত হল ও তাদের মধ্য দিয়ে তাদের পুত্রসন্তান হল: এরাই সেকালের নামকরা বীর।
৬:৫ প্রভু দেখলেন, পৃথিবীতে মানুষের ধূর্ততা বড়, তার অন্তর সারাদিন ধরে কেবল অধর্মেরই চিন্তা আঁটছে।
৬:৬ পৃথিবীতে যে তিনি মানুষকে নির্মাণ করলেন, তার জন্য প্রভুর দুঃখ হল, তিনি মনঃক্ষুণ্ণ হলেন।
৬:৭ প্রভু বললেন, ‘আমি যে মানুষকে সৃষ্টি করেছি, তাকে পৃথিবীর বুক থেকে উচ্ছেদ করব—মানুষের সঙ্গে যত পশু, সরিসৃপ ও আকাশের পাখিদেরও উচ্ছেদ করব; কেননা আমি যে তাদের নির্মাণ করেছি, তার জন্য আমি দুঃখিত।’
৬:৮ কিন্তু নোয়া প্রভুর দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হলেন।
৬:৯ নোয়ার বংশ-কাহিনী এ: নোয়া সেযুগের মানুষদের মধ্যে ধার্মিক ও ত্রুটিহীন ছিলেন, তিনি পরমেশ্বরের সঙ্গে চলতেন।
৬:১০ নোয়ার তিন পুত্রসন্তান হল, তাদের নাম শেম, হাম ও যাফেথ।
৬:১১ কিন্তু পরমেশ্বরের দৃষ্টিতে পৃথিবী নষ্ট হয়েছিল, ছিল অধর্মেই পরিপূর্ণ।
৬:১২ পরমেশ্বর পৃথিবীর উপর দৃষ্টিপাত করলেন, আর দেখ, পৃথিবী নষ্ট হয়েছে, কেননা পৃথিবী জুড়ে সমস্ত প্রাণীর চলাফেরা নষ্টই ছিল।
৬:১৩ তখন পরমেশ্বর নোয়াকে বললেন,
‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি:
সমস্ত প্রাণীর শেষকাল উপস্থিত,
কেননা তাদের কারণে পৃথিবী অধর্মে পরিপূর্ণ;
আমি পৃথিবী সমেত তাদের নষ্ট করতে যাচ্ছি।
৬:১৪ তুমি গোফর কাঠের একটা জাহাজ তৈরি কর; বেণূ-বাঁশ দিয়েই তা তৈরি কর, ও তার ভিতরে ও বাইরে আলকাতরা লেপন কর।
৬:১৫ তুমি এইভাবে তা তৈরি করবে: জাহাজটা দৈর্ঘ্যে হবে তিনশ’ হাত, বিস্তারে পঞ্চাশ হাত, উচ্চতায় ত্রিশ হাত।
৬:১৬ জাহাজের এক হাত উপরে তার একটা ছাদ তৈরি করবে; দরজাটা জাহাজের এক পাশে দেবে; জাহাজটাকে তিন তালায় তৈরী হতে হবে: নিচ তালা, মধ্য তালা, উপর তালা।
৬:১৭ আর আমি, আকাশের নিচে যত জীবজন্তুর মধ্যে প্রাণবায়ু রয়েছে, সেই সকলকে বিনষ্ট করার জন্য এখন পৃথিবীর উপরে জলপ্লাবন ডেকে আনছি: পৃথিবীর সবকিছুই প্রাণত্যাগ করবে।
৬:১৮ কিন্তু তোমার সঙ্গে আমি আমার সন্ধি স্থাপন করব: তুমি তোমার ছেলেদের, নিজ বধূ ও তোমার ছেলেদের বধূদের সঙ্গে নিয়ে সেই জাহাজে প্রবেশ করবে।
৬:১৯ মদ্দা ও মাদী মিলিয়ে এক জোড়া করে যত জীবজন্তু, যত প্রাণী নিয়ে তাদের প্রাণরক্ষার জন্য নিজের সঙ্গে সেই জাহাজে প্রবেশ করাবে;
৬:২০ সব জাতের পাখি ও সব জাতের পশু ও ভূমির সব জাতের সরিসৃপ জোড়া জোড়া করে প্রাণরক্ষার জন্য তোমার সঙ্গে যাবে।
৬:২১ আর তুমি, তোমার নিজের জন্য ও তাদের জন্য খাদ্য হিসাবে সব রকম খাদ্য-সামগ্রী যুগিয়ে নিজের কাছে জমিয়ে রাখ।’
৬:২২ নোয়া এই সবকিছু করলেন; পরমেশ্বর তাঁকে যেমন আজ্ঞা দিলেন, তিনি সেই অনুসারে সবকিছু করলেন।
৭:১ প্রভু নোয়াকে বললেন, ‘তোমার ঘরের সকলের সঙ্গে জাহাজে প্রবেশ কর, কেননা আমি দেখেছি, এই প্রজন্মের মানুষদের মধ্যে আমার সামনে তুমিই ধার্মিক।
৭:২ তুমি তোমার সঙ্গে নাও মদ্দা ও মাদী মিলিয়ে প্রত্যেক জাতের সাত জোড়া করে শুচি পশু, ও মদ্দা ও মাদী মিলিয়ে প্রত্যেক জাতের সাত জোড়া করে অশুচি পশু;
৭:৩ মদ্দা ও মাদী মিলিয়ে প্রত্যেক জাতের সাত জোড়া আকাশের পাখিও নাও, যেন সারা পৃথিবী জুড়ে তাদের বংশ রক্ষা পায়;
৭:৪ কেননা সাত দিন পরে আমি পৃথিবীতে চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত ধরে বৃষ্টি নামিয়ে আনব: যত প্রাণীকে আমি নির্মাণ করেছি, তাদের সকলকেই পৃথিবীর বুক থেকে উচ্ছেদ করব।’
৭:৫ প্রভু তাঁকে যেমন আজ্ঞা দিলেন, নোয়া সেই অনুসারে সবকিছু করলেন।
৭:৬ জলপ্লাবনের সময়ে, যখন জলরাশি পৃথিবীকে ঢেকে দিল, তখন নোয়ার বয়স ছিল ছ’শো বছর।
৭:৭ প্লাবনের জলরাশি এড়াবার জন্য নোয়া, তাঁর ছেলেরা, তাঁর বধূ ও তাঁর ছেলেদের বধূরা জাহাজে প্রবেশ করলেন।
৭:৮ শুচি অশুচি পশু, পাখি ও মাটির বুকে চরে যত সরিসৃপ,
৭:৯ এগুলি মদ্দা ও মাদী মিলে জোড়া জোড়া করে জাহাজে নোয়ার সঙ্গে প্রবেশ করল—পরমেশ্বর নোয়াকে যেমন আজ্ঞা দিয়েছিলেন, সেই অনুসারে।
৭:১০ সাত দিন পরে পৃথিবীর উপরে প্লাবনের জলরাশি দেখা গেল।
৭:১১ নোয়ার বয়স যখন ছ’শো বছর, দু’মাস, সাত দিন, তখন, ঠিক সেই দিনেই, মহা অতল গহ্বরের সমস্ত উৎস-দ্বার ভেঙে গেল, এবং আকাশের সমস্ত জলকপাট খুলে গেল,
৭:১২ আর চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত ধরে পৃথিবীর উপরে মহাবৃষ্টি নামতে থাকল।
৭:১৩ ঠিক সেদিনই নোয়া, নোয়ার ছেলেরা শেম, হাম ও যাফেথ, এবং তাঁদের সঙ্গে নোয়ার বধূ ও তিন ছেলের বধূরা জাহাজে প্রবেশ করলেন;
৭:১৪ আর তাঁদের সঙ্গে প্রবেশ করল সব জাতের বন্যজন্তু, সব জাতের গবাদি পশু, মাটির বুকে চরে সব জাতের সরিসৃপ প্রাণী ও সব জাতের পাখি—যত প্রাণী ওড়ে, যত প্রাণীর ডানা আছে, সেই সব।
৭:১৫ যত প্রাণীর প্রাণবায়ু আছে, জোড়া জোড়া করে সবাই নোয়ার সঙ্গে জাহাজে প্রবেশ করল;
৭:১৬ আর যারা জাহাজে প্রবেশ করল, তারা ছিল মদ্দা ও মাদী মিলে সমস্ত প্রাণী—পরমেশ্বর তাঁকে যেমন আজ্ঞা দিয়েছিলেন, সেই অনুসারে। তখন প্রভু বাইরে থেকে তাঁর জন্য দরজাটা বন্ধ করে দিলেন।
৭:১৭ চল্লিশ দিন ধরেই পৃথিবীতে জলপ্লাবন হল: বাড়তে বাড়তে জল জাহাজটাকে ভাসিয়ে নিল, যে পর্যন্ত জাহাজটা ভূমি ছেড়ে উঠল।
৭:১৮ জলরাশি প্রবল হল, ভূমির উপরে খুবই বাড়তে লাগল, এবং জাহাজটা জলের উপর দিয়ে ভেসে বেড়াতে লাগল।
৭:১৯ জলরাশি ভূমির উপরে উত্তরোত্তর বাড়তে থাকল, যে পর্যন্ত আকাশমণ্ডলের নিচের যত পাহাড়পর্বত সেই জলরাশিতে নিমজ্জিত হল।
৭:২০ যত পাহাড়পর্বত জলে নিমজ্জিত হয়েছিল, তার উপরে জলরাশি আরও পনেরো হাত বেড়ে উঠল।
৭:২১ আর তখন পৃথিবীর যত প্রাণী—পাখি, গবাদি পশু ও বন্যজন্তু, মাটির বুকে চরে যত সরিসৃপ এবং সমস্ত মানুষ মরল।
৭:২২ যত প্রাণীর নাকে প্রাণবায়ুর সঞ্চার ছিল, স্থলভূমির সেই সকল প্রাণী মরল।
৭:২৩ তাতে পৃথিবী-নিবাসী সমস্ত প্রাণী—মানুষ, পশু, সরিসৃপ ও আকাশের পাখি সবই উচ্ছিন্ন হল: তারা পৃথিবী থেকে উচ্ছিন্ন হল, কেবল নোয়া রেহাই পেলেন, সেই সকলেও রেহাই পেল, যারা তাঁর সঙ্গে জাহাজে ছিল।
৭:২৪ জলরাশি একশ’ পঞ্চাশ দিন ধরেই পৃথিবীর উপরে উচ্চ থাকল।
৮:১ কিন্তু নোয়ার কথা, ও তাঁর সঙ্গে জাহাজে থাকা সেই গৃহপালিত প্রাণীদের কথা পরমেশ্বরের স্মরণে ছিল। পরমেশ্বর পৃথিবীর উপরে এমন বাতাস বহালেন যার ফলে জল নামতে লাগল।
৮:২ অতল গহ্বরের সমস্ত উৎস-দ্বার ও আকাশের সমস্ত জলকপাট বন্ধ করা হল এবং আকাশের মহাবৃষ্টি থামানো হল।
৮:৩ জল ক্রমে ক্রমে স্থলভূমির উপর থেকে সরতে লাগল। একশ’ পঞ্চাশ দিন পর তা নেমে গেল;
৮:৪ এবং সপ্তম মাসে, সপ্তদশ দিনে জাহাজটা আরারাটের পর্বতশ্রেণীর উপরে লেগে রইল।
৮:৫ দশম মাস পর্যন্ত জল ক্রমে ক্রমে সরে যেতে যেতে কমে গেল। সেই দশম মাসের প্রথম দিনে পর্বতমালার চূড়া দেখা গেল।
৮:৬ চল্লিশ দিন কেটে যাওয়ার পর নোয়া জাহাজে নিজের তৈরী জানালা খুলে
৮:৭ একটা দাঁড়কাক ছেড়ে দিলেন; আর পৃথিবীর উপরে জল শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়কাকটা উড়ে উড়ে যাতায়াত করতে থাকল।
৮:৮ স্থলের উপরে জল কমেছে কিনা, তা জানবার জন্য তিনি একটা কপোত ছেড়ে দিলেন।
৮:৯ কিন্তু সমস্ত পৃথিবী জলে আবৃত থাকায় কপোতটা পা দেওয়ার মত স্থান পেল না, তাই জাহাজে তাঁর কাছে ফিরে এল। তিনি হাত বাড়িয়ে কপোতটাকে ধরে নিজের কাছে জাহাজের ভিতরে ঢুকিয়ে নিলেন।
৮:১০ আরও সাত দিন অপেক্ষা করার পর তিনি জাহাজ থেকে সেই কপোতটাকে আবার ছেড়ে দিলেন,
৮:১১ কপোতটা সন্ধ্যাবেলায় তাঁর কাছে ফিরে এল; আর দেখ, তার ঠোঁটে জলপাইগাছের একটা কচি পাতা রয়েছে; তখন নোয়া বুঝলেন, স্থলের উপর থেকে জল সরে গেছে।
৮:১২ আরও সাত দিন অপেক্ষা করার পর তিনি কপোতটাকে ছেড়ে দিলেন; এবার তা তাঁর কাছে আর ফিরে এল না।
৮:১৩ নোয়ার বয়স তখন ছ’শো এক বছর; সেই বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিনে পৃথিবীর উপরে জল শুকোতে লাগল; নোয়া জাহাজের ছাদ খুলে বাইরে তাকালেন, আর দেখ, স্থলভূমি সম্পূর্ণরূপে শুকনো।
৮:১৪ দ্বিতীয় মাসের সপ্তবিংশ দিনে স্থলভূমি শুকনো ছিল।
৮:১৫ তখন পরমেশ্বর নোয়াকে বললেন,
৮:১৬ ‘তুমি তোমার বধূ, ছেলেদের ও ছেলেদের বধূদের সঙ্গে নিয়ে জাহাজ থেকে বেরিয়ে যাও।
৮:১৭ যত পশু, পাখি, ও মাটির বুকে চরে যত সরিসৃপ ইত্যাদি সমস্ত জীবজন্তু তোমার সঙ্গে রয়েছে, তাদের সকলকে তোমার সঙ্গে বাইরে নিয়ে যাও, তারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক, যেন পৃথিবীতে ফলবান হয় ও বংশবৃদ্ধি করে।’
৮:১৮ নোয়া নিজের ছেলেদের এবং নিজের বধূ ও ছেলেদের বধূদের সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।
৮:১৯ আর নিজ নিজ জাত অনুসারে প্রত্যেক পশু, সরিসৃপ ও পাখি, স্থলভূমির সমস্ত প্রাণী জাহাজ ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
৮:২০ তখন নোয়া প্রভুর উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি গাঁথলেন, এবং সব ধরনের শুচি পশুর ও সব ধরনের শুচি পাখির মধ্য থেকে কয়েকটা নিয়ে বেদির উপরে আহুতি দিলেন।
৮:২১ প্রভু সেই সবকিছুর সৌরভের ঘ্রাণ নিলেন; তখন প্রভু মনে মনে বললেন, ‘আমি মানুষের কারণে পৃথিবীকে আর কখনও অভিশাপ দেব না, কারণ ছেলেবেলা থেকেই মানুষের মন অধর্মে প্রবণ; আমি এবার যেমন করলাম, সকল প্রাণীকে তেমন আঘাতে আর কখনও আঘাত করব না।
৮:২২ পৃথিবী যতদিন থাকবে,
ততদিন বীজ বোনা ও ফসল কাটা,
শীত ও উত্তাপ,
গ্রীষ্মকাল ও হেমন্তকাল,
দিন ও রাত্রি,
এই সবের আর কখনও নিবৃত্তি হবে না।’
৯:১ পরমেশ্বর নোয়াকে ও তাঁর ছেলেদের এই বলে আশীর্বাদ করলেন, ‘ফলবান হও, বংশবৃদ্ধি কর, পৃথিবী ভরিয়ে তোল।
৯:২ পৃথিবীর সকল জন্তু, আকাশের সকল পাখি, স্থলের সমস্ত প্রাণী ও সমুদ্রের সমস্ত মাছ তোমাদের সামনে ভীত ও সন্ত্রাসিত হোক; এসব কিছু তোমাদের হাতে সমর্পিত!
৯:৩ যত প্রাণী চরে বেড়ায়, তা তোমাদের জন্য হবে খাদ্য; সবুজ উদ্ভিদের মত সমস্ত কিছুও আমি তোমাদের দিচ্ছি।
৯:৪ কিন্তু তোমরা প্রাণের সঙ্গে মাংস, অর্থাৎ রক্তসমেত মাংস খাবে না।
৯:৫ এমনকি তোমাদের কাছ থেকে আমি তোমাদের রক্তের, অর্থাৎ তোমাদের প্রাণের হিসাব আদায় করব; প্রতিটি পশুর কাছ থেকেও তারই হিসাব আদায় করব; মানুষের কাছ থেকেও মানুষের প্রাণের হিসাব, তার ভাই-মানুষেরই প্রাণের হিসাব আদায় করব।
৯:৬ যে কেউ মানুষের রক্ত ঝরাবে,
মানুষ দ্বারাই তার রক্ত ঝরানো হবে;
কেননা পরমেশ্বরের প্রতিমূর্তিতেই তিনি মানুষকে নির্মাণ করেছেন।
৯:৭ তোমরা ফলবান হও, বংশবৃদ্ধি কর,
পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়,
পৃথিবী বশীভূত কর।’
৯:৮ পরমেশ্বর নোয়াকে ও তাঁর পাশে তাঁর যে ছেলেরা ছিলেন, তাঁদের সকলকে বললেন,
৯:৯ ‘আমার পক্ষ থেকে, দেখ, তোমাদের ও তোমাদের ভাবী বংশের সঙ্গে,
৯:১০ তোমাদের সঙ্গে যত প্রাণী রয়েছে—যত পাখি, গবাদি পশু ও বন্যজন্তু তোমাদের সঙ্গে রয়েছে, পৃথিবীর যত প্রাণী জাহাজ থেকে বের হয়েছে—তাদের সকলের সঙ্গে আমি আমার সন্ধি স্থাপন করছি।
৯:১১ তোমাদের সঙ্গে আমার সন্ধি আমি স্থিতমূল রাখব: জলপ্লাবন দ্বারা সমস্ত প্রাণীকে আর কখনও উচ্ছেদ করা হবে না, পৃথিবীর বিনাশের জন্য জলপ্লাবন আর কখনও দেখা দেবে না।’
৯:১২ পরমেশ্বর আরও বললেন, ‘এই হবে সেই সন্ধির চিহ্ন, যে সন্ধি আমি নিজের মধ্যে এবং তোমাদের ও তোমাদের সঙ্গী সমস্ত প্রাণীর মধ্যে সকল ভাবীযুগের জন্য স্থাপন করছি:
৯:১৩ আমি মেঘের মধ্যে আমার নিজের ধনু স্থাপন করছি, সেটিই হবে আমার মধ্যে ও পৃথিবীর মধ্যে আমার সন্ধির চিহ্ন।
৯:১৪ যখন আমি পৃথিবীর ঊর্ধ্বে মেঘ জমিয়ে রাখব, ও মেঘের মধ্যে সেই ধনু দেখা দেবে,
৯:১৫ তখন আমার মধ্যে এবং তোমাদের ও মর্ত-প্রাণীকুলের মধ্যে আমার যে সন্ধি আছে, তা আমি স্মরণ করব, এবং জলরাশি সকল প্রাণীর বিনাশের জন্য আর কখনও জলপ্লাবনের কারণ হবে না।
৯:১৬ ধনু মেঘের মধ্যে থাকবে আর আমি তার দিকে চেয়ে দেখব, তখন যত মর্ত-প্রাণী পৃথিবীতে আছে, তাদের মধ্যে ও পরমেশ্বরের মধ্যে চিরস্থায়ী যে সন্ধি, তা আমি স্মরণ করব।’
৯:১৭ পরমেশ্বর নোয়াকে বললেন, ‘এই হবে সেই সন্ধির চিহ্ন, যে সন্ধি আমি আমার মধ্যে ও পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর মধ্যে স্থাপন করেছি।’
৯:১৮ নোয়ার যে ছেলেরা জাহাজ থেকে বেরিয়ে গেছিলেন, তাঁরা ছিলেন শেম, হাম ও যাফেথ; সেই হাম হলেন কানানের পিতা।
৯:১৯ এই তিনজন হলেন নোয়ার ছেলে; এঁদেরই বংশ সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।
৯:২০ সেই নোয়াই হলেন প্রথম কৃষক, বস্তুত তিনি একটা আঙুরখেত করতে শুরু করলেন।
৯:২১ আঙুররস পান করে তিনি মাতাল হলেন, এবং বস্ত্রহীন অবস্থায় তাঁবুর মধ্যে শুয়ে পড়লেন।
৯:২২ তখন কানানের পিতা হাম নিজের পিতার উলঙ্গতা দেখে আপন দুই ভাইকে কথাটা বললেন; তাঁরা বাইরে ছিলেন।
৯:২৩ শেম ও যাফেথ একটা কাপড় তুলে নিয়ে নিজেদের কাঁধে দিলেন, ও পিছু হেঁটে হেঁটে পিতার উলঙ্গতা ঢেকে দিলেন; তাঁদের মুখ পিছন দিকে ফেরানো থাকায় তাঁরা পিতার উলঙ্গতা দেখলেন না।
৯:২৪ যখন নোয়া আঙুররসজনিত ঘুম থেকে জাগলেন, তখন নিজের প্রতি কনিষ্ঠ পুত্রের ব্যবহার জানতে পারলেন;
৯:২৫ তিনি বললেন,
‘কানান অভিশপ্ত হোক,
সে নিজের ভাইদের দাসানুদাস হবে।’
৯:২৬ তিনি আরও বললেন,
‘ধন্য প্রভু, শেমের পরমেশ্বর!
কানান তার দাস হোক!
৯:২৭ পরমেশ্বর যাফেথকে বিস্তৃত করুন;
শেমের তাঁবুতে বাস করুন,
আর কানান তার দাস হোক!’
৯:২৮ জলপ্লাবনের পরে নোয়া আরও তিনশ’ পঞ্চাশ বছর জীবনযাপন করলেন।
৯:২৯ সবসমেত নোয়ার বয়স হল ন’শো পঞ্চাশ বছর; পরে তাঁর মৃত্যু হল।
১০:১ নোয়ার সন্তান শেম, হাম ও যাফেথের বংশতালিকা এ: জলপ্লাবনের পরে তাঁদের পুত্রসন্তানদের জন্ম হল।
১০:২ যাফেথের সন্তানেরা: গোমের, মাগোগ, মাদায়, যাবান, তুবাল, মেশেক ও তিরাস।
১০:৩ গোমেরের সন্তানেরা: আস্কেনাজ, রিফাৎ ও তোগার্মা।
১০:৪ যাবানের সন্তানেরা: এলিসা, তার্সিস, কিত্তিমীয়েরা ও রোদানীমেরা।
১০:৫ এদের মধ্য থেকে জাতিগুলির দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীরা নিজ নিজ দেশে নিজ নিজ ভাষা অনুসারে নিজ নিজ জাতির নানা গোত্রে ছড়িয়ে পড়ল।
১০:৬ হামের সন্তানেরা: ইথিওপিয়া, মিশর, পুট ও কানান। ইথিওপিয়ার সন্তানেরা: সেবা, হাবিলা, সাব্তা, রায়ামা ও সাব্তেকা।
১০:৭ রায়ামার সন্তানেরা: শেবা ও দেদান।
১০:৮ ইথিওপিয়া নিম্রোদের পিতা; এই নিম্রোদই পৃথিবীতে প্রথম বীরযোদ্ধা হলেন।
১০:৯ তিনি প্রভুর সামনে পরাক্রান্ত শিকারী হলেন, এজন্য লোকে বলে: প্রভুর সামনে পরাক্রান্ত শিকারী সেই নিম্রোদের মত।
১০:১০ তাঁর রাজ্যের প্রথম অংশ হল শিনারের দেশে বাবেল, উরুখ, আক্কাদ, কাল্নে।
১০:১১ সেই দেশ ছেড়ে তিনি আসুরে গিয়ে নিনিভে, রেকোবোৎ-ইর, কালাহ্‌,
১০:১২ এবং নিনিভে ও কালাহ্‌র মাঝখানে অবস্থিত সেই রেশেন নির্মাণ করলেন, যা মহানগরী।
১০:১৩ মিশর সেই সকলের পিতা হলেন, যারা লুদ, আনাম, লেহাব, নাফ্তুহ্‌,
১০:১৪ পাথ্রোস, কাসলুহ্‌ এবং কাপ্তোরের অধিবাসী; এই কাপ্তোর থেকেই ফিলিস্তিনিদের উৎপত্তি হয়।
১০:১৫ কানানের জ্যেষ্ঠ পুত্র সিদোন; তারপর: হেৎ,
১০:১৬ যেবুসীয়, আমোরীয়, গির্গাশীয়,
১০:১৭ হিব্বীয়, আর্কীয়, সিনীয়,
১০:১৮ আর্বাদীয়, সেমারীয় ও হামাতীয়। পরবর্তীকালে কানানীয়দের গোত্রগুলো ছড়িয়ে পড়ল।
১০:১৯ কানানীয়দের চতুঃসীমানা ছিল সিদোন থেকে গেরারের দিকে গাজা পর্যন্ত, এবং সদোম, গমোরা, আদ্‌মা ও জেবোইমের দিকে লেসা পর্যন্ত।
১০:২০ নিজ নিজ গোত্র, ভাষা, দেশ ও জাতি অনুসারে এরাই ছিল হামের সন্তান।
১০:২১ এবেরের সকল সন্তানের যিনি আদিপুরুষ ও যাফেথের জ্যেষ্ঠ ভাই, সেই শেমও পুত্রসন্তানদের পিতা ছিলেন।
১০:২২ শেমের সন্তানেরা: এলাম, আসুর, আর্পাক্সাদ, লুদ ও আরাম।
১০:২৩ আরামের সন্তানেরা: উজ, হূল, গেথের ও মাশ।
১০:২৪ আর্পাক্সাদ শেলাহ্‌র পিতা হলেন, ও শেলাহ্‌ এবেরের পিতা হলেন।
১০:২৫ এবেরের ঘরে দু’টো সন্তানের জন্ম হয়, একজনের নাম পেলেগ, কেননা সেইকালে পৃথিবী বিভক্ত হল; এবং তাঁর ভাইয়ের নাম যক্তান।
১০:২৬ যক্তান হলেন আলমোদাদ, শেলেফ, হাৎসার্মাবেৎ, যেরাহ্‌,
১০:২৭ হাদোরাম, উজাল, দিক্লা,
১০:২৮ ওবাল, আবিমায়েল, শেবা,
১০:২৯ ওফির, হাবিলা ও যোবাবের পিতা। এরা সকলে যক্তানের সন্তান;
১০:৩০ তাদের বসতি ছিল মেসা থেকে পুবদিকের সেফার পর্বতমালা পর্যন্ত।
১০:৩১ নিজ নিজ গোত্র, ভাষা, দেশ ও জাতি অনুসারে এরা সকলে শেমের সন্তান।
১০:৩২ নিজ নিজ বংশ ও জাতি অনুসারে এরাই নোয়ার সন্তানদের গোত্র। জলপ্লাবনের পরে এদের মধ্য থেকেই নানা জাতি পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।
১১:১ সারা পৃথিবী জুড়ে একই ভাষা, একই শব্দ চলত।
১১:২ পুবদিকে এগিয়ে যেতে যেতে মানুষ শিনার দেশে এক সমতল জায়গা পেয়ে সেখানে বসতি করল।
১১:৩ তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, ‘এসো, আমরা ইট তৈরি করে আগুনে পোড়াই।’ এভাবে ইট হল তাদের পাথর, ও আলকাতরা হল তাদের গাঁথনির মসলা।
১১:৪ পরে তারা বলল, ‘এসো, আমরা নিজেদের জন্য একটা শহর নির্মাণ করি, একটা মিনারও তৈরি করি, যার চূড়া আকাশ স্পর্শ করে; নিজেদের জন্য সুনাম অর্জন করি, পাছে সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ি।’
১১:৫ কিন্তু আদমসন্তানেরা যে শহর ও মিনার নির্মাণ করছিল, তা দেখবার জন্য প্রভু নেমে এলেন।
১১:৬ প্রভু বললেন, ‘আচ্ছা, তারা এক জাতি, তারা এক ভাষার মানুষ; এটি হল শুধু তাদের কর্মের সূত্রপাতমাত্র! এখন তারা যা কিছু করবে বলে সঙ্কল্প করবে, তাদের পক্ষে তা অসাধ্য হবে না।
১১:৭ এসো, আমরা নিচে গিয়ে সেই জায়গায় তাদের ভাষা এলোমেলো করে দিই, যেন তারা একে অন্যের ভাষা আর বুঝতে না পারে।’
১১:৮ সেখান থেকে প্রভু সারা পৃথিবী জুড়েই তাদের ছড়িয়ে দিলেন, আর তারা সেই শহর-নির্মাণকাজ ছেড়ে দিল।
১১:৯ এজন্যই সেই শহরের নাম বাবেল রাখা হল, কেননা সেখানে প্রভু সারা পৃথিবীর ভাষা এলোমেলো করে দিয়েছিলেন, এবং সেখান থেকে প্রভু সারা পৃথিবী জুড়েই তাদের ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
১১:১০ শেমের বংশতালিকা এই: শেম একশ’ বছর বয়সে, জলপ্লাবনের দু’বছর পরে, আর্পাক্সাদের পিতা হলেন;
১১:১১ আর্পাক্সাদের পিতা হওয়ার পর শেম পাঁচশ’ বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
১১:১২ আর্পাক্সাদ পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে শেলাহ্‌র পিতা হলেন;
১১:১৩ শেলাহ্‌র পিতা হওয়ার পর আর্পাক্সাদ চারশ’ তিন বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
১১:১৪ শেলাহ্‌ ত্রিশ বছর বয়সে এবেরের পিতা হলেন;
১১:১৫ এবেরের পিতা হওয়ার পর শেলাহ্‌ চারশ’ তিন বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
১১:১৬ এবের চৌত্রিশ বছর বয়সে পেলেগের পিতা হলেন;
১১:১৭ পেলেগের পিতা হওয়ার পর এবের চারশ’ ত্রিশ বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
১১:১৮ পেলেগ ত্রিশ বছর বয়সে রেউয়ের পিতা হলেন;
১১:১৯ রেউয়ের পিতা হওয়ার পর পেলেগ দু’শো নয় বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
১১:২০ রেউ বত্রিশ বছর বয়সে সেরুগের পিতা হলেন;
১১:২১ সেরুগের পিতা হওয়ার পর রেউ দু’শো সাত বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
১১:২২ সেরুগ ত্রিশ বছর বয়সে নাহোরের পিতা হলেন;
১১:২৩ নাহোরের পিতা হওয়ার পর সেরুগ দু’শো বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
১১:২৪ নাহোর ঊনত্রিশ বছর বয়সে তেরাহ্‌র পিতা হলেন;
১১:২৫ তেরাহ্‌র পিতা হওয়ার পর নাহোর একশ’ উনিশ বছর বেঁচে থেকে আরও পুত্রকন্যাদের পিতা হলেন।
১১:২৬ তেরাহ্‌ সত্তর বছর বয়সে আব্রাম, নাহোর ও হারানের পিতা হলেন।
১১:২৭ তেরাহ্‌র বংশতালিকা এই: তেরাহ্‌ আব্রাম, নাহোর ও হারানের পিতা হলেন; হারান লোটের পিতা হলেন।
১১:২৮ পরে হারান নিজের পিতা তেরাহ্‌র সামনে নিজের জন্মস্থান কাল্দীয়দের উরে প্রাণত্যাগ করলেন।
১১:২৯ আব্রাম ও নাহোর দু’জনেই বিবাহ করলেন; আব্রামের স্ত্রীর নাম সারাই, ও নাহোরের স্ত্রীর নাম মিল্কা—এই স্ত্রী হারানের কন্যা; হারান মিল্কার ও ইষ্কার পিতা।
১১:৩০ সারাই বন্ধ্যা ছিলেন, তিনি ছিলেন নিঃসন্তান।
১১:৩১ তেরাহ্‌ নিজের ছেলে আব্রামকে ও হারানের ছেলে, অর্থাৎ নিজের ছেলের ছেলে লোটকে এবং আব্রামের বধূ সারাই নামে নিজের ছেলের বধূকে সঙ্গে নিলেন, আর তাঁরাও তাঁদের সঙ্গে কানান দেশে যাবার উদ্দেশ্যে কাল্দীয়দের উর্‌ থেকে বেরিয়ে গেলেন; তাঁরা হারান পর্যন্ত গিয়ে সেখানে বসতি করলেন।
১১:৩২ তেরাহ্‌র বয়স হল দু’শো পাঁচ বছর; পরে সেই হারানে তাঁর মৃত্যু হল।
১২:১ প্রভু আব্রামকে বললেন,
‘তোমার দেশ, জ্ঞাতিকুটুম্ব ও পিতৃগৃহ ছেড়ে চলে যাও,
সেই দেশের দিকেই যাও, যা আমি তোমাকে দেখাব।
১২:২ আমি তোমাকে এক মহাজাতি করে তুলব,
তোমাকে আশীর্বাদ করব ও তোমার নাম মহৎ করব;
তুমি নিজেই হবে আশীর্বাদ স্বরূপ!
১২:৩ যারা তোমাকে আশীর্বাদ করে, আমি তাদের আশীর্বাদ করব;
যে কেউ তোমাকে অভিশাপ দেয়, আমি তাকে অভিশাপ দেব;
এবং পৃথিবীর সকল গোত্র
তোমাতে আশিসপ্রাপ্ত হবে।’
১২:৪ তখন আব্রাম প্রভুর সেই বাণী অনুসারে রওনা হলেন, এবং লোটও তাঁর সঙ্গে গেলেন। আব্রাম যখন হারান ছেড়ে চলে যান, তখন তাঁর বয়স পঁচাত্তর বছর।
১২:৫ আব্রাম নিজের স্ত্রী সারাইকে ও ভাইপো লোটকে এবং হারানে সঞ্চয় করা তাঁদের সমস্ত ধনসম্পদ ও পাওয়া সমস্ত প্রাণীকে নিয়ে কানান দেশের দিকে রওনা হলেন, আর কানান দেশে গিয়ে পৌঁছলেন।
১২:৬ আব্রাম সেই দেশের মধ্য দিয়ে সিখেম স্থান পর্যন্ত, মোরের ওক্‌ গাছের কাছে গেলেন। সেসময়ে সেই দেশে কানানীয়েরাই ছিল।
১২:৭ আব্রামকে দেখা দিয়ে প্রভু তাঁকে বললেন, ‘আমি এই দেশ তোমার বংশকে দেব।’ তখন আব্রাম সেই জায়গায় প্রভুর উদ্দেশে একটা যজ্ঞবেদি গাঁথলেন, যিনি তাঁকে দেখা দিয়েছিলেন।
১২:৮ সেখান থেকে তিনি বেথেলের পুব দিকের পার্বত্য অঞ্চলে গিয়ে তাঁবু খাটালেন—এর পশ্চিমে ছিল বেথেল, ও পুবে ছিল আই। তিনি সেখানে প্রভুর উদ্দেশে একটা যজ্ঞবেদি গাঁথলেন, ও প্রভুর নাম করলেন।
১২:৯ পরে আব্রাম নানা জায়গা হয়ে নেগেবের দিকে এগিয়ে চললেন।
১২:১০ দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, আর আব্রাম কিছুকালের মত মিশরে থাকবার জন্য সেখানে গেলেন, কেননা দেশে দুর্ভিক্ষ ভারীই ছিল।
১২:১১ কিন্তু মিশরে প্রবেশ করছেন, এমন সময় আব্রাম নিজের স্ত্রী সারাইকে বললেন, ‘দেখ, আমি জানি, দেখতে তুমি সুন্দরী এক নারী;
১২:১২ মিশরীয়েরা যখন তোমাকে দেখবে, তখন বলবে: “এ তার স্ত্রী,” তাই আমাকে হত্যা করবে আর তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে।
১২:১৩ আমার অনুরোধ, তুমি বরং একথা বল যে, তুমি আমার বোন, যেন তোমার দোহাই তারা আমার প্রতি কুশল ব্যবহার করে, ও তোমার খাতিরে আমার প্রাণ বাঁচে।’
১২:১৪ সত্যি, আব্রাম মিশরে প্রবেশ করলে মিশরীয়েরা দেখল, নারীটি সত্যি খুবই সুন্দরী।
১২:১৫ তাঁকে লক্ষ করে ফারাওর উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা ফারাওর সামনে তাঁর প্রশংসা করলেন, আর নারীটিকে ফারাওর বাড়িতে আনা হল।
১২:১৬ আর তাঁর খাতিরে তিনি আব্রামের প্রতি কুশল ব্যবহার করলেন, ফলে আব্রাম পেলেন মেষ-ছাগের পাল, গবাদি পশু, গাধা, দাস-দাসী, গাধী ও উট।
১২:১৭ কিন্তু আব্রামের স্ত্রী সারাইয়ের ব্যাপারে প্রভু ফারাও ও তাঁর ঘরের সকলের উপর ভারী ভারী আঘাত হানলেন;
১২:১৮ তাই ফারাও আব্রামকে ডাকিয়ে বললেন, ‘আপনি আমার সঙ্গে এ কেমন ব্যবহার করলেন? আমাকে কেন বলেননি, উনি আপনার স্ত্রী?
১২:১৯ কেনই বা বললেন, “উনি আমার বোন,” যার ফলে আমি ওঁকে আমার বধূ হবার জন্য নিলাম? এই যে আপনার স্ত্রী; তাঁকে নিয়ে চলে যান।’
১২:২০ তখন ফারাও তাঁর বিষয়ে নানা লোককে আজ্ঞা দিলেন, আর তারা তাঁর সম্পত্তি ও তাঁর স্ত্রী সহ তাঁকে বিদায় দিল।
১৩:১ মিশর থেকে আব্রাম ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে নেগেবে ফিরে গেলেন; তাঁর সঙ্গে লোটও ছিলেন।
১৩:২ আব্রাম খুবই ধনী ছিলেন: তাঁর যথেষ্ট গবাদি পশু ও সোনা-রুপো ছিল।
১৩:৩ নানা জায়গা হয়ে তিনি নেগেব থেকে বেথেলের দিকে এগিয়ে চলতে চলতে, বেথেল ও আইয়ের মাঝখানে যেখানে আগে তাঁর তাঁবু ফেলানো ছিল,
১৩:৪ সেই স্থানেই, তাঁর আগেকার গাঁথা যজ্ঞবেদির কাছে গিয়ে পৌঁছলেন; সেখানে আব্রাম প্রভুর নাম করলেন।
১৩:৫ কিন্তু সেই লোটও, যিনি আব্রামের সঙ্গে যাত্রা করছিলেন, তাঁরও অনেক অনেক মেষ-ছাগ, গবাদি পশু ও তাঁবু ছিল,
১৩:৬ আর সেই অঞ্চলে পাশাপাশি হয়ে বসতি করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না, কেননা তাঁদের প্রচুর সম্পত্তি থাকায় তাঁরা একসঙ্গে বাস করতে পারছিলেন না।
১৩:৭ একারণে আব্রামের রাখালদের ও লোটের রাখালদের মধ্যে ঝগড়া বেধে গেল। (সেসময়ে সেই দেশে কানানীয়েরা ও পেরিজীয়েরা বসবাস করছিল।)
১৩:৮ আব্রাম লোটকে বললেন, ‘আমার অনুরোধ, তোমার ও আমার মধ্যে, ও তোমার রাখালদের ও আমার রাখালদের মধ্যে যেন কোন ঝগড়া না হয়, আমরা তো জ্ঞাতি!
১৩:৯ তোমার সামনে কি সারা দেশ পড়ে আছে না? তাই আমা থেকে বিপরীত জায়গায়ই যাও: তুমি বাঁ দিকে গেলে আমি ডান দিকে যাব, তুমি ডান দিকে গেলে আমি বাঁ দিকে যাব।’
১৩:১০ তখন লোট চোখ তুলে দেখলেন, যর্দনের গোটা সমভূমি-অঞ্চলটা সবই জলসিক্ত, (প্রভু তখনও সদোম ও গমোরা ধ্বংস করেননি); তা ছিল প্রভুর উদ্যানের মত, মিশর দেশের মত; তা জোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
১৩:১১ তাই লোট নিজের জন্য যর্দনের গোটা অঞ্চলটা বেছে নিয়ে পুবদিকে রওনা হলেন; এইভাবে তাঁরা আলাদা হলেন।
১৩:১২ আব্রাম কানান দেশে বসতি করলেন, এবং লোট সমভূমি-অঞ্চলের শহরগুলিতে বসতি করে সদোমের কাছাকাছি পর্যন্ত তাঁবু খাটাতে লাগলেন।
১৩:১৩ সদোমের লোকেরা কিন্তু খারাপ ছিল, প্রভুর বিরুদ্ধে বড়ই পাপী ছিল।
১৩:১৪ আব্রামের কাছ থেকে লোট আলাদা হওয়ার পর প্রভু আব্রামকে বললেন, ‘চোখ তুলে এই যে স্থানে তুমি আছ, এই স্থান থেকে উত্তর দক্ষিণ ও পুব পশ্চিমের দিকে চেয়ে দেখ,
১৩:১৫ কেননা এই যে সমস্ত অঞ্চল তুমি দেখতে পাচ্ছ, তা আমি তোমাকে ও চিরকাল ধরে তোমার বংশকে দেব।
১৩:১৬ আমি তোমার বংশকে পৃথিবীর ধূলিকণার মত করে তুলব—কেউ যদি পৃথিবীর ধূলিকণা গুনতে পারে, সে তোমার বংশধরদেরও গুনতে পারবে!
১৩:১৭ ওঠ, দেশটির চারদিকেই ঘুরে এসো, কেননা আমি তা তোমাকেই দেব।’
১৩:১৮ তাই আব্রাম তাঁবুগুলি তুলে মাম্রের ওক্‌ কুঞ্জে গিয়ে বসতি করলেন, (এই মাম্রে হেব্রোনে অবস্থিত), এবং সেখানে প্রভুর উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি গাঁথলেন।
১৪:১ শিনারের আম্রাফেল রাজা, এল্লাসের আরিওক রাজা, এলামের কেদর্লায়োমের রাজা এবং গোয়িমের তিদাল রাজার আমলে
১৪:২ এই রাজারা সদোমের রাজা বেরা, গমোরার রাজা বির্শা, আদ্‌মার রাজা শিনাব, জেবোইমের রাজা শেমেবের ও বেলার অর্থাৎ জোয়ারের রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন।
১৪:৩ এঁরা সকলে শিদ্দিম নিম্নভূমিতে অর্থাৎ লবণ-সাগরে একত্র হলেন।
১৪:৪ এঁরা বারো বছর ধরে কেদর্লায়োমেরের জোয়ালের অধীনে থেকে এই ত্রয়োদশ বর্ষে বিদ্রোহ করেন।
১৪:৫ চতুর্দশ বর্ষে কেদর্লায়োমের ও তাঁর মিত্র রাজারা এসে আস্তারোৎ-কার্নাইমে রেফাইমদের, হামে জুজীমদের, শাবে-কিরিয়াথাইমে এমীমদের
১৪:৬ ও প্রান্তরের কাছাকাছি সেই এল্‌-পারান পর্যন্ত সেইর পার্বত্য অঞ্চলে সেখানকার হোরীয়দের পরাভূত করলেন।
১৪:৭ সেখান থেকে ফিরে এন্‌-মিস্পাতে অর্থাৎ কাদেশে গিয়ে আমালেকীয়দের সমস্ত দেশ ও হাৎসাসন-তামার নিবাসী আমোরীয়দের পরাভূত করলেন।
১৪:৮ তখন সদোমের রাজা, গমোরার রাজা, আদ্‌মার রাজা, জেবোইমের রাজা ও বেলার রাজা অর্থাৎ জোয়ারের রাজা বেরিয়ে পড়ে
১৪:৯ এলামের কেদর্লায়োমের রাজার, গোয়িমের তিদাল রাজার, শিনারের আম্রাফেল রাজার ও এল্লাসের আরিওক রাজার বিরুদ্ধে—পাঁচজন রাজা চারজন রাজার বিরুদ্ধে—যুদ্ধের জন্য শিদ্দিম নিম্নভূমিতে সৈন্যদের শ্রেণিতে শ্রেণিতে বিন্যস্ত করলেন।
১৪:১০ এই শিদ্দিম নিম্নভূমিতে আলকাতরার অনেক কুয়ো ছিল; আর সদোম ও গমোরার রাজারা পালাতে পালাতে তাঁদের সৈন্যরা কেউ কেউ সেই কুয়োগুলোর মধ্যে পড়ে গেল আর বাকি সবাই পর্বতে আশ্রয় নিল।
১৪:১১ শত্রুরা সদোম ও গমোরার সমস্ত সম্পত্তি ও খাদ্য দ্রব্য লুট করে চলে গেল।
১৪:১২ তারা আব্রামের ভাইপো লোটকে ও তাঁর সম্পত্তিও নিয়ে গেল; তিনি সেই সদোমেই বাস করছিলেন।
১৪:১৩ হিব্রু আব্রামকে একজন পলাতক খবর দিল; সেসময়ে তিনি এস্কোলের ভাই ও আনেরের ভাই সেই আমোরীয় মাম্রের ওক্‌ কুঞ্জে বাস করছিলেন, এবং তাঁরা আব্রামের মিত্র ছিলেন।
১৪:১৪ যখন আব্রাম শুনলেন, তাঁর ভাইপোকে বন্দি করা হয়েছে, তখন তিনি তাঁর গৃহজাত দাসদের মধ্য থেকে তিনশ’ আঠারজন রণনিপুণ লোক জড় করে দান পর্যন্ত তাঁদের পিছনে ধাওয়া করলেন।
১৪:১৫ রাত্রিকালে শত্রুদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন, এবং তিনি ও তাঁর সেই লোকেরা তাদের পরাভূত করে দামাস্কাসের উত্তরে সেই হোবা পর্যন্ত তাদের পিছনে ধাওয়া করে চললেন।
১৪:১৬ এভাবে তিনি সমস্ত সম্পত্তি, আর তাঁর ভাইপো লোট ও তাঁর সম্পত্তি এবং সকল স্ত্রীলোক ও লোকজনকে পুনরুদ্ধার করলেন।
১৪:১৭ আব্রাম কেদর্লায়োমের ও তাঁর সঙ্গী রাজাদের পরাজিত করে ফিরে আসার পর সদোমের রাজা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে শাবে উপত্যকায় (অর্থাৎ রাজার উপত্যকায়) গেলেন।
১৪:১৮ সেই সময়ে সালেম-রাজ মেল্কিসেদেক রুটি ও আঙুররস উৎসর্গ করলেন: তিনি ছিলেন পরাৎপর ঈশ্বরের যাজক।
১৪:১৯ তিনি এই বলে আব্রামকে আশীর্বাদ করলেন:
‘আব্রাম স্বর্গমর্তের জনক পরাৎপর ঈশ্বর দ্বারা আশিসধন্য হোন!
১৪:২০ আর ধন্য সেই পরাৎপর ঈশ্বর,
যিনি তোমার শত্রুদের তোমার হাতে তুলে দিয়েছেন!’
আর আব্রাম সমস্ত কিছুর দশমাংশ তাঁর হাতে তুলে দিলেন।
১৪:২১ সদোমের রাজা আব্রামকে বললেন, ‘সকল লোকজনকে আমাকে দিন, সম্পত্তি নিজের জন্য নিয়ে যান।’
১৪:২২ কিন্তু আব্রাম সদোমের রাজাকে উত্তরে বললেন, ‘স্বর্গমর্তের জনক পরাৎপর ঈশ্বর প্রভুর উদ্দেশে হাত তুলে আমি বলছি,
১৪:২৩ আমি কিছুই নেব না, এক গাছি সুতোও নয়, পাদুকার এক বন্ধনীও নয়, পাছে আপনি বলেন, আমি আব্রামকে ধনবান করেছি।
১৪:২৪ না, নিজের জন্য কিছুই নেব না, কেবল তাই নেব, যোদ্ধারা যা খেয়েছে; আর যাঁরা আমার সঙ্গে এসেছেন, সেই এস্কোল, আনের ও মাম্রে, তাঁরা নিজেরাই নিজেদের প্রাপ্য নিন।’
১৫:১ এই সমস্ত ঘটনার পর প্রভুর বাণী দর্শনযোগে আব্রামের কাছে এসে উপস্থিত হয়ে বলল: ‘আব্রাম, ভয় করো না, আমিই তোমার ঢাল; তোমার পুরস্কার অত্যন্ত মহান হবে!’
১৫:২ আব্রাম উত্তরে বললেন, ‘হে আমার প্রভু পরমেশ্বর, তুমি আমাকে কী দেবে? আমি তো নিঃসন্তান হয়ে চলে যাচ্ছি, আর দামাস্কাসের সেই এলিয়েজের আমার বাড়ির উত্তরাধিকারী।’
১৫:৩ আব্রাম বলে চললেন, ‘তুমি যখন আমাকে কোন বংশধর দিলে না, তখন আমার বাড়ির লোকজনের একজন হবে আমার উত্তরাধিকারী।’
১৫:৪ তখন দেখ, প্রভুর বাণী তাঁর কাছে এসে উপস্থিত হয়ে বলল: ‘ওই লোকটা তোমার উত্তরাধিকারী হবে না; না, তোমার ঔরসজাত একজনই হবে তোমার উত্তরাধিকারী।’
১৫:৫ তাঁকে বাইরে নিয়ে গিয়ে তিনি বললেন, ‘আকাশের দিকে তাকাও, আর যদি পার, তারানক্ষত্রের সংখ্যা গুনে নাও।’ তিনি বলে চললেন, ‘তোমার বংশ সেইমত হবে!’
১৫:৬ তিনি প্রভুতে বিশ্বাস রাখলেন, আর প্রভু তাঁর পক্ষে তা ধর্মময়তা বলে পরিগণিত করলেন।
১৫:৭ তখন তিনি তাঁকে বললেন, ‘আমিই সেই প্রভু, যিনি এই দেশ তোমার অধিকারে দেবার জন্য কাল্দীয়দের উর্‌ থেকে তোমাকে বের করে এনেছি।’
১৫:৮ তিনি বললেন, ‘হে আমার প্রভু পরমেশ্বর, আমি যে তার অধিকারী হব, তা কেমন করে জানব?’
১৫:৯ তিনি তাঁকে বললেন, ‘তুমি তিন বছরের একটা বকনা, তিন বছরের একটা মাদী ছাগল, তিন বছরের একটা ভেড়া এবং একটা ঘুঘু ও একটা পায়রা আমার কাছে নিয়ে এসো।’
১৫:১০ তিনি ওইসব তাঁর কাছে নিয়ে এলেন, এবং সেগুলিকে কেটে দু’টুকরো করে এক একটা ভাগ অন্য অন্য ভাগের সামনাসামনি রাখলেন, কিন্তু পাখিদের দু’টুকরো করলেন না।
১৫:১১ শিকারী পাখিরা সেই মৃত পশুদের উপরে নেমে পড়ছিল, কিন্তু আব্রাম তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছিলেন।
১৫:১২ সূর্য অস্তগমন করছে, এমন সময় আব্রামের উপর গভীর নিদ্রা নেমে এল, আর দেখ, তিনি অন্ধকারময় আতঙ্কে আক্রান্ত হলেন।
১৫:১৩ তখন প্রভু আব্রামকে বললেন, ‘জেনে রাখ, তোমার সন্তানেরা এমন দেশে প্রবাসী হয়ে থাকবে, যা তাদের আপন দেশ নয়; তারা দাসত্ব-অবস্থায় পড়বে ও চারশ’ বছর ধরে অত্যাচারিত হবে।
১৫:১৪ কিন্তু তারা যে জাতির দাস হবে, আমিই সেই জাতির বিচার করব; তারপর তারা যথেষ্ট সম্পত্তি নিয়ে বেরিয়ে যাবে।
১৫:১৫ আর তুমি, তুমি তো শান্তিতে তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে যাবে, ও শুভ বার্ধক্যের পরে তোমাকে সমাধি দেওয়া হবে।
১৫:১৬ তোমার বংশের চতুর্থ পুরুষ এই দেশে ফিরে আসবে, কেননা আমোরীয়দের শঠতা এখনও পূর্ণ হয়নি।’
১৫:১৭ সূর্য অস্তগমন করেছিল ও অন্ধকার নেমে এসেছিল এমন সময় দেখা গেল, ধূমায়মান এক চুল্লি ও জ্বলন্ত এক মশাল সেই সারি-বাঁধা টুকরোগুলির মাঝখান দিয়ে চলে গেল।
১৫:১৮ সেদিন প্রভু আব্রামের সঙ্গে এক সন্ধি স্থাপন করে বললেন,
‘আমি মিশরের নদী থেকে
[ইউফ্রেটিস] মহানদী পর্যন্ত
এই দেশ তোমার বংশকে দিচ্ছি—
১৫:১৯ সেই দেশ পর্যন্ত যেখানে কেনীয়েরা, কেনিজীয়েরা, কাদমোনীয়েরা,
১৫:২০ হিত্তীয়েরা, পেরিজীয়েরা, রেফাইমরা,
১৫:২১ আমোরীয়েরা, কানানীয়েরা, গির্গাশীয়েরা ও যেবুসীয়েরা বাস করে।’
১৬:১ আব্রামের স্ত্রী সারাই আব্রামের ঘরে কোন পুত্রসন্তানের জন্ম দিতে পারেননি, কিন্তু আগার নামে তাঁর একটি মিশরীয় ক্রীতদাসী থাকায়
১৬:২ সারাই আব্রামকে বললেন, ‘দেখ, প্রভু আমাকে নিঃসন্তান রেখেছেন, তাই তুমি আমার দাসীর কাছেই যাও; হয় তো তার দ্বারা আমি সন্তান পেতে পারব।’ আব্রাম সারাইয়ের কথায় সম্মত হলেন।
১৬:৩ এইভাবে কানান দেশে আব্রাম দশ বছর বসবাস করার পর আব্রামের স্ত্রী সারাই নিজের দাসী সেই মিশরীয় আগারকে এনে নিজের স্বামী আব্রামের হাতে স্ত্রীরূপে তুলে দিলেন।
১৬:৪ তিনি আগারের কাছে গেলেন আর সে গর্ভবতী হল। কিন্তু সে যখন দেখল, সে গর্ভবতী হয়েছে, তখন তার গৃহিণী তার চোখে তাচ্ছিল্যের বস্তু হলেন।
১৬:৫ তাতে সারাই আব্রামকে বললেন, ‘আমার প্রতি যে অন্যায় করা হচ্ছে, তা তোমার উপরেই পড়ুক; আমার নিজের দাসীকে আমিই তোমার আলিঙ্গনে দিয়েছিলাম, কিন্তু সে যখন দেখল, সে গর্ভবতী হয়েছে, সেসময় থেকে আমি তার চোখে তাচ্ছিল্যের বস্তু হলাম। প্রভুই আমার ও তোমার মধ্যে বিচার করুন!’
১৬:৬ আব্রাম সারাইকে বললেন, ‘আচ্ছা, তোমার দাসী তোমারই হাতে; তুমি যা ভাল মনে কর, তার প্রতি সেইমত ব্যবহার কর।’ তখন সারাই আগারের প্রতি এমনভাবেই দুর্ব্যবহার করতে লাগলেন যে, সে তাঁর কাছ থেকে পালিয়ে গেল।
১৬:৭ প্রভুর দূত মরুপ্রান্তরের মধ্যে এক জলের উৎসের ধারে—শুরের পথে যে উৎসটা আছে, তারই ধারে তাকে পেলেন;
১৬:৮ তাকে বললেন, ‘সারাইয়ের দাসী আগার, তুমি কোথা থেকে এলে? আবার কোথায় যাবে?’ সে উত্তরে বলল, ‘আমি আমার গৃহিণী সারাইয়ের কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছি।’
১৬:৯ প্রভুর দূত তাকে বললেন, ‘তুমি এবার তোমার গৃহিণীর কাছে ফিরে যাও, আর তার অধীন থাক।’
১৬:১০ প্রভুর দূত তাকে আরও বললেন, ‘আমি তোমার বংশের এমন বৃদ্ধি ঘটাব যে, তার বহুসংখ্যার জন্য তা গণনা করা সম্ভব হবে না।’
১৬:১১ প্রভুর দূত আরও বললেন,
‘দেখ, তুমি এখন গর্ভবতী,
তুমি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবে,
তার নাম ইসমায়েল রাখবে,
কেননা প্রভু তোমার লাঞ্ছনার চিৎকার শুনেছেন।
১৬:১২ সে হয়ে উঠবে যেন বন্য গাধার মত;
সে হাত বাড়াবে সকলের বিরুদ্ধে
ও সকলে হাত বাড়াবে তার বিরুদ্ধে;
সে তার সকল ভাইয়ের সামনাসামনিই বাস করবে।’
১৬:১৩ যিনি তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, আগার সেই প্রভুর এই নাম রাখল: তুমি এল্‌-রোই; কেননা সে বলছিল, ‘আমার এই দেখার পর আমি সত্যিই কি এখনও দেখতে পাচ্ছি?’
১৬:১৪ এজন্য সেই কুয়োর নাম লাহাই-রোই কুয়ো হল; কুয়োটা কাদেশ ও বেরেদের মাঝখানে রয়েছে।
১৬:১৫ পরে আগার আব্রামের ঘরে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করল; আর আব্রাম আগারের গর্ভজাত তাঁর সেই সন্তানের নাম ইসমায়েল রাখলেন।
১৬:১৬ আগার যখন আব্রামের ঘরে ইসমায়েলকে প্রসব করে, তখন আব্রামের বয়স ছিয়াশি বছর।
১৭:১ আব্রামের বয়স যখন নিরানব্বই বছর, তখন প্রভু তাঁকে দেখা দিয়ে বললেন, ‘আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তুমি আমার সাক্ষাতে চল, হও ত্রুটিহীন;
১৭:২ তবে আমার ও তোমার মধ্যে আমি এক সন্ধি স্থাপন করব, আমি অধিক পরিমাণেই তোমার বংশবৃদ্ধি করব।’
১৭:৩ আব্রাম ভূমিষ্ঠ হয়ে পড়লেন, আর পরমেশ্বর এইভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন,
১৭:৪ ‘দেখ, আমার পক্ষ থেকে, এই হল তোমার সঙ্গে আমার সন্ধি: তুমি বহুজাতির পিতা হবে।
১৭:৫ তোমার নাম আর আব্রাম হবে না, তোমার নাম বরং হবে আব্রাহাম, কেননা আমি তোমাকে বহুজাতির পিতা করলাম।
১৭:৬ আমি তোমাকে খুবই ফলবান করব: তোমাকে আমি বহুজাতিই করে তুলব, তোমা থেকে বহু রাজা উৎপন্ন হবে।
১৭:৭ আমার ও তোমার মধ্যে এবং পুরুষানুক্রমে তোমার ভাবী বংশধরদের মধ্যে আমার এই যে সন্ধি, তা আমি চিরন্তন সন্ধি রূপেই স্থাপন করব, যেন আমি তোমার ও তোমার ভাবী বংশধরদের পরমেশ্বর হই।
১৭:৮ তুমি এই যে দেশে প্রবাসী হয়ে আছ, সেই সমগ্র কানান দেশ আমি তোমাকে ও তোমার ভাবী বংশধরদের চিরস্থায়ী অধিকারার্থে দান করব: আমি হব তাদের আপন পরমেশ্বর।’
১৭:৯ পরমেশ্বর আব্রাহামকে আরও বললেন, ‘তোমার পক্ষ থেকে, তোমাকে আমার এই সন্ধি পালন করতে হবে; পুরুষানুক্রমেই তোমাকে ও তোমার ভাবী বংশধরদের তা পালন করতে হবে।
১৭:১০ এই হল আমার সেই সন্ধি যা তোমাদের পালন করতে হবে—আমার মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে এবং তোমার ভাবী বংশধরদের মধ্যে যে সন্ধি: তোমাদের প্রত্যেক পুরুষমানুষকে পরিচ্ছেদিত হতে হবে।
১৭:১১ তোমাদের লিঙ্গের অগ্রচর্ম ছেদন করতে হবে, এই হবে আমার ও তোমাদের মধ্যে সন্ধির চিহ্ন।
১৭:১২ পুরুষানুক্রমে তোমাদের প্রত্যেক পুত্রসন্তানের বয়স যখন আট দিন, তখন তাকে পরিচ্ছেদিত হতে হবে—তোমাদের ঘরে জন্ম নিয়েছে কিংবা তোমার বংশের নয় এমন বিদেশীর কাছ থেকে মূল্য দিয়ে কেনা হয়েছে প্রত্যেক দাসকেও পরিচ্ছেদিত হতে হবে।
১৭:১৩ তোমার ঘরে জন্ম নিয়েছে কিংবা মূল্য দিয়ে কেনা হয়েছে এমন মানুষের পরিচ্ছেদন অবশ্যকর্তব্য; তবেই আমার সন্ধি চিরন্তন সন্ধি রূপে তোমাদের মাংসে বিদ্যমান হবে।
১৭:১৪ কিন্তু যার লিঙ্গের অগ্রচর্ম ছেদিত হবে না, এমন অপরিচ্ছেদিত পুরুষমানুষকে নিজের লোকদের মধ্য থেকে উচ্ছেদ করা হোক: সে আমার সন্ধি ভঙ্গ করেছে!’
১৭:১৫ পরমেশ্বর আব্রাহামকে আরও বললেন, ‘তোমার স্ত্রী সারাইয়ের বিষয়: তাকে তুমি আর সারাই বলে ডাকবে না, তার নাম হবে সারা।
১৭:১৬ আমি তাকে আশীর্বাদ করব, এবং তার দ্বারা আমি একটি পুত্রসন্তানও তোমাকে দেব; আমি তাকে আশীর্বাদ করব: সে বহুজাতিই হয়ে উঠবে, সারা থেকে নানা দেশের রাজা উৎপন্ন হবে।’
১৭:১৭ তখন আব্রাহাম ভূমিষ্ঠ হয়ে পড়লেন; তিনি হাসলেন, মনে মনে বললেন, ‘যার বয়স একশ’ বছর, তেমন পুরুষের কি সন্তান হতে পারে? আর এই সারা নব্বই বছর বয়সে কি প্রসব করতে পারবে?’
১৭:১৮ আব্রাহাম পরমেশ্বরকে বললেন, ‘আহা, ইসমায়েলই যদি তোমার সামনে বেঁচে থাকে, তাই যথেষ্ট!’
১৭:১৯ কিন্তু পরমেশ্বর বললেন, ‘না, তোমার স্ত্রী সারা তোমার ঘরে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবেই, এবং তুমি তার নাম ইসায়াক রাখবে। আমি তার সঙ্গে আমার সন্ধি স্থাপন করব, এমন সন্ধি, যা চিরস্থায়ী সন্ধি, যেন আমি তার আপন পরমেশ্বর ও তার ভাবী বংশধরদের পরমেশ্বর হই।
১৭:২০ ইসমায়েলের বিষয়েও আমি তোমার প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছি; অতএব আমি তাকে আশীর্বাদ করছি; এবং তাকে ফলবান করব ও অধিক পরিমাণে তার বংশবৃদ্ধি করব; সে বারোজন গোষ্ঠীপতির পিতা হবে, আর তাকে আমি বড় এক জাতি করে তুলব।
১৭:২১ কিন্তু আমার সন্ধি আমি স্থাপন করব ইসায়াকের সঙ্গে, যাকে সারা তোমার জন্য আগামী বছরে ঠিক এসময়ে প্রসব করবে।’
১৭:২২ তাঁর সঙ্গে এসমস্ত কথা শেষ করার পর পরমেশ্বর আব্রাহামকে ছেড়ে আবার ঊর্ধ্বে চলে গেলেন।
১৭:২৩ তখন আব্রাহাম তাঁর ছেলে ইসমায়েলকে ও তাঁর ঘরে যারা জন্ম নিয়েছিল ও মূল্য দিয়ে যাদের কেনা হয়েছিল, সেই সকল লোককে—আব্রাহামের ঘরে যত পুরুষমানুষ ছিল, তাদের সকলকেই নিয়ে তিনি পরমেশ্বরের কথামত সেদিনেই তাদের লিঙ্গের অগ্রচর্ম ছেদন করলেন।
১৭:২৪ আব্রাহামের লিঙ্গের অগ্রচর্ম যখন ছেদন করা হয়, তখন তাঁর বয়স নিরানব্বই বছর।
১৭:২৫ তাঁর ছেলে ইসমায়েলের লিঙ্গের অগ্রচর্ম যখন ছেদন করা হয়, তখন তার বয়স তেরো বছর।
১৭:২৬ সেই একই দিনেই আব্রাহাম ও তাঁর ছেলে ইসমায়েল, দু’জনের পরিচ্ছেদন হল।
১৭:২৭ আর তাঁর ঘরে যারা জন্ম নিয়েছিল এবং বিদেশীদের কাছ থেকে যাদের মূল্য দিয়ে কেনা হয়েছিল, তাঁর ঘরের সকল পুরুষমানুষেরও তাঁর সঙ্গে পরিচ্ছেদন হল।
১৮:১ পরে প্রভু মাম্রের ওক্‌ কুঞ্জে তাঁকে দেখা দিলেন; তিনি দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে তাঁবুর প্রবেশদ্বারে বসে ছিলেন।
১৮:২ চোখ তুলে তিনি দেখতে পেলেন, কারা তিনজন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। দেখামাত্র তিনি স্বাগত জানাবার জন্য তাঁবুর প্রবেশদ্বার থেকে তাঁদের কাছে ছুটে এগিয়ে গিয়ে মাটিতে প্রণত হলেন,
১৮:৩ বললেন, ‘প্রভু আমার, যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হয়ে থাকি, আপনার এই দাসের কাছে কিছুক্ষণ না থেমে এগিয়ে যাবেন না।
১৮:৪ আমি এখন কিছুটা জল আনতে বলি, আপনারা পা ধুয়ে নিয়ে এই গাছের তলায় বিশ্রাম নিন;
১৮:৫ আমি কিছুটা খাবার নিয়ে আসি, আপনারা পথে এগিয়ে যাবার আগে আপনাদের প্রাণ জুড়িয়ে যান, এই কারণেই তো আপনারা আপনাদের এই দাসের এই পথ দিয়ে চলেছেন।’ তাঁরা বললেন, ‘আচ্ছা, যা বলেছ, তাই কর।’
১৮:৬ তাই আব্রাহাম তাড়াতাড়ি তাঁবুতে সারার কাছে গিয়ে বললেন, ‘শীঘ্রই তিন ধামা সেরা ময়দা মেখে পিঠা বানাও।’
১৮:৭ তাঁর গবাদি পশু যেখানে ছিল, সেখানে তিনি নিজেই ছুটে গিয়ে উত্তম নধর বাছুর বেছে এনে তা চাকরকে দিলেন, আর সে সঙ্গে সঙ্গে তা প্রস্তুত করতে লাগল।
১৮:৮ তিনি তখন দই, দুধ আর সেই রান্না করা বাছুরের মাংস এনে তাঁদের সামনে সাজিয়ে দিলেন। এভাবে তিনি তাঁদের কাছে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তাঁরা খাওয়া-দাওয়া করলেন।
১৮:৯ তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার স্ত্রী সারা কোথায়?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘ওই যে, সে ওখানে, তাঁবুর ভিতরেই, আছে।’
১৮:১০ তখন তাঁর অতিথি একজন বললেন, ‘এক বছর পরে এই সময়ে আমি তোমার কাছে আবার আসবই আসব; তখন তোমার স্ত্রী সারার একটি পুত্রসন্তান হবে।’ এর মধ্যে, তাঁবুর প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে, সারা শুনছিলেন; তিনি তো সেই ব্যক্তির পিছনেই ছিলেন।
১৮:১১ সেসময় আব্রাহাম ও সারা বৃদ্ধ ছিলেন; দু’জনেরই যথেষ্ট বয়স হয়েছিল; সারার মাসিকও তখন আর হত না।
১৮:১২ তাই সারা মনে মনে হেসে বললেন, ‘আমার এই জীর্ণ অবস্থায় আমার কি আর তেমন সুখ হবে? আমার প্রভুও তো বৃদ্ধ!’
১৮:১৩ প্রভু আব্রাহামকে বললেন, ‘সারা কেন হাসল? কেন বলল, “এই বৃদ্ধ বয়সে আমি কি সত্যি মা হব?”
১৮:১৪ প্রভুর পক্ষে কি অসাধ্য কিছু আছে? নির্ধারিত সময়ে এই একই দিনে আমি আবার আসব, আর তখন সারার একটি পুত্রসন্তান হবে।’
১৮:১৫ সারা ব্যাপারটা অস্বীকার করলেন, বললেন, ‘কৈ, আমি তো হাসিনি!’ তিনি তো ভয় পেয়েছিলেন; কিন্তু তবু তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি হেসেইছিলে বটে!’
১৮:১৬ সেই ব্যক্তিরা সেখান থেকে উঠে সদোমের দিকে রওনা হলেন; আব্রাহাম তাঁদের কিছুটা এগিয়ে দেবার জন্য তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে চললেন।
১৮:১৭ প্রভু বলছিলেন, ‘আমি যা করতে যাচ্ছি, তা কি আব্রাহামের কাছে গোপন রাখব?
১৮:১৮ আব্রাহামেরই তো মহান ও বলবান এক জাতি হওয়ার কথা, আব্রাহামেই তো পৃথিবীর সমস্ত জাতি আশিসপ্রাপ্ত হওয়ার কথা!
১৮:১৯ কেননা আমি তাকেই বেছে নিয়েছি সে যেন তার সন্তানদের ও ভাবী বংশধরদের ধর্মময়তা ও ন্যায় পালন ক’রে প্রভুর পথে চলতে আজ্ঞা করে, এর ফলে প্রভু আব্রাহামকে যে কথা দিয়েছেন, তা যেন সফল করেন।’
১৮:২০ তখন প্রভু বললেন, ‘সদোম ও গমোরার বিরুদ্ধে মানুষের চিৎকার অধিক তীব্র হয়ে উঠেছে, তাদের পাপও এত ভারী হয়ে উঠেছে যে,
১৮:২১ আমি নিজে নিচে গিয়ে দেখব, আমার কানে যে চিৎকার এল, সেই অনুসারে তারা সত্যিই এমন অধর্ম করেছে কিনা। হ্যাঁ, ব্যাপারটা আমি জানতে চাই!’
১৮:২২ সেই তিনজন সেখান থেকে রওনা হয়ে সদোমের দিকে গেলেন, কিন্তু আব্রাহাম তখনও প্রভুর সাক্ষাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
১৮:২৩ আব্রাহাম এগিয়ে এসে বললেন, ‘তুমি কি সত্যি দুর্জনের সঙ্গে ধার্মিককেও বিলুপ্ত করবে?
১৮:২৪ শহরটার মধ্যে হয় তো পঞ্চাশজন ধার্মিক মানুষ আছে; তবে তুমি কি সত্যিই জায়গাটা বিলুপ্ত করবে? ওখানকার ওই পঞ্চাশজন ধার্মিকের খাতিরে তুমি কি বরং জায়গাটাকে রেহাই দেবে না?
১৮:২৫ দুর্জনের সঙ্গে ধার্মিককেও বিনাশ করা, এমন কাজ করার চিন্তাটুকুও তোমাকে করতে নেই; ধার্মিককেও যে দুর্জনের সমান প্রতিফল পেতে হবে, তা দূরের কথা! সারা পৃথিবীর বিচারকর্তা কি ন্যায়বিচার করবেন না?’
১৮:২৬ প্রভু বললেন, ‘আমি যদি সদোমের মধ্যে পঞ্চাশজন ধার্মিককে পাই, তবে তাদের খাতিরে সেই সমস্ত জায়গাটাকে রেহাই দেব।’
১৮:২৭ আব্রাহাম বলে চললেন, ‘দেখ, ধুলো ও ছাইমাত্র যে আমি, আমি সাহস করে আমার প্রভুর সঙ্গে কথা বলব;
১৮:২৮ হয় তো সেখানে পঞ্চাশজন ধার্মিকের জায়গায় পাঁচজন কম হয়েছে; তাহলে এই পাঁচজন না থাকার ফলে তুমি কি গোটা শহর বিনাশ করবে?’ তিনি বললেন, ‘না, সেই জায়গায় পঁয়তাল্লিশজনকে পেলে আমি তা বিনাশ করব না।’
১৮:২৯ তিনি তাঁকে আবার বললেন, ‘হয় তো সেই জায়গায় চল্লিশজনকে পাওয়া যাবে।’ তিনি বললেন, ‘সেই চল্লিশজনের খাতিরে তা করব না।’
১৮:৩০ আবার তিনি বললেন, ‘আমার প্রভু যেন বিরক্ত না হন, আমি তো আরও বলি; হয় তো সেখানে ত্রিশজনকে পাওয়া যাবে।’ তিনি বললেন, ‘সেখানে ত্রিশজনকে পেলে আমি তা করব না।’
১৮:৩১ তিনি বললেন, ‘দেখ, আমি সাহস করে আমার প্রভুর কাছে পুনরায় কথা বলি, হয় তো সেখানে কুড়িজনকে পাওয়া যাবে।’ তিনি বললেন, ‘সেই কুড়িজনের খাতিরে আমি তা বিনাশ করব না।’
১৮:৩২ তিনি বললেন, ‘আমার প্রভু যেন ক্রুদ্ধ না হন, আমি কেবল আর একবার কথা বলি: হয় তো সেখানে দশজনকে পাওয়া যাবে।’ তিনি বললেন, ‘সেই দশজনের খাতিরে তা বিনাশ করব না।’
১৮:৩৩ আর তখন, আব্রাহামের সঙ্গে তাঁর এই সমস্ত কথা শেষ করে প্রভু চলে গেলেন, এবং আব্রাহাম নিজের ঘরে ফিরে এলেন।
১৯:১ সেই দু’জন স্বর্গদূত যখন সন্ধ্যাবেলায় সদোমে এসে পৌঁছলেন, সেসময়ে লোট সদোম-নগরদ্বারে বসে ছিলেন। তাঁদের দেখামাত্র তিনি উঠে তাঁদের স্বাগত জানাবার জন্য এগিয়ে গেলেন, ও ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করলেন;
১৯:২ বললেন, ‘প্রভুগণ আমার, আপনাদের অনুরোধ করি, আপনাদের এই দাসের গৃহে পদধূলি দিন; এইখানে রাত্রিযাপন করুন ও পা ধুয়ে নিন। পরে, প্রত্যূষে উঠে, পথে এগিয়ে যাবেন।’ তাঁরা বললেন, ‘না, আমরা রাস্তায় থেকে রাত্রিযাপন করব।’
১৯:৩ কিন্তু লোট এমন সাধাসাধি করলেন যে, তাঁরা তাঁর সঙ্গে গেলেন ও তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি তাঁদের জন্য একটা ভোজের আয়োজন করলেন, খামিরবিহীন রুটি পাক করালেন, আর তাঁরা ভোজে বসলেন।
১৯:৪ তাঁরা শুতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় শহরের পুরুষলোকেরা অর্থাৎ সদোমবাসীরা যুবা-বৃদ্ধ সকলেই এসে ভিড় করে তাঁর ঘরের চারদিকে জমতে লাগল;
১৯:৫ লোটকে ডেকে তারা তাঁকে বলল, ‘আজ রাতে যে দু’জন তোমার ঘরে এল, তারা কোথায়? তাদের বাইরে পাঠাও, আমাদের কাছেই আন, যেন তাদের সঙ্গে মিলন করতে পারি।’
১৯:৬ লোট ঘরের দরজার বাইরে তাদের কাছে গিয়ে নিজের পিছনে কবাট বন্ধ করে বললেন,
১৯:৭ ‘ভাইয়েরা, অনুরোধ করি, এমন কুব্যবহার করো না!
১৯:৮ দেখ, আমার দু’টো মেয়ে আছে কোন পুরুষের সঙ্গে যাদের এখনও মিলন হয়নি; আমি তোমাদের কাছে এদেরই এনে দিই; তাদের নিয়ে তোমরা যা খুশি কর, কিন্তু এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কিছুই করো না, কেননা তাঁরা আমার ঘরের ছায়ায়ই আশ্রয় নিয়েছেন।’
১৯:৯ কিন্তু তারা উত্তরে বলল, ‘সরে যাও!’ আরও বলল, ‘এ প্রবাসী হয়ে এখানে এল, আর এখন নাকি বিচারকর্তা হতে চায়! এবার তাদের চেয়ে তোমার প্রতি আরও খারাপ ব্যবহার করব।’ একথা বলে তারা লোটের গায়ে ভারী ধাক্কা দিয়ে কবাট ভাঙবার জন্য এগিয়ে গেল।
১৯:১০ তখন সেই দু’জন ভিতর থেকে হাত বাড়িয়ে লোটকে ঘরের মধ্যে নিজেদের কাছে টেনে নিয়ে কবাট বন্ধ করে দিলেন,
১৯:১১ এবং ঘরের দরজার কাছে যত লোক ছিল, ছোট-বড় সকলকেই এমন তীব্র আলোক-ঝলকে ধাঁধিয়ে দিলেন যে, তারা দরজাটা আর খুঁজে পেতে পারছিল না।
১৯:১২ তখন সেই ব্যক্তিরা লোটকে বললেন, ‘এখানে তোমার আর কে কে আছে? তোমার জামাই ও মেয়ে যতজন এই শহরে আছে, তাদের সকলকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যাও,
১৯:১৩ কেননা আমরা এই জায়গাটাকে উচ্ছেদ করতে যাচ্ছি: প্রভুর সামনে এদের বিরুদ্ধে যে চিৎকার উঠেছে, তা এতই তীব্র হয়েছে যে, প্রভু আমাদের এই জায়গাটা উচ্ছেদ করতে পাঠিয়েছেন।’
১৯:১৪ তাই লোট বাইরে গিয়ে, যারা তাঁর মেয়েদের বিবাহ করার কথা, তাঁর সেই জামাইদের বললেন, ‘ওঠ, এই জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে যাও, কেননা প্রভু এই শহর উচ্ছেদ করতে যাচ্ছেন।’ কিন্তু তাঁর জামাইদের মনে হচ্ছিল, তিনি উপহাস করছেন।
১৯:১৫ ভোরের আলো ফুটতেই সেই স্বর্গদূতেরা লোটকে তাড়া দিয়ে বলতে লাগলেন, ‘ওঠ, তোমার স্ত্রীকে আর এই যে মেয়ে দু’টো এখানে আছে, এদের নিয়ে যাও, পাছে শহরের শাস্তিতে তোমাদেরও বিনাশ হয়।’
১৯:১৬ তিনি তখনও দেরি করছিলেন বিধায় সেই দু’জন তাঁর প্রতি প্রভুর মহাকরুণার দোহাই দিয়ে তাঁর হাত ও তাঁর স্ত্রীর ও মেয়ে দু’টোর হাত ধরে তাঁদের বাইরে এনে শহরের বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে গেলেন।
১৯:১৭ এভাবে তাঁদের বের করে নিয়ে তাঁদের একজন লোটকে বললেন, ‘প্রাণ বাঁচাও, পালিয়ে যাও। পিছনের দিকে তাকিয়ো না; এই সমভূমির কোন জায়গায়ও দাঁড়িয়ো না; পর্বতেই পালিয়ে যাও, পাছে তোমার বিনাশ হয়।’
১৯:১৮ কিন্তু লোট তাঁকে বললেন, ‘না না, প্রভু আমার!
১৯:১৯ দেখুন, আপনার দাস আপনার অনুগ্রহের পাত্র হয়েছে; আমার প্রাণ রক্ষা করায় আপনি আমার প্রতি আপনার মহাকৃপা দেখিয়েছেন; কিন্তু আমি পালিয়ে পর্বতে পৌঁছতে পারব না, কেননা তার আগেই সেই সর্বনাশ আমাকে ধরে ফেলবে, তখন আমিও মরব।
১৯:২০ ওই যে দেখুন, ওই শহর যথেষ্টই কাছাকাছি আমি যেন ওখানে পালাতে পারি, তাছাড়া শহরটা ছোট; আমাকে বরং সেখানেই যেতে দিন—আসলে জায়গাটা খুবই ছোট, তাই না?—তাহলে আমার প্রাণ বাঁচবে।’
১৯:২১ তিনি বললেন, ‘আচ্ছা, আমি এই ব্যাপারেও তোমার প্রতি অনুগ্রহ দেখাব: ওই যে শহরের কথা তুমি বলছ, তা উৎপাটন করব না।
১৯:২২ শীঘ্রই ওখানে পালাও, কেননা তুমি ওখানে না পৌঁছা পর্যন্ত আমি কিছুই করতে পারি না।’ এজন্যই সেই জায়গার নাম জোয়ার হল।
১৯:২৩ লোট যখন জোয়ারে এসে প্রবেশ করছেন, তখন দেশের উপরে সূর্য উঠছে;
১৯:২৪ এমন সময় প্রভু আকাশ থেকে, নিজেরই কাছ থেকে, সদোম ও গমোরার উপরে গন্ধক ও আগুন বর্ষণ করলেন।
১৯:২৫ তিনি ওই শহর দু’টোকে উৎপাটন করলেন, আর সেইসঙ্গে সমস্ত সমভূমি, শহরবাসী ও মাটির যত সবুজ বস্তু উৎপাটন করলেন।
১৯:২৬ তখন এমনটি ঘটল যে, লোটের স্ত্রী পিছনের দিকে তাকাল, আর তখনই সে একটা লবণস্তম্ভ হয়ে গেল।
১৯:২৭ পরদিন আব্রাহাম খুব সকালে উঠে, যেখানে প্রভুর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, সেখানে গেলেন;
১৯:২৮ সদোম ও গমোরার দিকে ও সেই সমভূমির সারা অঞ্চলের দিকে তাকিয়ে দেখলেন; দেখলেন, মাটি থেকে ধূম উঠছে, যেন কোন ভাটার ধূম!
১৯:২৯ তাই এমনটি হল যে, পরমেশ্বর যখন সেই সমভূমির সমস্ত শহর বিনাশ করলেন, তখন আব্রাহামকে স্মরণ করলেন, এবং লোট যে যে শহরে বাস করছিলেন, সেই শহরগুলির উৎপাটনের দিনে লোটকে তিনি সেই উৎপাটনের হাত থেকে উদ্ধার করলেন।
১৯:৩০ পরে লোট ও তাঁর মেয়ে দু’টো জোয়ার ছেড়ে পার্বত্য অঞ্চলে গিয়ে সেখানে বসতি করলেন, কেননা তিনি জোয়ারে বাস করতে ভয় করছিলেন; নিজের মেয়ে দু’টোর সঙ্গে তিনি একটা গুহাতে বাস করতে লাগলেন।
১৯:৩১ একদিন বড় মেয়েটি ছোটজনকে বলল, ‘বাবা বৃদ্ধ, এবং এই দেশে আর এমন কোন পুরুষলোক নেই যে জগৎসংসারের সাধারণ ব্যবহার অনুসারে আমাদের বিয়ে করবে;
১৯:৩২ এসো, আমরা বাবাকে আঙুররস পান করিয়ে তাঁর সঙ্গে শুই, এভাবে বাবার মধ্য দিয়ে বংশ রক্ষা করব।’
১৯:৩৩ সেই রাতে তারা তাদের পিতাকে আঙুররস পান করাল, পরে বড় মেয়েটি পিতার সঙ্গে শুতে গেল; কিন্তু সে যে কখন তাঁর সঙ্গে শুতে এল ও কখন উঠে গেল, তা তিনি কিছুই টের পেলেন না।
১৯:৩৪ পরদিন বড়জন ছোটজনকে বলল, ‘গতরাতে আমিই বাবার সঙ্গে শুয়েছিলাম; এসো, আমরা আজ রাতেও বাবাকে আঙুররস পান করাই; পরে তুমিই তাঁর সঙ্গে শুতে যাও, এভাবে বাবার মধ্য দিয়ে বংশ রক্ষা করব।’
১৯:৩৫ তারা সেই রাতেও পিতাকে আঙুররস পান করাল; পরে ছোটজন তাঁর সঙ্গে শুতে গেল; কিন্তু সে যে কখন তাঁর সঙ্গে শুতে এল ও কখন উঠে গেল, তা তিনি কিছুই টের পেলেন না।
১৯:৩৬ এভাবে লোটের মেয়ে দু’টোই তাদের পিতার মধ্য দিয়ে গর্ভবতী হল।
১৯:৩৭ বড়জন একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে তার নাম মোয়াব রাখল: সে বর্তমানকালের মোয়াবীয়দের আদিপিতা।
১৯:৩৮ ছোটজনও একটা পুত্রসন্তান প্রসব করল, তার নাম বেন্‌-আম্মি রাখল: সে বর্তমানকালের আমোনীয়দের আদিপিতা।
২০:১ আব্রাহাম সেখান থেকে নেগেব অঞ্চলের দিকে রওনা হয়ে কাদেশ ও শুরের মধ্যবর্তী জায়গায় বসতি করলেন। কিছু দিনের মত গেরারে থাকাকালে
২০:২ আব্রাহাম নিজ স্ত্রী সারা সম্বন্ধে বলেছিলেন, ‘এ আমার বোন’, সেজন্য গেরারের রাজা আবিমেলেক লোক পাঠিয়ে সারাকে নিজের কাছে আনলেন।
২০:৩ কিন্তু রাতে পরমেশ্বর স্বপ্নে আবিমেলেকের কাছে এসে বললেন, ‘দেখ, যে নারীকে নিয়েছ, তার জন্য তোমার মৃত্যু অবধারিত, কেননা সে বিবাহিতা নারী।’
২০:৪ আবিমেলেক তখনও তাঁর কাছে যাননি, তাই তিনি বললেন, ‘প্রভু, নির্দোষী যে মানুষ, তাকেও কি আপনি বধ করবেন?
২০:৫ লোকটি কি নিজে আমাকে বলেনি, “এ আমার বোন?” এবং স্ত্রীলোকটি নিজেও কি বলেনি, “এ আমার ভাই?” আমি যা কিছু করেছি, তা সরল অন্তরে ও নির্দোষ হাতেই করেছি।’
২০:৬ পরমেশ্বর স্বপ্নে তাঁকে বললেন, ‘তুমি সরল অন্তরে একাজ করেছ, একথা আমিও জানি; এমনকি, আমার বিরুদ্ধে পাছে তুমি পাপ কর আমি তোমাকে বাধাও দিলাম; এজন্য তোমাকে তাকে স্পর্শ করতে দিলাম না।
২০:৭ এখন সেই লোকের স্ত্রীকে তার কাছে ফিরিয়ে দাও, কেননা সে নবী; তোমার জন্য সে-ই প্রার্থনা করুক, আর তুমি বাঁচবে; কিন্তু তাকে ফিরিয়ে না দিলে তবে জেনে রাখ, তোমার ও তোমার সকল লোকের নিশ্চিত মৃত্যু হবে।’
২০:৮ খুব সকালে উঠে আবিমেলেক তাঁর সকল দাস ডেকে এনে ওই সমস্ত ব্যাপার তাদের জানালেন; আর তারা ভীষণ ভয় পেল।
২০:৯ পরে আবিমেলেক আব্রাহামকে ডাকিয়ে বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে আপনি এ কেমন ব্যবহার করলেন? আমি আপনার কাছে কী দোষ করেছি যে, আপনি আমাকে ও আমার রাজ্যকে এমন মহাপাপের সম্মুখীন করলেন? আপনি আমার প্রতি অনুচিত কাজ করলেন।’
২০:১০ আবিমেলেক আব্রাহামকে আরও বললেন, ‘তেমন কাজ করার আপনার কী লক্ষ্য ছিল?’
২০:১১ আব্রাহাম উত্তরে বললেন, ‘আমি ভাবছিলাম, এই স্থানে অবশ্যই ঈশ্বরভীতি নেই, তাই এরা আমার স্ত্রীর লোভে আমাকে বধ করবে।
২০:১২ যাই হোক, সে সত্যিই আমার বোন, কেননা আমার মাতার কন্যা না হলেও সে কিন্তু আমার পিতার কন্যা, এবং পরে আমার স্ত্রী হল।
২০:১৩ যখন পরমেশ্বর আমাকে পিতৃগৃহ থেকে দূরে যাত্রা করিয়েছিলেন, তখন আমি তাকে বলেছিলাম, আমার প্রতি তুমি এই সহৃদয়তা দেখাও: আমরা যে যে স্থানে যাব, সেই সকল স্থানে তুমি আমার বিষয়ে বলবে, এ আমার ভাই।’
২০:১৪ আবিমেলেক মেষ ও পশুপাল এবং দাস-দাসী আনিয়ে আব্রাহামকে দান করলেন এবং তাঁর স্ত্রী সারাকেও ফিরিয়ে দিলেন।
২০:১৫ তাছাড়া আবিমেলেক বললেন, ‘এই যে, আমার দেশ আপনার সামনে: আপনার যেখানে ইচ্ছা, সেইখানে গিয়ে বসতি করুন।’
২০:১৬ সারাকে তিনি বললেন, ‘দেখুন, আমি আপনার ভাইকে এক হাজার রুপোর শেকেল দিলাম; দেখুন, আপনার সঙ্গীদের সাক্ষাতে তা আপনার অপমানের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ; সবদিক দিয়ে আপনার বিচারের পুরো নিষ্পত্তি হল।’
২০:১৭ আব্রাহাম তাঁর হয়ে পরমেশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন, এবং পরমেশ্বর আবিমেলেককে, তাঁর স্ত্রীকে ও তাঁর দাসীদের নিরাময় করলেন; আর তারা আবার প্রসব করতে সক্ষম হল;
২০:১৮ কেননা আব্রাহামের স্ত্রী সারার ব্যাপারে প্রভু আবিমেলেকের ঘরের সমস্ত স্ত্রীলোক অনুর্বর করেছিলেন।
২১:১ প্রভু নিজের কথা অনুসারে সারাকে দেখতে গেলেন; প্রভু যে কথা দিয়েছিলেন, সারার প্রতি তাই করলেন:
২১:২ সারা গর্ভবতী হয়ে পরমেশ্বরের প্রতিশ্রুত সেই নির্ধারিত সময়ে আব্রাহামের বৃদ্ধ বয়সে তাঁর ঘরে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করলেন।
২১:৩ আব্রাহাম সারার গর্ভজাত তাঁর সেই সন্তানের নাম ইসায়াক রাখলেন।
২১:৪ তাঁর সেই সন্তান ইসায়াকের বয়স আট দিন হলে আব্রাহাম পরমেশ্বরের আজ্ঞা অনুসারে তাকে পরিচ্ছেদিত করলেন।
২১:৫ আব্রাহামের সন্তান ইসায়াকের যখন জন্ম হয়, তখন আব্রাহামের বয়স একশ’ বছর।
২১:৬ তখন সারা বললেন, ‘পরমেশ্বর এমনটি করলেন যেন আমার মুখে হাসি ফোটে; যে কেউ একথা শুনবে, সে আমার সঙ্গে হাসবে।’
২১:৭ তিনি আরও বললেন, ‘সারা বাচ্চাকে দুধ খাওয়াবে, এমন কথা আব্রাহামকে কেইবা বলতে পারত? অথচ আমি তাঁর বৃদ্ধ বয়সে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেছি।’
২১:৮ শিশুটি বড় হতে লাগল, তাকে মায়ের দুধ ছাড়ানো হল, এবং যেদিন ইসায়াক দুধছাড়া হল, সেদিন আব্রাহাম মহাভোজের আয়োজন করলেন।
২১:৯ কিন্তু সারা দেখলেন, মিশরীয় সেই আগার আব্রাহামের ঘরে যে সন্তান প্রসব করেছিল, সে হাসছিল।
২১:১০ তাই তিনি আব্রাহামকে বললেন, ‘ওই দাসীকে ও তার ছেলেকে দূর করে দাও, কেননা আমার ছেলে ইসায়াকের সঙ্গে দাসীর ওই ছেলেকে উত্তরাধিকারী হতে নেই।’
২১:১১ নিজের ছেলের কথা ভেবে আব্রাহাম সেই কথায় খুবই দুঃখ পেলেন।
২১:১২ কিন্তু পরমেশ্বর আব্রাহামকে বললেন, ‘ছেলেটির ও তোমার দাসীর কথা ভেবে দুঃখ করো না; সারা তোমাকে যা বলছে, তার সেই কথা শোন, কারণ ইসায়াকের মধ্য দিয়েই তোমার নামে একটা বংশের উদ্ভব হবে।
২১:১৩ কিন্তু তবু দাসীর ওই ছেলেকেও আমি এক জাতি করে তুলব, কারণ সেও তোমার বংশীয়।’
২১:১৪ খুব সকালে উঠে আব্রাহাম রুটি ও জলের একটা পাত্র নিয়ে তা আগারকে দিলেন, এবং তার কাঁধে ছেলেটিকে তুলে দিয়ে তাকে বিদায় দিলেন। সেখান থেকে চলে গিয়ে সে বের্শেবা মরুপ্রান্তরে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াতে লাগল।
২১:১৫ পাত্রের জল ফুরিয়ে গেলে সে ছেলেটিকে একটা ঝোপের নিচে ফেলে রেখে
২১:১৬ তার কাছ থেকে কিছুটা দূরে—অনুমান এক তীর দূরে গিয়ে বসে পড়ল, কারণ সে বলছিল, ‘ছেলেটির মৃত্যু আমি দেখতে চাই না!’ সে তার কাছ থেকে কিছু দূরে বসলে ছেলেটি চিৎকার করে কাঁদতে লাগল;
২১:১৭ কিন্তু পরমেশ্বর ছেলেটির কণ্ঠস্বর শুনলেন, এবং পরমেশ্বরের এক দূত স্বর্গ থেকে ডেকে আগারকে বললেন, ‘আগার, তোমার কী হচ্ছে? ভয় করো না, কারণ ছেলেটির তেমন দুরবস্থায় পরমেশ্বর তার চিৎকার শুনলেন;
২১:১৮ ওঠ, ছেলেটিকে তুলে নিয়ে তাকে তোমার হাতে ধর, কেননা আমি তাকে এক মহাজাতি করে তুলব।’
২১:১৯ তখন পরমেশ্বর তার চোখ খুলে দিলেন, আর সে সামনে একটা কুয়ো দেখতে পেল; ওখানে গিয়ে জলের পাত্রটা ভরে নিয়ে ছেলেটিকে জল খাওয়াল।
২১:২০ আর পরমেশ্বর ছেলেটির সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন; সে বড় হয়ে উঠল, মরুপ্রান্তরে বসতি করল, ও তীরন্দাজ হয়ে উঠল।
২১:২১ সে পারান মরুপ্রান্তরে বসতি করল; আর তার বিবাহের জন্য তার মা মিশর থেকে একটা মেয়ে আনল।
২১:২২ সেসময়ে আবিমেলেক এবং তাঁর সেনাপতি ফিকোল আব্রাহামকে বললেন, ‘আপনি যা কিছু করেন, তাতে পরমেশ্বর আপনার সঙ্গে আছেন।
২১:২৩ সুতরাং আপনি এখন এইখানে পরমেশ্বরের দিব্যি দিয়ে শপথ করে আমাকে বলুন, আপনি আমার প্রতি, আমার সন্তানদের প্রতি ও আমার বংশধরদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার মত কিছুই করবেন না; বরং আমি আপনার প্রতি যেভাবে কুশল ব্যবহার করেছি, আপনিও আমার প্রতি ও এই দেশের প্রতি—আপনি যেখানে প্রবাসী আছেন—সেভাবে কুশল ব্যবহার করবেন।’
২১:২৪ আব্রাহাম বললেন, ‘শপথ করছি।’
২১:২৫ পরে আব্রাহাম আবিমেলেককে এবিষয়ে অনুযোগ করলেন যে, তাঁর দাসেরা জোর করে একটা কুয়ো দখল করেছিল।
২১:২৬ আবিমেলেক বললেন, ‘তেমন কাজ কে করেছে, তা আমি জানি না; আপনিও আমাকে কখনও জানাননি, আমিও কেবল আজ ব্যাপারটা শুনলাম।’
২১:২৭ তখন আব্রাহাম কয়েকটা মেষ ও বলদ নিয়ে তা আবিমেলেককে দিলেন, এবং দু’জনে নিজেদের মধ্যে একটা সন্ধি স্থাপন করলেন।
২১:২৮ আব্রাহাম পাল থেকে সাতটা মেষশাবক আলাদা করে রাখলেন।
২১:২৯ আবিমেলেক আব্রাহামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি এই যে সাতটা মেষশাবক আলাদা করে রাখলেন, তার অর্থ কী?’
২১:৩০ তিনি বললেন, ‘আপনাকে আমার হাত থেকে এই সাতটা মেষশাবক গ্রহণ করে নিতে হবে, যেন প্রমাণিত হয় যে, আমিই এই কুয়োটাকে খুঁড়েছি।’
২১:৩১ এজন্য জায়গাটার নাম বের্শেবা হল, কেননা সেই জায়গায় তাঁরা দু’জনে শপথ নিয়েছিলেন।
২১:৩২ তাঁরা বের্শেবায় সন্ধি স্থাপন করার পর আবিমেলেক ও তাঁর সেনাপতি ফিকোল উঠে ফিলিস্তিনিদের দেশে ফিরে গেলেন।
২১:৩৩ আব্রাহাম বের্শেবায় একটা ঝাউগাছ পুঁতে সেখানে অনাদি অনন্ত ঈশ্বর প্রভুর নাম করলেন।
২১:৩৪ আব্রাহাম ফিলিস্তিনিদের দেশে অনেক দিন প্রবাসী হয়ে থাকলেন।
২২:১ এই সমস্ত ঘটনার পর পরমেশ্বর আব্রাহামকে যাচাই করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, ‘আব্রাহাম, আব্রাহাম!’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘এই যে আমি।’
২২:২ তিনি বলে চললেন, ‘তোমার সন্তানকে, তোমার সেই একমাত্র সন্তানকে যাকে তুমি ভালবাস, সেই ইসায়াককে নাও ও মোরিয়া দেশে যাও, আর সেখানে যে এক পর্বতের কথা আমি তোমাকে বলব, তার উপরে তাকে আহুতিরূপে বলিদান কর।’
২২:৩ আব্রাহাম খুব সকালে উঠে গাধা সাজিয়ে দু’জন দাস ও তাঁর ছেলে ইসায়াককে সঙ্গে নিলেন, আহুতির জন্য কাঠ কাটলেন, এবং সেই জায়গার দিকে যাত্রা করলেন, যার কথা পরমেশ্বর তাঁকে বলেছিলেন।
২২:৪ তৃতীয় দিনে আব্রাহাম চোখ তুলে দূর থেকে জায়গাটা দেখতে পেলেন।
২২:৫ তখন আব্রাহাম দাসদের বললেন, ‘তোমরা গাধার সঙ্গে এইখানে দাঁড়াও; আমি ও ছেলেটি, আমরা ওখানে গিয়ে পূজা করে আসি; তারপর তোমাদের কাছে ফিরে আসব।’
২২:৬ আব্রাহাম আহুতির জন্য কাঠ তুলে তাঁর ছেলে ইসায়াকের মাথায় দিলেন, এবং নিজে আগুন ও খড়্গ হাতে নিলেন; পরে দু’জনে একসঙ্গে এগিয়ে গেলেন।
২২:৭ তখন ইসায়াক তাঁর পিতা আব্রাহামকে বললেন, ‘পিতা আমার!’ তিনি বললেন, ‘এই যে আমি, সন্তান আমার!’ ইসায়াক বলে চললেন, ‘আগুন ও কাঠ তো এখানে রয়েছে, কিন্তু আহুতির জন্য মেষশাবক কোথায়?’
২২:৮ আব্রাহাম বললেন, ‘সন্তান আমার, আহুতির জন্য মেষশাবকের ব্যাপারে পরমেশ্বর নিজেই দেখবেন।’ তাঁরা একসঙ্গে আরও এগিয়ে চললেন,
২২:৯ আর যখন সেই জায়গায় এসে পৌঁছলেন, যার কথা পরমেশ্বর তাঁকে বলেছিলেন, তখন আব্রাহাম একটি যজ্ঞবেদি গাঁথলেন, কাঠ সাজালেন, এবং তাঁর ছেলে ইসায়াককে বেঁধে বেদিতে কাঠের উপরে রাখলেন।
২২:১০ পরে আব্রাহাম হাত বাড়িয়ে নিজের ছেলেকে বধ করার জন্য খড়্গ তুলে নিলেন,
২২:১১ কিন্তু স্বর্গ থেকে প্রভুর দূত তাঁকে ডাকলেন, বললেন, ‘আব্রাহাম, আব্রাহাম!’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘এই যে আমি!’
২২:১২ দূত বললেন, ‘ছেলেটির উপর হাত বাড়িয়ো না, তার কোন ক্ষতি করো না, কেননা এখন আমি জানি, তুমি পরমেশ্বরকে ভয় কর; তুমি আমাকে তোমার সন্তানকে, তোমার একমাত্র সন্তানকে দিতেও অস্বীকার করনি।’
২২:১৩ তখন আব্রাহাম চোখ তুলে দেখতে পেলেন, পাশে একটা ভেড়া, তার শিঙ একটা ঝোপের মধ্যে জড়ানো। আব্রাহাম গিয়ে সেই ভেড়াটা নিলেন ও নিজের ছেলের বদলে আহুতি রূপে তা বলিদান করলেন।
২২:১৪ আব্রাহাম সেই জায়গার নাম রাখলেন ‘প্রভু নিজেই দেখেন’, এজন্য আজ লোকে বলে, ‘পর্বতে প্রভু নিজেই দেখেন।’
২২:১৫ প্রভুর দূত দ্বিতীয়বারের মত স্বর্গ থেকে আব্রাহামকে ডাকলেন,
২২:১৬ বললেন, ‘প্রভুর উক্তি! নিজের দিব্যি দিয়েই বলছি, তুমি এই কাজ করেছ বলে—তোমার সন্তানকে, তোমার একমাত্র সন্তানকেও আমাকে দিতে অস্বীকার করনি বলে
২২:১৭ আমি তোমাকে অশেষ আশীর্বাদে ধন্য করব, এবং তোমার বংশের সংখ্যা আকাশের তারানক্ষত্রের মত ও সমুদ্রতীরের বালুকণার মত করব; তোমার বংশধরেরা শত্রুদের নগরদ্বার দখল করবে।
২২:১৮ তোমার বংশে পৃথিবীর সকল জাতি আশিসপ্রাপ্ত হবে, কারণ তুমি আমার প্রতি বাধ্যতা দেখিয়েছ।’
২২:১৯ পরে আব্রাহাম নিজের দাসদের কাছে ফিরে গেলেন, আর সকলে মিলে বের্শেবার দিকে রওনা হলেন; এবং আব্রাহাম সেই বের্শেবায়ই বসতি করলেন।
২২:২০ এই সমস্ত ঘটনার পর আব্রাহামের কাছে এই খবর আনা হল: ‘দেখুন, মিল্কাও আপনার ভাই নাহোরের ঘরে নানা পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন;’
২২:২১ তাঁর বড় ছেলে ঊষ ও তার ভাই বুজ ও আরামের পিতা কামুয়েল,
২২:২২ এবং কেশেদ, হাজো, পিল্দাশ, যিদ্লাফ ও বেথুয়েল।
২২:২৩ (এই বেথুয়েল-ই রেবেকার পিতা)। মিল্কা আব্রাহামের ভাই নাহোরের ঘরে এই আটজনকে প্রসব করলেন।
২২:২৪ তাঁর উপপত্নী রেউমাও সন্তানদের প্রসব করল, তারা হল টেবাহ্‌, গাহাম, তাহাশ ও মায়াখা।
২৩:১ সারার বয়স হল একশ’ সাতাশ বছর; সারার জীবনকাল এত বছর।
২৩:২ সারা কানান দেশে কিরিয়াৎ-আর্বাতে অর্থাৎ হেব্রোনে মরলেন, আর আব্রাহাম সারার জন্য শোকপালন করতে ও কাঁদতে এলেন।
২৩:৩ পরে আব্রাহাম তাঁর মৃতদেহের সামনে থেকে উঠে হিত্তীয়দের একথা বললেন,
২৩:৪ ‘আমি আপনাদের মধ্যে বিদেশী ও প্রবাসী; আপনাদের এখানে আমাকে সমাধিস্থানের অধিকার দিন, আমি যেন এই মৃতদেহকে তুলে নিয়ে সমাধি দিতে পারি।’
২৩:৫ হিত্তীয়েরা উত্তরে আব্রাহামকে বললেন,
২৩:৬ ‘প্রভু, আপনিই বরং আমাদের কথা শুনুন: আপনি তো আমাদের মধ্যে যেন পরমেশ্বরের এক রাজপুরুষ; আমাদের সমাধিস্থানগুলোর মধ্যে আপনার সবচেয়ে পছন্দমত সমাধিগুহাতেই আপনার মৃতজনকে রাখুন। আপনার মৃতজনকে সমাধি দেওয়ার ব্যাপারে আমরা কেউই নিজেদের সমাধিগুহা আপনাকে দিতে অস্বীকার করব না।’
২৩:৭ তখন আব্রাহাম উঠে সেই দেশের লোকদের সামনে অর্থাৎ হিত্তীয়দের সামনে প্রণিপাত করলেন
২৩:৮ এবং তাঁদের সামনে একথা বললেন: ‘যদি আপনারা সম্মত আছেন যেন আমি আমার মৃতজনকে তুলে নিয়ে সমাধিস্থানে রাখি, তবে আমার কথা শুনুন, ও আমার জন্য যোহারের সন্তান এফ্রোনের কাছে আমার হয়ে অনুরোধ রাখুন,
২৩:৯ তাঁর সেই একখণ্ড জমির প্রান্তে, মাখপেলায়, তাঁর যে গুহা আছে, তা যেন আমাকে দেন। আপনাদের সাক্ষাতে তিনি পুরো মূল্যেই তা আমাকে আমার নিজস্ব সমাধিস্থান হিসাবে দিন।’
২৩:১০ সেসময় এফ্রোন হিত্তীয়দের মধ্যে বসে ছিলেন; আর যত হিত্তীয়দের তাঁর নগরদ্বারে প্রবেশাধিকার ছিল, তাঁদের কর্ণগোচরে সেই হিত্তীয় এফ্রোন উত্তরে আব্রাহামকে বললেন,
২৩:১১ ‘প্রভু আমার, তা হবে না; আপনি বরং আমার কথা শুনুন: আমি সেই একখণ্ড জমি ও সেখানকার গুহাটা আপনাকে দিয়ে দিলাম; আমার স্বজাতির সন্তানদের সাক্ষাতেই আমি আপনাকে তা দিয়ে দিলাম; আপনি আপনার মৃতজনকে সমাধি দিন।’
২৩:১২ তখন আব্রাহাম সেই দেশের লোকদের সামনে প্রণিপাত করলেন,
২৩:১৩ এবং সেই দেশের সকলের কর্ণগোচরে এফ্রোনকে বললেন, ‘আপনার দোহাই, সদিচ্ছা দেখিয়ে আমার কথা শুনুন। আমি সেই একখণ্ড জমির মূল্য দেব, আপনি আমার কাছ থেকে তা গ্রহণ করে নিন; তবেই আমি আমার মৃতজনকে সেখানে সমাধি দেব।’
২৩:১৪ এফ্রোন উত্তরে আব্রাহামকে বললেন,
২৩:১৫ ‘প্রভু আমার, আপনিই বরং আমার কথা শুনুন; সেই একখণ্ড জমির মূল্য চারশ’ শেকেল রুপোমাত্র, এতে আপনার ও আমার কি আসে যায়? আপনার মৃতজনকে সমাধি দিন।’
২৩:১৬ আব্রাহাম এফ্রোনের দাবি মেনে নিলেন; এবং এফ্রোন হিত্তীয়দের কর্ণগোচরে যে টাকার কথা বলেছিলেন, আব্রাহাম তা—অর্থাৎ বণিকদের মধ্যে প্রচলিত চারশ’ শেকেল রুপো ওজন করে এফ্রোনকে দিলেন।
২৩:১৭ তাই মাম্রের সামনে মাখপেলায় এফ্রোনের যে একখণ্ড জমি ছিল, সেই জমি, সেখানকার গুহা ও সেই জমির অভ্যন্তরে ও তার চতুঃসীমানায় যত গাছ ছিল,
২৩:১৮ হিত্তীয়দের সাক্ষাতে—তাঁর নগরদ্বারে যাদের প্রবেশাধিকার ছিল, সেই সকলেরই সাক্ষাতে আব্রাহামের স্বত্বাধিকার স্থির করা হল।
২৩:১৯ এরপর আব্রাহাম কানান দেশের সেই মাম্রের অর্থাৎ হেব্রোনের সামনে মাখপেলার একখণ্ড জমিতে অবস্থিত গুহাতে তাঁর আপন স্ত্রী সারাকে সমাধি দিলেন।
২৩:২০ এইভাবে সেই একখণ্ড জমি ও সেখানকার গুহাটা নিজস্ব সমাধিস্থান হিসাবে হিত্তীয়দের কাছ থেকে আব্রাহামের অধিকারে গেল।
২৪:১ আব্রাহাম তখন বৃদ্ধ, তাঁর যথেষ্ট বয়স হয়েছে; প্রভু আব্রাহামকে সব দিক দিয়েই আশীর্বাদ করেছিলেন।
২৪:২ আব্রাহাম, তাঁর সমস্ত কিছুর উপরে যার ভার ছিল, তাঁর ঘরের সেই সবচেয়ে প্রাচীন কর্মচারীকে বললেন, ‘আমার উরুতের নিচে হাত দাও:
২৪:৩ আমি চাই, তুমি স্বর্গের পরমেশ্বর ও মর্তের পরমেশ্বর সেই প্রভুর নামে শপথ করবে যে, আমি যে কানানীয়দের মধ্যে বাস করছি, তুমি তাদের মেয়েদের মধ্য থেকে কোন মেয়েকে আমার ছেলের বধূরূপে নেবে না,
২৪:৪ কিন্তু আমার দেশে আমার জ্ঞাতিভাইদের কাছে গিয়ে আমার ছেলে ইসায়াকের জন্য একটি বধূ আনবে।’
২৪:৫ কর্মচারী তাঁকে বলল, ‘মেয়েটি হয় তো আমার সঙ্গে এই দেশে আসতে রাজি নাও হতে পারে; তবে আপনি যে দেশ ছেড়ে এসেছেন, আপনার ছেলেকে কি আবার সেই দেশে নিয়ে যাব?’
২৪:৬ আব্রাহাম তাকে বললেন, ‘সাবধান, কোন মতেই আমার ছেলেকে আবার সেখানে নিয়ে যেয়ো না।
২৪:৭ স্বর্গের পরমেশ্বর ও মর্তের পরমেশ্বর সেই প্রভু, যিনি আমাকে আমার পিতৃগৃহ থেকে ও আমার জন্মভূমি থেকে তুলে এনেছেন, যিনি আমাকে শপথ করে বলেছেন “আমি এই দেশ তোমার বংশকে দেব,” তিনিই তোমার আগে আগে তাঁর দূত পাঠাবেন, যেন তুমি আমার ছেলের জন্য সেখান থেকে একটি মেয়ে আনতে পার।
২৪:৮ মেয়েটি তোমার সঙ্গে আসতে রাজি না হলে, তবে তুমি আমার প্রতি এই শপথ থেকে মুক্ত হবে; কিন্তু কোন মতেই আমার ছেলেকে আবার সেই দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেয়ো না।’
২৪:৯ সেই কর্মচারী আপন মনিব আব্রাহামের উরুতের নিচে হাত দিয়ে এবিষয়ে শপথ করল।
২৪:১০ সেই কর্মচারী তার মনিবের উটদের মধ্য থেকে দশটা উট ও তার মনিবের মূল্যবান যত জিনিস সঙ্গে করে রওনা হয়ে আরাম-নাহারাইম দেশে নাহোর শহরের দিকে যাত্রা করল।
২৪:১১ সন্ধ্যাবেলায় যে সময়ে স্ত্রীলোকেরা জল তুলতে বেরিয়ে যায়, ঠিক সেসময়ে সে উটগুলোকে শহরের বাইরে কুয়োর কাছাকাছি বসিয়ে রাখল;
২৪:১২ সে বলল, ‘আমার মনিব আব্রাহামের পরমেশ্বর হে প্রভু, এমনটি হতে দাও, যেন আজ কৃতকার্য হতে পারি; আমার মনিব আব্রাহামের প্রতি কৃপা দেখাও।
২৪:১৩ দেখ, আমি এই উৎসের ধারে দাঁড়িয়ে আছি, এবং এই শহরবাসীদের মেয়েরা জল তুলতে বেরিয়ে আসছে;
২৪:১৪ তাই যে মেয়েকে আমি বলব, তোমার কলসি নামিয়ে আমাকে জল খেতে দাও, সে যদি বলে, “জল খাও, আমি তোমার উটগুলোকেও জল খাওয়াব,” তাহলে সে-ই হোক তোমার দাস ইসায়াকের জন্য তোমার নিরূপিত মেয়ে; এতে আমি বুঝব যে, তুমি আমার মনিবের প্রতি কৃপা দেখিয়েছ।’
২৪:১৫ একথা বলতে না বলতে, দেখ, রেবেকা কলসি কাঁধে করে বেরিয়ে এলেন; তিনি আব্রাহামের ভাই নাহোরের স্ত্রী মিল্কার সন্তান বেথুয়েলের কন্যা।
২৪:১৬ মেয়েটি দেখতে খুব সুন্দরী, যুবতী এক কুমারী, কোন পুরুষের সঙ্গে তখনও তাঁর মিলন হয়নি। তিনি উৎসের ধারে নেমে গিয়ে কলসি ভরে আবার উঠে আসছিলেন,
২৪:১৭ এমন সময় সেই কর্মচারী তার দিকে ছুটে গিয়ে তাঁকে বলল, ‘আপনার কলসি থেকে আমাকে কিছুটা জল খেতে দিন।’
২৪:১৮ তিনি বললেন, ‘মহাশয়, খান!’ তা বলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে কলসি হাতের বাহুতে নামিয়ে তাকে জল খেতে দিলেন।
২৪:১৯ তাকে জল খেতে দেওয়ার পর বললেন, ‘আপনার উটগুলোর জল খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদেরও জন্য জল তুলব।’
২৪:২০ তিনি শীঘ্রই গড়ায় কলসির জল ঢেলে আবার জল তুলতে কুয়োর কাছে ছুটে গিয়ে তার সকল উটের জন্য জল তুলে আনলেন।
২৪:২১ এর মধ্যে সেই মানুষ নীরবে তাঁর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে, প্রভু তার যাত্রা সফল করেছেন কিনা, তা জানবার অপেক্ষা করছিল।
২৪:২২ উটগুলো জল খাওয়ার পর সেই মানুষ তাঁর নাকে একটা সোনার নথ পরিয়ে দিল, যার ওজন আধ তোলা, এবং তাঁর হাতে পরিয়ে দিল দু’টো সোনার বালা, যার ওজন দশ তোলা;
২৪:২৩ পরে বলল, ‘আপনি কার কন্যা? আমাকে বলুন, আপনার পিতার বাড়িতে কি আমাদের রাত্রিযাপনের জন্য জায়গা আছে?’
২৪:২৪ তিনি উত্তরে বললেন, ‘আমি সেই বেথুয়েলের কন্যা, যিনি মিল্কার সন্তান, যাঁকে তিনি নাহোরের ঘরে প্রসব করেছিলেন।’
২৪:২৫ তিনি বলে চললেন, ‘খড় ও কলাই আমাদের কাছে যথেষ্ট আছে, রাত্রিযাপনের জন্য জায়গাও আছে।’
২৪:২৬ তখন লোকটি মাথা নত করে প্রভুর উদ্দেশে প্রণিপাত করল;
২৪:২৭ বলল, ‘আমার মনিব আব্রাহামের পরমেশ্বর সেই প্রভু ধন্য! কারণ তিনি আমার মনিবের প্রতি কৃপা ও বিশ্বস্ততা দেখাতে ক্ষান্ত হননি; প্রভু আমার মনিবের ভাইদের বাড়ি পর্যন্ত আমার পথ চালনা করলেন।’
২৪:২৮ মেয়েটি দৌড় দিয়ে তাঁর মায়ের ঘরে গিয়ে সকলের কাছে এই সমস্ত ঘটনা জানালেন।
২৪:২৯ এদিকে রেবেকার এক ভাই ছিলেন, তাঁর নাম লাবান; সেই লাবান বের হয়ে কুয়োর ধারে সেই লোকের কাছে দৌড়ে গেলেন।
২৪:৩০ আসলে সেই নথ ও বোনের হাতে সেই বালা দেখামাত্র, এবং ‘লোকটি আমাকে এই এই কথা বললেন,’ বোন রেবেকার মুখে একথা শোনামাত্র তিনি সেই লোকের কাছে গেলেন; সে তখনও উটগুলোর কাছে দাঁড়িয়ে ছিল।
২৪:৩১ লাবান বললেন, ‘হে প্রভুর আশীর্বাদের পাত্র, আসুন; কেন বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন? আমি তো ঘর এবং উটদের জন্যও জায়গা প্রস্তুত করেছি।’
২৪:৩২ লোকটি বাড়িতে প্রবেশ করলে লাবান উটদের সজ্জা খুলে দিলেন, তাদের জন্য খড় ও কলাই যুগিয়ে দিলেন, এবং লোকটির ও তার সঙ্গী যত লোকের পা ধোয়ার জন্য জল দিলেন।
২৪:৩৩ পরে তার সামনে খাবার পরিবেশন করা হল, কিন্তু সে বলল, ‘আমার যা বলার, তা না বলা পর্যন্ত আমি খাব না।’ লাবান বললেন, ‘বলুন!’
২৪:৩৪ সে বলল, ‘আমি আব্রাহামের কর্মচারী;
২৪:৩৫ প্রভু আমার মনিবকে অশেষ আশীর্বাদে ধন্য করেছেন, আর তিনি এখন প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। প্রভু তাঁকে দান করেছেন মেষ ও গবাদি পশুপাল, সোনা-রুপো, দাস-দাসী, উট ও গাধা।
২৪:৩৬ আমার মনিবের বধূ সারা বৃদ্ধ বয়সে তাঁর ঘরে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন, তাঁকেই তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি দিয়েছেন।
২৪:৩৭ আমার মনিব আমাকে শপথ করিয়ে বললেন, “আমি যে কানানীয়দের দেশে বাস করছি, তুমি তাদের মেয়েদের মধ্য থেকে কোন মেয়েকে আমার ছেলের বধূরূপে নেবে না;
২৪:৩৮ কিন্তু আমার পিতৃকুল ও আমার গোত্রের কাছে গিয়ে আমার ছেলের জন্য বধূ আনবে।”
২৪:৩৯ আমার মনিবকে আমি বললাম, হয় তো মেয়েটি আমার সঙ্গে আসতে রাজি নাও হতে পারে।
২৪:৪০ তিনি আমাকে বললেন, “আমি যাঁর সাক্ষাতে চলি, সেই প্রভু তোমার সঙ্গে তাঁর দূত পাঠিয়ে তোমার যাত্রা সফল করবেন, যেন তুমি আমার গোত্র ও আমার পিতৃকুল থেকেই আমার ছেলের জন্য মেয়ে আনতে পার;
২৪:৪১ তবেই তুমি আমার অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে। আমার গোত্রের কাছে গেলে যদি তারা মেয়ে না দেয়, তবে তুমি আমার অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে।”
২৪:৪২ আর আজ ওই কুয়োর ধারে এসে পৌঁছে আমি বললাম, আমার মনিব আব্রাহামের পরমেশ্বর হে প্রভু, তুমি যদি আমার এই যাত্রা সফল করতে যাচ্ছ,
২৪:৪৩ তবে দেখ, আমি এই উৎসের ধারে দাঁড়িয়ে আছি; তাই জল তোলার জন্য আসছে যে মেয়েকে আমি বলব, আপনার কলসি থেকে আমাকে কিছুটা জল খেতে দিন,
২৪:৪৪ তিনি যদি বলেন, “তুমিও খাও, এবং তোমার উটগুলোর জন্যও আমি জল তুলে দেব;” তবে তিনিই সেই মেয়ে হোন, যাঁকে প্রভু আমার মনিবের ছেলের জন্য নিরূপণ করেছেন।
২৪:৪৫ একথা আমি মনে মনে বলতে না বলতে, দেখ, রেবেকা কলসি কাঁধে করে বেরিয়ে এলেন; উৎসের ধারে নেমে তিনি জল তুললে আমি বললাম, আমাকে জল খেতে দিন।
২৪:৪৬ তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গে কাঁধ থেকে কলসি নামিয়ে বললেন, “খান, আমি আপনার উটগুলোকেও জল দেব।” আমি জল খেলাম, আর তিনি উটগুলোকেও জল দিলেন।
২৪:৪৭ আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কার্‌ কন্যা? তিনি উত্তরে বললেন, “আমি সেই বেথুয়েলের কন্যা, যিনি নাহোরের সন্তান, যাঁকে মিল্কা তাঁর ঘরে প্রসব করেছিলেন।” তখন আমি তাঁর নাকে নথ ও হাতে বালা পরিয়ে দিলাম;
২৪:৪৮ এবং মাথা নত করে প্রভুর উদ্দেশে প্রণিপাত করলাম; এবং আমি যেন আমার মনিবের ছেলের স্ত্রীরূপে তাঁর ভাইয়ের মেয়েকে নিতে পারি, এই উদ্দেশ্যে যিনি আমাকে সঠিক পথে চালনা করেছিলেন, আমার মনিব আব্রাহামের পরমেশ্বর সেই প্রভুকে ধন্যবাদ জানালাম।
২৪:৪৯ এখন আপনাদের যদি আমার মনিবের প্রতি কৃপা ও বিশ্বস্ততা দেখাবার মত হয়, তাহলে আমাকে জানান; আর যদি না হয়, তাও আমাকে জানান, যেন আমি বুঝতে পারি আমার কোন পথ বেছে নিতে হবে।’
২৪:৫০ লাবান ও বেথুয়েল উত্তরে বললেন, ‘যা কিছু ঘটেছে, তাতে প্রভুর হাত রয়েছে; আমাদের মতামত দেওয়ার প্রশ্ন ওঠেই না।
২৪:৫১ এই যে, রেবেকা তোমার সামনে আছে, তাকে নিয়ে যাও; প্রভু যেমন বলেছেন, সেইমত সে তোমার মনিবের ছেলের বধূ হোক।’
২৪:৫২ তাঁদের কথা শোনামাত্র আব্রাহামের কর্মচারী প্রভুর উদ্দেশে মাটিতে মুখ করে প্রণিপাত করল।
২৪:৫৩ পরে সেই কর্মচারী সোনা-রূপোর ভূষণ ও বস্ত্র বের করে রেবেকাকে দিল; তাঁর ভাইকে ও মাকেও মূল্যবান উপহার দিল।
২৪:৫৪ তারপর সে ও তার সঙ্গীরা খাওয়া-দাওয়া করে সেখানে রাত্রিযাপন করল।
তারা সকালে উঠলে সে বলল, ‘আমাকে বিদায় দিন, যেন আমার মনিবের কাছে যেতে পারি।’
২৪:৫৫ রেবেকার ভাই ও মা বললেন, ‘মেয়েটি কিছু দিনের মত, কমপক্ষে দশ দিনের মত আমাদের কাছে থাকুক, পরে যেতে পারবে।’
২৪:৫৬ কিন্তু সে উত্তরে তাঁদের বলল, ‘প্রভু এতক্ষণে আমার যাত্রা সফল করলেন, আপনারা আমাকে দেরি করাবেন না; আমাকে বিদায় দিন, যেন আমার মনিবের কাছে ফিরে যেতে পারি।’
২৪:৫৭ তাঁরা বললেন, ‘এসো, মেয়েটিকে ডাকি, ওকেই জিজ্ঞাসা করি।’
২৪:৫৮ তাঁরা রেবেকাকে ডেকে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কি এই লোকের সঙ্গে যাবে?’ তিনি বললেন, ‘যাব।’
২৪:৫৯ তখন তাঁরা তাঁদের বোন রেবেকাকে ও তাঁর ধাইমাকে এবং আব্রাহামের কর্মচারীকে ও তাঁর লোকজনদের বিদায় দিলেন।
২৪:৬০ রেবেকাকে আশীর্বাদ করে তাঁরা বললেন,
‘তুমি, হে আমাদের বোন,
কোটি কোটি মানুষের মা হও,
এবং তোমার বংশধরেরা
শত্রুদের নগরদ্বার দখল করুক।’
২৪:৬১ রেবেকা ও তাঁর দাসীরা উঠে দাঁড়ালেন এবং উটের পিঠে চড়ে লোকটির পিছু পিছু চললেন। এভাবে সেই কর্মচারী রেবেকাকে নিয়ে চলে গেল।
২৪:৬২ সূর্যাস্তের সময়ে ইসায়াক লাহাই-রোই কুয়োর দিকে ফিরে আসছিলেন (তিনি তো নেগেব অঞ্চলে বাস করছিলেন);
২৪:৬৩ সন্ধ্যাবেলায় বেরিয়ে তিনি খোলা মাঠে বেড়াতে গিয়েছিলেন, এমন সময় চোখ তুলে দেখলেন, উটগুলো আসছে।
২৪:৬৪ রেবেকাও চোখ তুললেন: ইসায়াককে দেখেই তিনি উট থেকে নামলেন,
২৪:৬৫ এবং সেই কর্মচারীকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মাঠের মধ্য দিয়ে যে লোক আমাদের দিকে এগিয়ে আসছেন, তিনি কে?’ কর্মচারী উত্তরে বলল, ‘তিনি আমার মনিব।’ তখন রেবেকা উড়নাটা দিয়ে মুখ ঢেকে নিলেন।
২৪:৬৬ সেই কর্মচারী যা কিছু করেছিল, তা ইসায়াককে জানাল।
২৪:৬৭ তখন ইসায়াক রেবেকাকে মা সারার তাঁবুতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে বধূরূপে গ্রহণ করলেন, আর এভাবে রেবেকা তাঁর বধূ হয়ে উঠলেন। আর ইসায়াক তাঁকে এতই ভালবাসলেন যে, তাতেই তাঁর মাতৃশোকে সান্ত্বনা পেলেন।
২৫:১ আব্রাহাম কেটুরা নামে আর একজন স্ত্রী নিলেন।
২৫:২ তিনি তাঁর ঘরে জিম্রান, যক্সান, মেদান, মিদিয়ান, ইস্‌বাক ও শুয়াহ্‌, এই সকলকে প্রসব করলেন।
২৫:৩ যক্সান থেকে শেবা ও দেদান জন্ম নেয়; আসুরীয়, লেটুসীয় ও লেউম্মীয়েরা দেদানের সন্তান।
২৫:৪ এবং মিদিয়ানের সন্তান হল এফা, এফের, হানোক, আবিদা ও এল্দায়া; এরা সকলে কেটুরার সন্তান।
২৫:৫ আব্রাহাম তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ইসায়াককে দিলেন।
২৫:৬ তাঁর উপপত্নীদের সন্তানদের আব্রাহাম নানা উপহার দিলেন, এবং নিজে জীবিত থাকতেই তাঁর সন্তান ইসায়াকের কাছ থেকে দূরে, পুবদিকে, সেই প্রাচ্যদেশেই তাদের পাঠিয়ে দিলেন।
২৫:৭ আব্রাহামের জীবনকাল হল একশ’ পঁচাত্তর বছর;
২৫:৮ পরে তিনি বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ু হয়ে শুভ বার্ধক্যে প্রাণত্যাগ করে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে মিলিত হলেন।
২৫:৯ তাঁর দু’সন্তান ইসায়াক ও ইসমায়েল মাম্রের সামনে হিত্তীয় যোহারের সন্তান এফ্রোনের জমিতে মাখপেলার গুহাতে তাঁকে সমাধি দিলেন।
২৫:১০ এ হল সেই একখণ্ড জমি যা আব্রাহাম হিত্তীয়দের কাছ থেকে কিনেছিলেন; সেখানে আব্রাহামকে ও তাঁর স্ত্রী সারাকে সমাধি দেওয়া হল।
২৫:১১ আব্রাহামের মৃত্যুর পরে পরমেশ্বর তাঁর সন্তান ইসায়াককে আশীর্বাদ করলেন; ইসায়াক লাহাই-রোই কুয়োর কাছে বসতি করলেন।
২৫:১২ আব্রাহামের সন্তান ইসমায়েলের বংশতালিকা এ: সারার দাসী সেই মিশরীয় আগার আব্রাহামের ঘরে তাঁকে প্রসব করেছিল।
২৫:১৩ নিজ নিজ নাম ও গোষ্ঠী অনুসারে ইসমায়েলের সন্তানদের নাম এ: ইসমায়েলের জ্যেষ্ঠ পুত্র নেবায়োৎ; পরে কেদার, আব্দেয়েল, মিব্সাম,
২৫:১৪ মিশ্‌মা, দুমা, মাস্সা,
২৫:১৫ হাদাদ, তেমা, যেটুর, নাফিশ ও কেদমা।
২৫:১৬ এঁরা সকলে ইসমায়েল-সন্তান, এবং তাঁদের বসতি ও শিবির অনুসারে এ-ই তাদের নাম। তাঁরা ছিলেন নিজ নিজ গোষ্ঠীর বারোজন গোষ্ঠীপতি।
২৫:১৭ ইসমায়েলের জীবনকাল হল একশ’ সাঁইত্রিশ বছর; পরে তিনি প্রাণত্যাগ করে আপন পূর্বপুরুষদের সঙ্গে মিলিত হলেন।
২৫:১৮ তিনি হাবিলা থেকে আসুরের দিকে মিশরের সামনে অবস্থিত সেই শুর পর্যন্ত বাস করলেন; তিনি তাঁর সকল ভাইয়ের সামনেই বসতি করেছিলেন।
২৫:১৯ আব্রাহামের সন্তান ইসায়াকের বংশতালিকা এ: আব্রাহাম ইসায়াকের পিতা হলেন।
২৫:২০ চল্লিশ বছর বয়সে ইসায়াক আরামীয় বেথুয়েলের কন্যা আরামীয় লাবানের বোন রেবেকাকে পাদ্দান-আরাম থেকে এনে বিবাহ করেন।
২৫:২১ ইসায়াকের স্ত্রী বন্ধ্যা হওয়ায় তিনি তাঁর জন্য প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন। প্রভু তাঁর প্রার্থনায় সাড়া দিলেন, আর তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী হলেন।
২৫:২২ এক সময়ে কিন্তু তাঁর গর্ভে শিশুরা এমন জড়াজড়ি করছিল যে, তিনি বললেন, ‘এমনটি হলে, তবে আমি কেন বেঁচে আছি?’ তিনি প্রভুর অভিমত অনুসন্ধান করতে গেলেন।
২৫:২৩ প্রভু তাঁকে বললেন,
‘তোমার গর্ভে রয়েছে দু’টো জাতি,
ও দু’টো বংশ তোমার উদর থেকে পৃথক হবে;
এক বংশ অন্য বংশের চেয়ে বলবান হবে,
এবং জ্যেষ্ঠজন কনিষ্ঠজনের দাস হবে।’
২৫:২৪ যখন তাঁর প্রসবকাল পূর্ণ হল, তখন তাঁর গর্ভে সত্যিই যমজ সন্তান।
২৫:২৫ যে প্রথমে ভূমিষ্ঠ হল, সে রক্তবর্ণ, ও তার সর্বাঙ্গ ঘন লোমের পোশাকের মত, এজন্যই তার নাম এসৌ রাখা হল।
২৫:২৬ পরপরেই তার ভাই ভূমিষ্ঠ হল; তার হাত এসৌয়ের পাদমূল ধরে রাখছিল, এজন্যই তার নাম রাখা হল যাকোব; যখন ইসায়াকের এই যমজ সন্তানের জন্ম হয়, তখন তাঁর বয়স ষাট বছর।
২৫:২৭ ছেলেরা বড় হলে এসৌ নিপুণ শিকারী হলেন, তিনি ছিলেন বনপ্রান্তরের মানুষ। অপরদিকে যাকোব শান্ত ছিলেন, তিনি তাঁবুগুলির আড়ালে বাস করতেন।
২৫:২৮ ইসায়াকের কাছে এসৌ প্রিয় ছিলেন, কেননা শিকার-করা পশুর মাংস তাঁর খুবই রুচিকর লাগত; অপরদিকে রেবেকার কাছে যাকোবই প্রিয় ছিলেন।
২৫:২৯ একদিন এমনটি ঘটল যে, যাকোব ডাল পাক করছিলেন, এমন সময় এসৌ ক্লান্ত অবস্থায় বনপ্রান্তর থেকে এসে
২৫:৩০ যাকোবকে বললেন, ‘আমি একেবারে ক্লান্ত; আমাকে ওই রাঙ্গা জিনিসের একটু খেতে দাও’ (এজন্যই তাঁকে এদোম—রাঙ্গা—ব’লে ডাকা হল)।
২৫:৩১ যাকোব বললেন, ‘তার বদলে তুমি আগে তোমার জ্যেষ্ঠাধিকার আমাকে দাও।’
২৫:৩২ এসৌ উত্তরে বললেন, ‘দেখ, আমি মৃতপ্রায়! জ্যেষ্ঠাধিকারে আমার কী লাভ?’
২৫:৩৩ যাকোব বললেন, ‘তুমি এক্ষণি আমার কাছে শপথ কর।’ আর তিনি তাঁর কাছে শপথ করলেন, এবং নিজের জ্যেষ্ঠাধিকার যাকোবের কাছে বিক্রি করে দিলেন।
২৫:৩৪ তখন যাকোব এসৌকে রুটি ও রাঁধা মসূরের ডাল দিলেন, আর তিনি খাওয়া-দাওয়া করলেন; পরে উঠে চলে গেলেন—নিজের জ্যেষ্ঠাধিকারকে এসৌ এতই মূল্য দিলেন!
২৬:১ আব্রাহামের সময়ে পূর্বকালীন যে দুর্ভিক্ষ হয়, তাছাড়া দেশে আর এক দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তখন ইসায়াক গেরারে ফিলিস্তিনিদের রাজা আবিমেলেকের কাছে গেলেন।
২৬:২ প্রভু তাঁকে দেখা দিয়ে বললেন, ‘তুমি মিশর দেশে নেমে যেয়ো না, আমি তোমাকে যে দেশের কথা বলব, সেইখানে থাক।
২৬:৩ কিছু দিনের মত তুমি এই দেশে থাক; আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকব ও তোমাকে আশীর্বাদ করব, কেননা আমি তোমাকে ও তোমার বংশকে এই সমস্ত দেশ দেব, এবং তোমার পিতা আব্রাহামের কাছে দিব্যি দিয়ে যে শপথ করেছিলাম, তা পূরণ করব।
২৬:৪ আমি তোমার বংশের সংখ্যা আকাশের তারানক্ষত্রের মত করব, এই সকল দেশ তোমার বংশকেই দেব, এবং তোমার বংশে পৃথিবীর সকল জাতি আশিসপ্রাপ্ত হবে;
২৬:৫ কারণ আব্রাহাম আমার প্রতি বাধ্য হয়ে আমার আদেশ, আমার আজ্ঞা, আমার বিধিনিয়ম ও আমার বিধান সকল পালন করেছে।’
২৬:৬ তাই ইসায়াক গেরারে থাকলেন।
২৬:৭ সেখানকার লোকেরা যখন তাঁর স্ত্রী সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করল, তখন তিনি বললেন, ‘উনি আমার বোন’; বস্তুত, ‘এ আমার স্ত্রী’ একথা বলতে তাঁর ভয় ছিল; তিনি ভাবছিলেন, ‘কি জানি এখানকার লোকেরা রেবেকার জন্য আমাকে হত্যা করবে, যেহেতু সে দেখতে সুন্দরী।’
২৬:৮ তিনি কিছু দিন সেখানে থাকার পর ফিলিস্তিনিদের রাজা আবিমেলেক জানালা দিয়ে দৃষ্টিপাত করলেন, আর দেখ, ইসায়াক তাঁর স্ত্রী রেবেকার সঙ্গে আমোদপ্রমোদে সময় কাটাচ্ছেন।
২৬:৯ আবিমেলেক ইসায়াককে ডাকিয়ে আনলেন; তাঁকে বললেন: ‘স্ত্রীলোকটি নিশ্চয়ই আপনার বধূ; তবে আপনি কেন বোন বলে তাঁর পরিচয় দিয়েছিলেন?’ ইসায়াক উত্তরে বললেন, ‘আমি ভাবছিলাম, কি জানি তাঁর জন্য আমার মৃত্যু হবে।’
২৬:১০ আবিমেলেক বলে চললেন, ‘আমাদের প্রতি আপনি এ কেমন ব্যবহার করলেন? কোন লোক আপনার স্ত্রীর সঙ্গে শুতেও পারত, তাতে আপনি আমাদের উপরে দোষ ডেকে আনতেন!’
২৬:১১ পরে আবিমেলেক সকল লোককে এই আজ্ঞা দিলেন, ‘যে কেউ এই ব্যক্তিকে কিংবা এঁর স্ত্রীকে স্পর্শ করবে, তার প্রাণদণ্ড হবে।’
২৬:১২ ইসায়াক সেই দেশের মাটিতে বীজ বুনে সেই বছর শত গুণে শস্য পেলেন। প্রভু তাঁকে আশীর্বাদ করলেন
২৬:১৩ আর তিনি ধনবান হয়ে উঠলেন এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেলেন যে পর্যন্ত অধিক ধনবান হলেন;
২৬:১৪ তাঁর এত মেষ ও পশুপাল এবং দাস-দাসী ছিল যে, ফিলিস্তিনিরা তাঁর প্রতি ঈর্ষা বোধ করতে লাগল।
২৬:১৫ তাঁর পিতার দাসেরা যে সমস্ত কুয়ো তাঁর পিতা আব্রাহামের সময়ে খুঁড়েছিল, ফিলিস্তিনিরা সেগুলো সবই মাটি দিয়ে ভরাট করে বুজিয়ে ফেলল।
২৬:১৬ তখন আবিমেলেক ইসায়াককে বললেন, ‘আমাদের ছেড়ে চলে যান, কেননা আপনি আমাদের চেয়ে বেশি প্রতাপশালী হয়েছেন।’
২৬:১৭ তাই ইসায়াক সেখান থেকে চলে গেলেন, এবং গেরারের উপত্যকায় তাঁবু গেড়ে সেইখানে বাস করতে লাগলেন।
২৬:১৮ আর যত কুয়ো তাঁর পিতা আব্রাহামের সময়ে খোঁড়া হয়েছিল ও আব্রাহামের মৃত্যুর পরে ফিলিস্তিনিরা বুজিয়ে ফেলেছিল, ইসায়াক সেগুলো সবই আবার খুঁড়লেন, এবং তাঁর পিতা সেগুলোর যে যে নাম রেখেছিলেন, তিনিও সেই একই একই নাম রাখলেন।
২৬:১৯ কিন্তু ইসায়াকের দাসেরা সেই উপত্যকায় খুঁড়তে খুঁড়তে যখন এমন এক কুয়ো পেল যার জল বিশুদ্ধ,
২৬:২০ তখন গেরারের রাখালেরা ইসায়াকের রাখালদের সঙ্গে বিবাদ করতে লাগল; তারা বলছিল, ‘এই জল আমাদের!’ তাই তিনি সেই কুয়োর নাম এসেক রাখলেন, কারণ তারা তাঁর সঙ্গে বিবাদ করেছিল।
২৬:২১ তাঁর দাসেরা আর একটা কুয়ো খুঁড়লে তারা সেটার জন্যও বিবাদ করল; তাই তিনি সেটার নাম সিট্‌না রাখলেন।
২৬:২২ পরে সেই জায়গা ছেড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে তিনি অন্য একটা কুয়ো খুঁড়লেন, আর যেহেতু এটার জন্য তারা বিবাদ করল না, সেজন্য তিনি সেটার নাম রেহোবোৎ রাখলেন; তিনি বললেন, ‘এবার প্রভু আমাদের উন্মুক্ত স্থান দিলেন যেন দেশে আমাদের সমৃদ্ধি হয়।’
২৬:২৩ সেখান থেকে তিনি বের্শেবায় গেলেন।
২৬:২৪ সেই রাতে প্রভু তাঁকে দেখা দিয়ে বললেন,
‘আমি তোমার পিতা আব্রাহামের পরমেশ্বর;
ভয় করো না,
কেননা আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি;
আমার আপন দাস আব্রাহামের খাতিরে
আমি তোমাকে আশীর্বাদ করব
ও তোমার বংশবৃদ্ধি করব।’
২৬:২৫ সেখানে ইসায়াক একটি যজ্ঞবেদি গাঁথলেন ও প্রভুর নাম করলেন। সেখানে তিনি তাঁবু গাড়লেন, আর সেখানে ইসায়াকের দাসেরা একটা কুয়ো খুঁড়ল।
২৬:২৬ ইতিমধ্যে আবিমেলেক তাঁর ব্যক্তিগত মন্ত্রী আহুজ্জাৎকে ও সেনাপতি ফিকোলকে সঙ্গে করে গেরার থেকে ইসায়াকের কাছে গিয়েছিলেন।
২৬:২৭ ইসায়াক তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনারা কেন আমার কাছে এসেছেন? আপনারা তো আমাকে ঘৃণাই করেন, আপনাদের মধ্য থেকে আমাকে দূরও করে দিলেন।’
২৬:২৮ উত্তরে তাঁরা বললেন, ‘আমরা স্পষ্টই দেখতে পেলাম, প্রভু আপনার সঙ্গে আছেন, তাই বললাম, আমাদের মধ্যে অর্থাৎ আমাদের ও আপনার মধ্যে এক শপথ হোক; তবে আসুন, আপনার সঙ্গে সন্ধি স্থির করি:
২৬:২৯ আমরা যেমন আপনাকে স্পর্শ করিনি ও আপনার মঙ্গল ছাড়া আর কিছুই করিনি, বরং শান্তিতেই আপনাকে বিদায় দিয়েছিলাম, তেমনি আপনিও আমাদের কোন অমঙ্গল ঘটাবেন না। এখন আপনিই প্রভুর আশীর্বাদের পাত্র!’
২৬:৩০ তখন ইসায়াক তাঁদের জন্য একটা ভোজসভার আয়োজন করলে তাঁরা খাওয়া-দাওয়া করলেন।
২৬:৩১ পরদিন খুব সকালে উঠে তাঁরা দিব্যি দিয়ে পরস্পরের মধ্যে শপথ বিনিময় করলেন; পরে ইসায়াক তাঁদের বিদায় দিলে তাঁরা তাঁর কাছ থেকে শান্তিতে চলে গেলেন।
২৬:৩২ ঠিক সেদিন ইসায়াকের দাসেরা এসে তাদের খোঁড়া কুয়ো সম্বন্ধে খবর দিয়ে তাঁকে বলল, ‘জল পেয়েছি।’
২৬:৩৩ তাই তিনি সেটার নাম শিবেয়া রাখলেন; এজন্য আজ পর্যন্ত সেই শহরের নাম বের্শেবা রয়েছে।
২৬:৩৪ চল্লিশ বছর বয়সে এসৌ হিত্তীয় বেয়েরির যুদিথ নামে কন্যাকে এবং হিত্তীয় এলোনের বাসেমাৎ নামে কন্যাকে বিবাহ করলেন।
২৬:৩৫ এরা ইসায়াকের ও রেবেকার মনঃপীড়ার কারণ হল।
২৭:১ ইসায়াক তখন বৃদ্ধ; তাঁর চোখ এতই ক্ষীণ হয়ে এসেছিল যে, তিনি আর দেখতে পাচ্ছিলেন না। তিনি তাঁর বড় ছেলে এসৌকে ডাকলেন; বললেন, ‘সন্তান!’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘এই যে আমি!’
২৭:২ ইসায়াক বলে চললেন, ‘দেখ, আমি বৃদ্ধ হয়েছি; কোন্‌ দিন আমার মৃত্যু হয়, তা জানি না।
২৭:৩ তাই তোমার শিকারের যত অস্ত্র, তোমার তূণ ও ধনুক নিয়ে বনপ্রান্তরে বেরিয়ে যাও, আমার জন্য কিছু পশুটশু শিকার করে আন।
২৭:৪ তারপর আমার রুচিমত একটা ভাল রান্না প্রস্তুত করে তা আমার কাছে নিয়ে এসো, যেন আমি তা খেয়ে মৃত্যুর আগে তোমাকে আমার প্রাণের আশীর্বাদ দান করি।’
২৭:৫ ইসায়াক যখন তাঁর ছেলে এসৌকে এই কথা বলছিলেন, তখন রেবেকা শুনছিলেন; তাই এসৌ যখন তাঁর পিতার জন্য পশু শিকার করতে বনপ্রান্তরে বেরিয়ে গেলেন,
২৭:৬ তখন রেবেকা তাঁর ছেলে যাকোবকে বললেন, ‘দেখ, তোমার ভাই এসৌয়ের কাছে তোমার পিতাকে একথা বলতে শুনেছি:
২৭:৭ “আমার জন্য পশু শিকার করে এনে একটা ভাল রান্না প্রস্তুত কর; তবে আমি তা খেয়ে মৃত্যুর আগে প্রভুর সাক্ষাতে তোমাকে আশীর্বাদ করব।”
২৭:৮ এখন, সন্তান আমার, আমাকে শোন; আমি তোমাকে যেমন আজ্ঞা করছি, সেইমত কর।
২৭:৯ পশুপাল যেখানে রয়েছে, সেখানে গিয়ে ভাল ভাল দু’টো ছাগলছানা নিয়ে এসো; আমি তোমার পিতার রুচিমত একটা ভাল রান্না প্রস্তুত করব;
২৭:১০ তুমি তোমার পিতার কাছে তা নিয়ে যাবে আর তিনি তা খাবেন; তাহলে মৃত্যুর আগে তোমাকে আশীর্বাদ করবেন।’
২৭:১১ উত্তরে যাকোব তাঁর মা রেবেকাকে বললেন, ‘দেখ, আমার ভাই এসৌয়ের গায়ে ঘন লোম রয়েছে, কিন্তু আমার চামড়া মসৃণ।
২৭:১২ কি জানি, পিতা আমাকে স্পর্শ করে বুঝবেন যে, আমি তাঁকে প্রবঞ্চনা করছি; তাহলে আমি আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপই আমার উপর ডেকে আনব।’
২৭:১৩ কিন্তু তাঁর মা বললেন, ‘সন্তান, সেই অভিশাপ আমার উপরেই পড়ুক; তুমি শুধু আমাকে শোন: সেই ছাগলছানা নিয়ে এসো।’
২৭:১৪ তাই যাকোব সেই ছাগলছানা দু’টো আনতে গেলেন ও মায়ের কাছে তা এনে দিলেন, আর তাঁর মা তাঁর পিতার রুচিমত একটা ভাল রান্না প্রস্তুত করলেন।
২৭:১৫ পরে ঘরে নিজের কাছে বড় ছেলে এসৌয়ের যে সবচেয়ে ভাল জামাকাপড় ছিল, রেবেকা তা নিয়ে এসে ছোট ছেলে যাকোবকে পরিয়ে দিলেন।
২৭:১৬ ওই দু’টো ছাগলছানার চামড়া দিয়ে তিনি যাকোবের হাত ও গলার মসৃণ জায়গা জড়িয়ে দিলেন;
২৭:১৭ তারপর, তিনি যে ভাল রান্না ও রুটি প্রস্তুত করেছিলেন, তা তাঁর ছেলে যাকোবের হাতে তুলে দিলেন।
২৭:১৮ তিনি পিতার কাছে এসে বললেন, ‘পিতা!’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘এই যে আমি! বৎস, তুমি কে?’
২৭:১৯ যাকোব তাঁর পিতাকে বললেন, ‘আমি এসৌ, আপনার প্রথমজাত পুত্র; আপনি আমাকে যেমন করতে বলেছিলেন, আমি সেইমত করেছি। দয়া করে আপনি উঠে বসুন, আমার শিকারের কিছুটা মাংস খান, তারপর আমাকে আপনার প্রাণের আশীর্বাদ দান করুন।’
২৭:২০ ইসায়াক তাঁর ছেলেকে বললেন, ‘বৎস, তা এত শীঘ্রই পেয়েছ কি করে?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘আপনার পরমেশ্বর প্রভু এমনটি করলেন যেন তা আমার সামনেই এসে পড়ে।’
২৭:২১ ইসায়াক যাকোবকে বললেন, ‘বৎস, একটু কাছে এসো; তোমার গায়ে হাত বুলিয়ে দেখি, তুমি সত্যি আমার ছেলে এসৌ কিনা।’
২৭:২২ যাকোব তাঁর পিতা ইসায়াকের কাছাকাছি গেলে তিনি তাঁর গায়ে হাত বুলিয়ে বললেন, ‘গলা তো যাকোবেরই গলা, কিন্তু হাত এসৌয়ের হাত!’
২৭:২৩ আসলে তিনি তাঁকে চিনতে পারলেন না, যেহেতু ভাই এসৌয়ের মত তাঁর হাতেও ঘন লোম ছিল; তাই তিনি তাঁকে আশীর্বাদ করলেন;
২৭:২৪ তিনি বললেন, ‘তুমি কি সত্যিই আমার ছেলে এসৌ?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, সত্যি।’
২৭:২৫ ইসায়াক বললেন, ‘তবে তা আমার কাছে আন, আমি যেন আমার ছেলের শিকারের কিছুটা মাংস খাওয়ার পর তোমাকে আমার প্রাণের আশীর্বাদ দান করি।’ তিনি মাংস পরিবেশন করলেন আর ইসায়াক খেলেন; আঙুররসও পরিবেশন করলেন, আর তিনি পান করলেন।
২৭:২৬ তাঁর পিতা ইসায়াক তাঁকে বললেন, ‘বৎস, কাছে এসে আমাকে চুম্বন কর।’
২৭:২৭ তিনি কাছে গিয়ে তাঁকে চুম্বন করলেন, আর ইসায়াক তাঁর জামাকাপড়ের গন্ধ পেয়ে তাঁকে এই বলে আশীর্বাদ করলেন,
‘আহা, আমার ছেলের সুগন্ধ,
যা প্রভুর আশিসমণ্ডিত মাঠের সুগন্ধের মত।
২৭:২৮ পরমেশ্বর আকাশের শিশির ও মাটির উর্বরতা
তোমাকে মঞ্জুর করুন;
মঞ্জুর করুন প্রচুর শস্য ও আঙুররস।
২৭:২৯ জাতিগুলি তোমার দাসত্ব করুক,
দেশগুলি তোমার সামনে প্রণিপাত করুক;
তুমি তোমার ভাইদের উপর প্রভুত্ব কর,
তোমার মায়ের সন্তানেরা তোমার সামনে প্রণিপাত করুক।
যে কেউ তোমাকে অভিশাপ দেয়, সে অভিশপ্ত হোক;
যে কেউ তোমাকে আশীর্বাদ করে, সে আশীর্বাদের পাত্র হোক।’
২৭:৩০ ইসায়াক যাকোবকে আশীর্বাদ শেষ করতে না করতে ও যাকোব তাঁর পিতা ইসায়াকের কাছ থেকে বিদায় নিতে না নিতেই তাঁর ভাই এসৌ শিকার থেকে এসে পড়লেন।
২৭:৩১ তিনিও একটা ভাল রান্না প্রস্তুত করে পিতার কাছে তা নিয়ে এলেন; বললেন, ‘পিতা, উঠে বসুন, আপনার ছেলের শিকারের কিছুটা মাংস খান, তারপর আমাকে আপনার প্রাণের আশীর্বাদ দান করুন।’
২৭:৩২ তাঁর পিতা ইসায়াক বললেন, ‘তুমি কে?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘আমি তো এসৌ, আপনার প্রথমজাত পুত্র।’
২৭:৩৩ এতে ইসায়াক ভীষণভাবেই কম্পিত হলেন, বললেন, ‘তবে সে কে, যে শিকার করে আমার কাছে মাংস নিয়ে এসেছিল? আমি তোমার আসবার আগেই তো তা খেয়ে তাকে আশীর্বাদ করেছি, আর সে আশীর্বাদের পাত্র হয়ে থাকবেই।’
২৭:৩৪ পিতার এই কথা শোনামাত্র এসৌ অধিক ব্যাকুল ও তীব্র কণ্ঠে চিৎকার করতে লাগলেন, পিতাকে বললেন, ‘পিতা, আমাকে, আমাকেও আশীর্বাদ করুন!’
২৭:৩৫ ইসায়াক বললেন, ‘তোমার ভাই চালাকি করে এসে তোমার আশীর্বাদ কেড়ে নিয়েছে।’
২৭:৩৬ এসৌ বললেন, ‘তার নাম ঠিকই যাকোব—প্রবঞ্চক; বাস্তবিকই সে দু’বার আমাকে প্রবঞ্চনা করেছে! সে আমার জ্যেষ্ঠাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, আর দেখুন, এখন আমার আশীর্বাদও কেড়ে নিয়েছে।’ তিনি বলে চললেন, ‘আপনি কি আমার জন্য কোন আশীর্বাদ রাখেননি?’
২৭:৩৭ উত্তরে ইসায়াক এসৌকে বললেন, ‘ইতিমধ্যে আমি তাকে তোমার প্রভু করেছি, তার ভাইদেরও তাকে তারই দাসরূপে দিয়েছি; তার জন্য শস্য ও আঙুররসও ব্যবস্থা করেছি; বৎস, এখন তোমার জন্য আর কীবা করতে পারি?’
২৭:৩৮ এসৌ আবার পিতাকে বললেন, ‘পিতা, আপনি কি কেবল একবারই আশীর্বাদ করতে পারেন? পিতা, আমাকে, আমাকেও আশীর্বাদ করুন!’ ইসায়াক নীরব থাকলেন, আর এসৌ জোর গলায় কাঁদতে লাগলেন।
২৭:৩৯ তখন তাঁর পিতা ইসায়াক আবার কথা বললেন, তিনি বললেন:
‘দেখ, তোমার বসতি উর্বর মাটি থেকে দূর হবে,
ঊর্ধ্বাকাশের শিশির থেকেও দূর হবে।
২৭:৪০ তুমি খড়্গের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করবে,
হবে তোমার ভাইয়ের দাস;
কিন্তু যখন তুমি আবার জেগে উঠবে,
তখন নিজের ঘাড় থেকে তার জোয়াল ভেঙে দেবে।’
২৭:৪১ যাকোব পিতার কাছ থেকে আশীর্বাদ পেয়েছিলেন বিধায় এসৌ যাকোবকে ঘৃণা করতে লাগলেন। এসৌ মনে মনে বললেন, ‘আমার পিতৃশোকের সময় কাছে আসছে, তখন আমার ভাই যাকোবকে হত্যাই করব।’
২৭:৪২ বড় ছেলে এসৌয়ের একথা রেবেকার কাছে শোনানো হলে তিনি লোক পাঠিয়ে ছোট ছেলে যাকোবকে ডাকিয়ে আনলেন; তাঁকে বললেন, ‘দেখ, তোমার ভাই এসৌ তোমাকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেবার অভিপ্রায় করছে।
২৭:৪৩ এখন, বৎস, আমাকে শোন; সঙ্গে সঙ্গেই হারান শহরে আমার ভাই লাবানের কাছে গিয়ে আশ্রয় নাও;
২৭:৪৪ সেখানে কিছু দিন থাক, যতদিন তোমার ভাইয়ের রোষ প্রশমিত না হয়।
২৭:৪৫ তোমার উপর থেকে ভাইয়ের ক্রোধ একবার চলে গেলে, এবং তুমি তার প্রতি যা করেছ, সে তা ভুলে গেলে আমি লোক পাঠিয়ে সেখান থেকে তোমাকে ফিরিয়ে আনব। আমাকে কেন এক দিনেই তোমাদের দু’জনকেই হারাতে হবে?’
২৭:৪৬ রেবেকা ইসায়াককে বললেন, ‘এই হিত্তীয় মেয়েদের কারণে আমার কাছে জীবন একেবারে ঘৃণ্যই হয়ে গেছে; যদি যাকোবও এদের মত কোন হিত্তীয় মেয়েকে, এই স্থানীয় মেয়েদের মধ্য থেকেই কোন মেয়েকে বধূরূপে নেয়, তবে বেঁচে থাকায় আমার কী লাভ?’
২৮:১ তখন ইসায়াক যাকোবকে ডাকলেন, তাঁকে আশীর্বাদ করলেন, এবং তাঁকে এই আজ্ঞা দিয়ে বললেন, ‘তোমাকে কানানীয় কোন মেয়েকে বধূরূপে নিতে হবে না।
২৮:২ ওঠ, পাদ্দান-আরামে তোমার মাতার পিতা বেথুয়েলের বাড়িতে গিয়ে সেখানে তোমার মামা লাবানের মেয়েদের মধ্য থেকে বধূ বেছে নাও।
২৮:৩ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তোমাকে আশীর্বাদ করুন,
তোমাকে ফলবান করুন,
তোমার বংশবৃদ্ধি করুন,
যেন তুমি এক জাতিসমাজ হয়ে ওঠ।
২৮:৪ তিনি আব্রাহামের আশীর্বাদ তোমাকে
ও তোমার সঙ্গে তোমার বংশধরদেরও দান করুন,
যেন যে দেশ পরমেশ্বর আব্রাহামকে দিয়েছেন,
সেই যে দেশে তুমি প্রবাসী হয়ে ছিলে,
সেই দেশের অধিকার তুমি পেতে পার।’
২৮:৫ এভাবে ইসায়াক যাকোবকে বিদায় দিলেন, আর যাকোব পাদ্দান-আরামে আরামীয় বেথুয়েলের সন্তান সেই লাবানের কাছে যাত্রা করলেন, যিনি যাকোবের ও এসৌয়ের মা রেবেকার ভাই।
২৮:৬ এসৌ যখন দেখলেন, ইসায়াক যাকোবকে আশীর্বাদ করে বধূ নেবার জন্য পাদ্দান-আরামে পাঠিয়েছেন, এবং আশীর্বাদের সময়ে তাঁকে এই আজ্ঞা দিয়েছিলেন, ‘তোমাকে কানানীয় কোন মেয়েকে বধূরূপে নিতে হবে না,’
২৮:৭ এবং যাকোব মাতাপিতার প্রতি বাধ্য হয়ে পাদ্দান-আরামের দিকে রওনা হয়েছিলেন,
২৮:৮ তখন এসৌ বুঝলেন যে, কানানীয় মেয়েরা তাঁর পিতা ইসায়াকের কাছে গ্রহণীয় নয়;
২৮:৯ তাই ইসমায়েলের কাছে গিয়ে তিনি তাঁর দু’জন স্ত্রী ছাড়া আব্রাহামের ছেলে ইসমায়েলের মেয়ে নেবায়োতের বোন সেই মাহালাতকেও বধূরূপে গ্রহণ করলেন।
২৮:১০ যাকোব বের্শেবা ছেড়ে হারানের দিকে রওনা হলেন।
২৮:১১ এক জায়গায় এসে তিনি, সূর্য অস্ত গেছে ব’লে সেখানে রাত কাটালেন; সেই জায়গার একটা পাথর নিয়ে মাথার নিচে বালিশ হিসাবে রেখে তিনি সেখানে শুয়ে পড়লেন।
২৮:১২ তিনি স্বপ্ন দেখলেন, একটা সিঁড়ি, যার এক মাথা পৃথিবীতে স্থাপিত আর এক মাথা স্বর্গ স্পর্শ করে। আর দেখ, তা বেয়ে পরমেশ্বরের দূতেরা ওঠা-নামা করছেন।
২৮:১৩ আর দেখ, প্রভু তাঁর সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন; তিনি বললেন, ‘আমি প্রভু, তোমার পিতা আব্রাহামের পরমেশ্বর ও ইসায়াকের পরমেশ্বর; এই যে দেশের মাটিতে তুমি শুয়ে আছ, তা আমি তোমাকে ও তোমার বংশধরদের দেব।
২৮:১৪ তোমার বংশ হবে পৃথিবীর বালুকণার মত, এবং তুমি পশ্চিম ও পুবে, উত্তর ও দক্ষিণে বিস্তার লাভ করবে; এবং তোমাতে ও তোমার বংশে পৃথিবীর সকল গোত্র আশিসপ্রাপ্ত হবে।
২৮:১৫ দেখ, আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি, তুমি যেইখানে যাবে, সেইখানে তোমাকে রক্ষা করব; পরে আমি তোমাকে এই দেশে আবার ফিরিয়ে আনব, কেননা তোমাকে যা কিছু বললাম, তা না করা পর্যন্ত আমি তোমাকে ত্যাগ করব না।’
২৮:১৬ তখন তাঁর ঘুম ভেঙে গেলে যাকোব বললেন, ‘নিশ্চয়ই প্রভু এখানে আছেন, আর আমি তা জানতাম না!’
২৮:১৭ ভয়ে অভিভূত হয়ে তিনি বললেন, ‘এই স্থান কেমন ভয়ঙ্কর! এ তো পরমেশ্বরের গৃহ ছাড়া আর কিছুই নয়, এ তো স্বর্গের দ্বার!’
২৮:১৮ খুব সকালে উঠে যাকোব, যে পাথর মাথার নিচে বালিশ হিসাবে রেখেছিলেন, তা একটা স্মৃতিস্তম্ভরূপে দাঁড় করিয়ে তার উপরে তেল ঢেলে দিলেন।
২৮:১৯ তিনি জায়গাটার নাম বেথেল রাখলেন, কিন্তু আগে শহরটার নাম ছিল লুজ।
২৮:২০ যাকোব এই বলে মানত করলেন, ‘পরমেশ্বর যদি আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকেন, এবং এই যে যাত্রা করছি, তিনি যদি সেই যাত্রাপথে আমাকে রক্ষা করেন, তিনি যদি আমাকে আহারের জন্য খাদ্য ও পরনের জন্য বস্ত্র দান করেন,
২৮:২১ আর আমি যদি সুষ্ঠুভাবে পিতৃগৃহে ফিরে আসতে পারি, তবে প্রভু হবেন আমার আপন পরমেশ্বর।
২৮:২২ এই যে পাথর আমি স্মৃতিস্তম্ভরূপে দাঁড় করিয়ে রেখেছি, তা পরমেশ্বরের একটি গৃহ হবে; আর তুমি আমাকে যা কিছু দেবে, আমি বিশ্বস্তভাবে তার দশমাংশ তোমাকে অর্পণ করব।’
২৯:১ যাকোব পথে পা বাড়িয়ে পুব-বাসীদের দেশে গেলেন।
২৯:২ সেখানে দেখলেন, খোলা মাঠে একটা কুয়ো রয়েছে, আর দেখ, সেটার ধারে মেষের তিনটে পাল শুয়ে রয়েছে, কেননা রাখালেরা সেই কুয়োতে মেষপালগুলোকে জল খাওয়াত; কিন্তু সেই কুয়োর মুখে যে পাথর ছিল, তা খুবই বড় ছিল।
২৯:৩ পালগুলো সবই মিলে সেই জায়গায় একবার জড় হলে রাখালেরা কুয়োর মুখ থেকে পাথরটা সরিয়ে দিয়ে মেষগুলোকে জল খাওয়াত, পরে আবার কুয়োর মুখে ঠিক জায়গায় পাথরটা বসিয়ে দিত।
২৯:৪ যাকোব তাদের বললেন, ‘ভাই, তোমরা কোন্‌ জায়গার মানুষ?’ তারা উত্তরে বলল, ‘আমরা হারানের মানুষ।’
২৯:৫ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কি নাহোরের সন্তান লাবানকে চেন?’ তারা উত্তরে বলল, ‘হ্যাঁ, চিনি।’
২৯:৬ তিনি আরও জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তিনি কি ভাল আছেন?’ তারা উত্তরে বলল, ‘হ্যাঁ, ভাল আছেন। দেখুন, তাঁর মেয়ে রাখেল মেষপাল নিয়ে আসছেন।’
২৯:৭ তখন তিনি বললেন, ‘কিন্তু এখনও অনেক বেলা আছে; পশুপাল জড় করার সময় এখনও হয়নি; তোমরা মেষগুলোকে জল খাওয়াও, তারপর আবার চরাতে নিয়ে যাও।’
২৯:৮ তারা বলল, ‘সকল পাল জড় না করা পর্যন্ত ও কুয়োর মুখ থেকে পাথরখানা সরানো না হওয়া পর্যন্ত আমরা তা করতে পারি না; তখনই আমরা মেষগুলোকে জল খাওয়াব।’
২৯:৯ তিনি তাদের সঙ্গে তখনও কথা বলছেন, এমন সময় রাখেল তাঁর পিতার মেষপাল নিয়ে এসে পৌঁছলেন, কেননা তিনি মেষপালিকা ছিলেন।
২৯:১০ যাকোব তাঁর মামা লাবানের মেয়ে রাখেলকে ও তাঁর মামার মেষপালকে দেখামাত্র কাছে এগিয়ে গেলেন, ও কুয়োর মুখ থেকে পাথরখানা সরিয়ে দিয়ে তাঁর মামা লাবানের মেষপালকে জল খাওয়ালেন।
২৯:১১ পরে যাকোব রাখেলকে চুম্বন করে জোর গলায় কাঁদতে লাগলেন।
২৯:১২ তিনি নিজে যে তাঁর পিতার জ্ঞাতি ও রেবেকার ছেলে, যাকোব রাখেলকে এই পরিচয় দিলে রাখেল দৌড়ে গিয়ে পিতাকে একথা জানিয়ে দিলেন।
২৯:১৩ নিজের ভাগনে যাকোবের কথা শুনতে পেয়ে লাবান ছুটে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন, তাঁকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করলেন, ও নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন; আর তিনি লাবানকে সমস্ত ঘটনার কথা বর্ণনা করলেন।
২৯:১৪ তখন লাবান বললেন, ‘তুমি সত্যিই আমার নিজের হাড় ও আমার নিজের মাংস!’
যাকোব তাঁর ঘরে এক মাস থাকবার পর
২৯:১৫ লাবান যাকোবকে বললেন, ‘আমার জ্ঞাতি বলে তোমাকে কি বিনামূল্যেই আমার জন্য কাজ করতে হবে? আমাকে বল, তোমার মজুরি কেমন হওয়া উচিত?’
২৯:১৬ এখন, লাবানের দুই মেয়ে ছিলেন; জ্যেষ্ঠজনের নাম লিয়া ও কনিষ্ঠজনের নাম রাখেল।
২৯:১৭ লিয়ার চোখ কোমল ছিল, কিন্তু রাখেলের গঠন খুবই সুন্দর ছিল, আর তাঁর চেহারা আকর্ষণীয়;
২৯:১৮ তাছাড়া যাকোব রাখেলকেই ভালবাসতেন, তাই তিনি উত্তরে বললেন, ‘আপনার কনিষ্ঠা কন্যা রাখেলের বিনিময়ে আমি সাত বছর আপনার জন্য কাজ করব।’
২৯:১৯ লাবান বললেন, ‘আমার পক্ষে তাকে অচেনা পাত্রকে দান করার চেয়ে তোমাকেই দান করা ভাল; আমার কাছে থাক।’
২৯:২০ আর যাকোব রাখেলের জন্য সাত বছর কাজ করলেন; রাখেলের প্রতি তাঁর আসক্তি এমন ছিল যে, এক এক বছর তাঁর কাছে এক এক দিন মনে হল।
২৯:২১ পরে যাকোব লাবানকে বললেন, ‘এবার আমার কনে আমাকে দিন, কারণ আমার কাল পূর্ণ হয়েছে আর আমি তাঁর সঙ্গে মিলিত হতে ইচ্ছা করি।’
২৯:২২ লাবান স্থানীয় সকল লোককে একত্র করে একটা ভোজসভার আয়োজন করলেন।
২৯:২৩ কিন্তু সন্ধ্যা হলে তিনি তাঁর মেয়ে লিয়াকে নিয়ে তাঁর কাছে এনে দিলেন, আর যাকোব তাঁরই সঙ্গে শুইলেন।
২৯:২৪ আপন মেয়ে লিয়াকে লাবান দাসী হিসাবে তাঁর আপন দাসী সিল্পাকে দিলেন।
২৯:২৫ সকাল হলে, দেখ, তিনি লিয়া! তখন যাকোব লাবানকে বললেন, ‘আমার সঙ্গে আপনি এ কেমন ব্যবহার করলেন? আমি রাখেলেরই বিনিময়ে কি আপনার জন্য কাজ করিনি? আমাকে কেন প্রবঞ্চনা করলেন?’
২৯:২৬ লাবান উত্তরে বললেন, ‘জ্যেষ্ঠজনের আগে কনিষ্ঠজনকে দেওয়া আমাদের এখানকার প্রথা নয়।
২৯:২৭ তুমি এই বিবাহ-সপ্তাহ পূর্ণ কর, পরে আরও সাত বছর আমার প্রতি তোমার কাজের বিনিময়ে আমি ওকেও তোমাকে দেব।’
২৯:২৮ যাকোব সেইমত করলেন: তাঁর বিবাহ-সপ্তাহ পূর্ণ করলেন, পরে লাবান তাঁর সঙ্গে আপন মেয়ে রাখেলের বিবাহ দিলেন।
২৯:২৯ রাখেলকে লাবান দাসী হিসাবে তাঁর আপন দাসী বিল্হাকে দিলেন।
২৯:৩০ যাকোব রাখেলের সঙ্গেও শুইলেন, এবং লিয়ার চেয়ে রাখেলকেই তিনি বেশি ভালবাসলেন। তিনি আরও সাত বছর লাবানের জন্য কাজ করলেন।
২৯:৩১ যখন প্রভু দেখলেন যে লিয়া অবজ্ঞার পাত্রী, তখন তাঁর গর্ভ উর্বর করলেন, কিন্তু রাখেল বন্ধ্যা হয়ে থাকলেন।
২৯:৩২ লিয়া গর্ভবতী হয়ে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করলেন, ও তাঁর নাম রূবেন রাখলেন, কেননা তিনি বললেন, ‘প্রভু আমার অবমাননা দেখেছেন; এখন আমার স্বামী নিশ্চয়ই আমাকে ভালবাসবেন।’
২৯:৩৩ তিনি আবার গর্ভবতী হয়ে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে বললেন, ‘প্রভু শুনেছেন যে আমি অবজ্ঞার পাত্রী, তাই আমাকে এই সন্তানকেও দিলেন;’ আর তাঁর নাম সিমেয়োন রাখলেন।
২৯:৩৪ আবার গর্ভবতী হয়ে তিনি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে বললেন, ‘এবার আমার স্বামী নিশ্চয়ই আমার প্রতি আসক্ত হবেন, কারণ আমি তাঁর ঘরে তিন সন্তান প্রসব করেছি;’ এজন্য তাঁর নাম লেবি রাখা হল।
২৯:৩৫ পরে তিনি আবার গর্ভবতী হয়ে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে বললেন, ‘এবার আমি প্রভুর স্তবগান করব।’ এজন্য তিনি তাঁর নাম যুদা রাখলেন। এরপরে তাঁর আর গর্ভ হল না।
৩০:১ রাখেল যখন দেখলেন, যাকোবের ঘরে তাঁকে পুত্রসন্তান জন্মাতে দেওয়া হয় না, তখন বোনের প্রতি ঈর্ষা বোধ করলেন, ও যাকোবকে বললেন, ‘আমাকে সন্তান দাও, নতুবা আমি মরব।’
৩০:২ তাতে রাখেলের উপরে যাকোব ক্রোধে জ্বলে উঠলেন; তিনি বললেন, ‘আমি কি পরমেশ্বরের স্থান দখল করছি? তিনিই তো তোমাকে তোমার মাতৃত্ব দিতে অস্বীকার করেছেন!’
৩০:৩ তখন রাখেল বললেন, ‘এই যে আমার দাসী বিল্হা, ওর সঙ্গে শোও, ও প্রসব করলে পুত্র যেন আমার হাঁটুতেই ভূমিষ্ঠ হয়, আর ওর মধ্য দিয়ে আমিও যেন পুত্রবতী হই।’
৩০:৪ তাই তিনি তাঁকে তাঁর নিজের দাসী বিল্হাকে স্ত্রীরূপে দিলেন ও যাকোব তার সঙ্গে শুইলেন।
৩০:৫ বিল্হা গর্ভবতী হয়ে যাকোবের ঘরে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করল।
৩০:৬ তখন রাখেল বললেন, ‘এবার পরমেশ্বর আমার পক্ষে বিচার করলেন; হ্যাঁ, তিনি সাড়া দিয়ে আমাকে একটি পুত্রসন্তান দান করলেন।’ এজন্য তিনি তার নাম দান রাখলেন।
৩০:৭ রাখেলের দাসী বিল্হা আবার গর্ভবতী হয়ে যাকোবের ঘরে দ্বিতীয় এক পুত্রসন্তান প্রসব করল।
৩০:৮ তখন রাখেল বললেন, ‘আমি আমার বোনের সঙ্গে অতি কঠিন লড়াই করে জয়লাভ করলাম।’ তাই তিনি তার নাম নেফ্তালি রাখলেন।
৩০:৯ লিয়া যখন বুঝলেন, তাঁর গর্ভনিবৃত্তি হয়েছে, তখন নিজ দাসী সিল্পাকে নিয়ে যাকোবকে স্ত্রীরূপে দিলেন।
৩০:১০ আর লিয়ার দাসী সিল্পা যাকোবের ঘরে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করল।
৩০:১১ তখন লিয়া বলে উঠলেন, ‘কেমন সৌভাগ্য!’ তাই তার নাম গাদ রাখলেন।
৩০:১২ লিয়ার দাসী সিল্পা যাকোবের ঘরে দ্বিতীয় এক পুত্রসন্তান প্রসব করল।
৩০:১৩ তখন লিয়া বললেন, ‘আহা, আমার কেমন সুখ! নারীকুল আমাকে সুখী বলবে।’ তাই তিনি তার নাম আসের রাখলেন।
৩০:১৪ গম কাটার সময়ে রূবেন একদিন বেরিয়ে গিয়ে মাঠে প্রেমফল পেয়ে তাঁর মা লিয়াকে এনে দিল; রাখেল লিয়াকে বললেন, ‘তোমার ছেলের কিছুটা প্রেমফল আমাকে দাও না!’
৩০:১৫ লিয়া বললেন, ‘তুমি আমার স্বামীকে কেড়ে নিয়েছ, এ কি এত সামান্য ব্যাপার যে, আমার ছেলের প্রেমফলও কেড়ে নিতে চাও?’ তখন রাখেল বললেন, ‘আচ্ছা, তোমার ছেলের প্রেমফলের পরিবর্তে তিনি আজ রাতে তোমার সঙ্গে শয়ন করুন।’
৩০:১৬ সন্ধ্যাবেলায় যাকোব যখন মাঠ থেকে ফিরে এলেন, তখন লিয়া তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বের হয়ে তাঁকে বললেন, ‘আমারই কাছে আসতে হবে, কারণ আমি আমার ছেলের প্রেমফলের মূল্যে তোমাকে পাবার অধিকার কিনেছি।’ তাই সেই রাতে তিনি তাঁর সঙ্গে শুইলেন।
৩০:১৭ পরমেশ্বর লিয়াকে সাড়া দিলেন, আর তিনি গর্ভবতী হয়ে যাকোবের ঘরে পঞ্চম এক পুত্রসন্তান প্রসব করলেন।
৩০:১৮ তখন লিয়া বললেন, ‘স্বামীকে আমি আমার নিজের দাসী দিয়েছিলাম বিধায় পরমেশ্বর আমাকে এর মজুরি দিলেন।’ তাই তিনি তার নাম ইসাখার রাখলেন।
৩০:১৯ লিয়া আবার গর্ভবতী হয়ে যাকোবের ঘরে ষষ্ঠ এক পুত্রসন্তান প্রসব করলেন;
৩০:২০ লিয়া বললেন, ‘পরমেশ্বর আমাকে উত্তম পুরস্কার দিলেন; এবার আমার স্বামী আমার উপর যথেষ্ট সম্মান আরোপ করবেন, কারণ আমি তাঁর ঘরে ছয়টি পুত্রসন্তান প্রসব করেছি।’ তাই তিনি তার নাম জাবুলোন রাখলেন।
৩০:২১ তারপর তিনি এক কন্যা প্রসব করলেন, আর তার নাম দীণা রাখলেন।
৩০:২২ পরমেশ্বর রাখেলকেও স্মরণ করলেন; পরমেশ্বর তাঁকে সাড়া দিয়ে তাঁর গর্ভ উন্মুক্ত করলেন।
৩০:২৩ গর্ভবতী হয়ে রাখেল একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে বললেন, ‘পরমেশ্বর আমার দুর্নাম দূর করে দিয়েছেন।’
৩০:২৪ তিনি তার নাম যোসেফ রাখলেন; তিনি বললেন, ‘প্রভু আমাকে আর একটি পুত্রসন্তান দিন!’
৩০:২৫ রাখেল যোসেফকে জন্ম দেওয়ার পর যাকোব লাবানকে বললেন, ‘এবার আমাকে বিদায় দিন, যেন আমি নিজ ঘরে, নিজ দেশে ফিরে যেতে পারি।
৩০:২৬ যাদের বিনিময়ে আমি আপনার জন্য কাজ করেছি, আমার সেই বধূদের, এবং আমার সন্তানদেরও আমার হাতে তুলে দিয়ে আমাকে যেতে দিন। আপনি তো জানেন, আপনার জন্য আমি কেমন পরিশ্রম করেছি।’
৩০:২৭ লাবান তাঁকে বললেন, ‘আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হয়ে থাকি, তবে থাক; আমি তো দৈববাণী দ্বারা জানতে পেরেছি যে, তোমার খাতিরেই প্রভু আমাকে আশীর্বাদ করলেন।’
৩০:২৮ তিনি আরও বললেন, ‘তোমার মজুরি স্থির করে আমাকে বল, আমি দেবই।’
৩০:২৯ উত্তরে যাকোব বললেন, ‘আপনি নিজেই জানেন, আমি আপনার জন্য কেমন পরিশ্রম করেছি ও আমার কাজের ফলে আপনার সম্পদের কেমন বাড়তি হয়েছে;
৩০:৩০ কেননা আমার আসবার আগে আপনার যে অল্প সম্পত্তি ছিল, তা বৃদ্ধি পেয়ে এখন প্রচুর মাত্রায় বেড়েছে; আর আমি যেখানে পা বাড়িয়েছি, সেখানে প্রভু আপনাকে আশীর্বাদ করেছেন। কিন্তু আমি আমার নিজের পরিবারের জন্য কবে কাজ করব?’
৩০:৩১ লাবান বললেন, ‘আমি তোমাকে কী দেব?’ উত্তরে যাকোব বললেন, ‘আমাকে কিছুই দেবেন না; কিন্তু আপনি যদি আমার জন্য এইটুকু কাজ করেন, তবে আমি আপনার পশুপাল আবার চরাব ও পালন করব।
৩০:৩২ আজ আমাকে আপনার সমস্ত পশুগুলোর মধ্য দিয়ে যেতে দিন, আর আপনি মেষগুলির মধ্যে বিন্দুচিহ্নিত ও চিত্রবিচিত্র ও কৃষ্ণবর্ণগুলোকে, এবং ছাগদের মধ্যে চিত্রবিচিত্র ও বিন্দুচিহ্নিতগুলোকে পৃথক করে রাখবেন; সেগুলিই হবে আমার মজুরি।
৩০:৩৩ পরবর্তীকালে আমার নিজের সততাই আমার পক্ষে জবাবদিহি করবে: যখন আপনি আমার মজুরি পরীক্ষা করতে আসবেন, তখন ছাগদের মধ্যে বিন্দুচিহ্নিত বা চিত্রবিচিত্র নয় ও মেষদের মধ্যে কৃষ্ণবর্ণ নয় যা কিছু থাকবে, তা আমার চুরি করা বলে গণ্য হবে।’
৩০:৩৪ লাবান বললেন, ‘বেশ, তোমার কথা অনুসারে হোক!’
৩০:৩৫ সেদিন তিনি রেখাঙ্কিত ও চিত্রবিচিত্র যত ছাগ এবং বিন্দুচিহ্নিত ও চিত্রবিচিত্র যত ছাগীকে—যেগুলোর সামান্য সাদা রঙ ছিল, সেগুলোকেও এবং কৃষ্ণবর্ণ মেষগুলোকে তিনি পৃথক করে তাঁর ছেলেদের হাতে তুলে দিলেন,
৩০:৩৬ এবং নিজের ও যাকোবের মধ্যে তিন দিনের পথ ব্যবধান রাখলেন। এদিকে যাকোব লাবানের বাকি পশুপাল চরাচ্ছিলেন।
৩০:৩৭ কিন্তু যাকোব ঝাউগাছ, বাদাম ও সাধারণ গাছের সরস শাখা কেটে তার ছাল খুলে কাঠের সাদা রেখা বের করলেন ও শাখার সাদা অংশ অনাবৃত রাখলেন।
৩০:৩৮ পরে পশুপাল জল খাবার জন্য যেখানে আসে, সেখানে পালের চোখের সামনে গড়ার মধ্যে ছাল খোলা ওই শাখাগুলো দিলেন। যেহেতু জল খাবার সময়ে পশুগুলোর মিলন হল,
৩০:৩৯ সেজন্য সেই শাখার সামনেই পশুগুলোর মিলন হল, এবং সেই ছাগীগুলো রেখাঙ্কিত, বিন্দুচিহ্নিত ও চিত্রবিচিত্র বাচ্চা জন্ম দিল।
৩০:৪০ মেষগুলিকে কিন্তু যাকোব আলাদা করে রাখলেন, এবং এমনটি করলেন, যেন মেষীগুলি লাবানের রেখাঙ্কিত ও কৃষ্ণবর্ণ মেষের দিকে দৃষ্টি রাখে; আর যত পাল তিনি এইভাবে গঠন করলেন, সেই সমস্ত পাল লাবানের পালের সঙ্গে রাখলেন না।
৩০:৪১ আর যতবার বলবান পশুগুলোর মিলন হচ্ছিল, ততবার যাকোব গড়ার মধ্যে পশুদের চোখের সামনে ওই শাখা রাখছিলেন, তারা যেন ওই শাখার সামনেই বাচ্চা দেয়;
৩০:৪২ কিন্তু দুর্বল পশুগুলোর চোখের সামনে রাখছিলেন না; ফলে দুর্বল পশুগুলো ছিল লাবানের জন্য ও বলবানগুলো ছিল যাকোবের জন্য।
৩০:৪৩ যাকোব অতি মাত্রায় ধনবান হয়ে উঠলেন, এবং যথেষ্ট পশু ও দাস-দাসী এবং উট ও গাধার মালিক হলেন।
৩১:১ যাকোব জানতে পারলেন যে, লাবানের ছেলেরা একথা বলছিল, ‘আমাদের পিতার যা কিছু ছিল, তা যাকোব কেড়ে নিয়েছে; আমাদের পিতার যা কিছু ছিল, তা নিয়েই তার এই সমস্ত ঐশ্বর্য হয়েছে।’
৩১:২ যাকোব লাবানের মুখও লক্ষ করলেন; আর দেখ, তা তাঁর প্রতি আর আগেকার মত নয়।
৩১:৩ প্রভু যাকোবকে বললেন, ‘তোমার পিতৃপুরুষদের দেশে, তোমার মাতৃভূমিতে ফিরে যাও, আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকব।’
৩১:৪ তাই লোক পাঠিয়ে যাকোব রাখেল ও লিয়াকে মাঠে তাঁর পশুপালদের কাছে ডাকিয়ে এনে তাঁদের বললেন,
৩১:৫ ‘আমি তোমাদের পিতার মুখ লক্ষ করে বুঝতে পেরেছি, তা আমার প্রতি আর আগেকার মত নয়, কিন্তু তবু আমার পিতার পরমেশ্বর আমার সঙ্গে থাকলেন।
৩১:৬ তোমরা নিজেরা তো জান, আমি সমস্ত শক্তি দিয়েই তোমাদের পিতার জন্য কাজ করেছি,
৩১:৭ অথচ তোমাদের পিতা আমাকে প্রবঞ্চনা করে দশবার আমার মজুরি পাল্টিয়ে দিয়েছেন; কিন্তু পরমেশ্বর তাঁকে আমার ক্ষতি করতে দেননি।
৩১:৮ হ্যাঁ, তিনি যদি বলতেন, “বিন্দুচিহ্নিত পশুগুলোই হবে তোমার মজুরি,” সমস্ত পাল বিন্দুচিহ্নিত বাচ্চা দিত; যদি বলতেন, “রেখাঙ্কিত পশুগুলোই হবে তোমার মজুরি,” সমস্ত মেষিকা রেখাঙ্কিত বাচ্চা দিত।
৩১:৯ এইভাবে পরমেশ্বর তোমাদের পিতার কাছ থেকে পশু নিয়ে তা আমাকে দিয়েছেন।
৩১:১০ পশুদের গর্ভধারণ-কালে আমি একদিন স্বপ্নে চোখ তুলে চাইলাম, আর দেখ, পালের মধ্যে মাদী পশুদের উপরে যত মদ্দা পশু উঠছে, সবগুলিই রেখাঙ্কিত, বিন্দুচিহ্নিত ও চিত্রবিচিত্র।
৩১:১১ পরমেশ্বরের দূত স্বপ্নে আমাকে বললেন, “যাকোব!” আমি উত্তরে বললাম, এই যে আমি!
৩১:১২ তিনি বলে চললেন, “চোখ তুলে চাও, মাদী পশুদের উপরে যত মদ্দা পশু উঠছে, সবগুলিই রেখাঙ্কিত, বিন্দুচিহ্নিত ও চিত্রবিচিত্র, কেননা লাবান তোমার প্রতি যা কিছু করে এসেছে, আমি তা সবই দেখলাম।
৩১:১৩ আমি সেই ঈশ্বর যাঁর জন্য তুমি বেথেলে একটা স্মৃতিস্তম্ভ অভিষিক্ত করেছিলে, সেখানে আমার কাছে মানতও করেছিলে। এখন ওঠ, এই দেশ ছেড়ে নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাও।”’
৩১:১৪ তখন রাখেল ও লিয়া উত্তরে তাঁকে বললেন, ‘পিতার বাড়িতে আমাদের কি আর কিছু অংশ ও অধিকার আছে?
৩১:১৫ আমরা তাঁর কাছে কি বিদেশিনী বলে গণ্য নই? তিনি তো আমাদের বিক্রি করেছেন, আর আমাদের রুপো নিজেই ভোগ করেছেন!
৩১:১৬ পরমেশ্বর আমাদের পিতার কাছ থেকে যা কিছু ধন কেড়ে নিয়েছেন, তা সবই আমাদের ও আমাদের সন্তানদের। সুতরাং পরমেশ্বর তোমাকে যা কিছু বলেছেন, তুমি তা কর।’
৩১:১৭ তখন যাকোব উঠে, কানান দেশে নিজের পিতা ইসায়াকের কাছে ফিরে যাবার জন্য, নিজের সন্তানদের ও বধূদের উটের পিঠে চড়িয়ে
৩১:১৮ নিজের সঞ্চয় করা যত পশু ও ধন—পাদ্দান-আরামে যে পশু ও যে সম্পত্তি সঞ্চয় করেছিলেন—তা সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন।
৩১:১৯ সেসময়ে লাবান মেষলোম কাটতে গিয়েছিলেন; তখন রাখেল, তাঁর পিতার যে ঠাকুরগুলো ছিল, সেগুলো কেড়ে নিলেন।
৩১:২০ তাছাড়া যাকোব নিজের পলায়নের কোন সংবাদ না দিয়ে আরামীয় লাবানের মনোযোগ এড়ালেন;
৩১:২১ ফলে তিনি নিজের সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে পালাতে পারলেন। তাই তিনি উঠে নদী পার হয়ে গিলেয়াদ পর্বতমালার দিকে রওনা হলেন।
৩১:২২ তিন দিন পরে লাবানকে সংবাদ দেওয়া হল যে, যাকোব পালিয়ে গেছেন;
৩১:২৩ নিজের ভাইদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সাত দিন ধরে তাঁর পিছনে ধাওয়া করলেন এবং গিলেয়াদ পর্বতমালায় তাঁর নাগাল পেলেন।
৩১:২৪ কিন্তু পরমেশ্বর রাত্রিকালীন স্বপ্নে আরামীয় লাবানের কাছে এসে উপস্থিত হয়ে তাঁকে বললেন, ‘সাবধান, যাকোবকে তুমি মঙ্গলকর কি অমঙ্গলকর কিছুই বলবে না!’
৩১:২৫ তাই লাবান যখন যাকোবের কাছে এসে পৌঁছলেন, তখন যাকোব পাহাড়ের উপরে তাঁবু গেড়েছিলেন; তাই লাবান নিজ ভাইদের সঙ্গে গিলেয়াদ পর্বতমালার উপরে তাঁবু গাড়লেন।
৩১:২৬ লাবান যাকোবকে বললেন, ‘তুমি কেমন ব্যবহার করলে? আমার মনোযোগ এড়িয়ে তুমি তো আমার মেয়েদের যুদ্ধ-বন্দিদের মতই নিয়ে এলে!
৩১:২৭ আমাকে বঞ্চনা করে তুমি কেন গোপনে পালিয়ে এলে ও আমাকে কোন সংবাদ দিলে না? দিলে আমি উৎসব ও সঙ্গীতে এবং খঞ্জনি ও বীণার সুরে সুরেই তোমাকে বিদায় দিতাম।
৩১:২৮ আমার আপন ছেলেমেয়েদেরও তুমি আমাকে চুম্বন করতে দিলে না! সত্যি তুমি নির্বোধের মতই ব্যবহার করেছ।
৩১:২৯ তোমার অমঙ্গল করতে আমার হাতের সামর্থ্য আছে, কিন্তু গত রাতে তোমাদের পৈতৃক ঈশ্বর আমাকে বললেন, “সাবধান, যাকোবকে তুমি মঙ্গলকর কি অমঙ্গলকর কিছুই বলবে না!”
৩১:৩০ এখন পিতৃগৃহে যাবার আকাঙ্ক্ষায় মায়া বোধ করায় তুমি রওনা হলে বটে, কিন্তু আমার দেবতাদের কেন চুরি করলে?’
৩১:৩১ উত্তরে যাকোব লাবানকে বললেন, ‘আমার ভয় হয়েছিল; ভাবছিলাম, কি জানি আপনার মেয়েদের আপনি জোর করেই আমার কাছ থেকে কেড়ে নেবেন।
৩১:৩২ যাই হোক, এখন আপনি যার কাছে আপনার দেবতাদের পাবেন, সে বাঁচবে না। আমাদের ভাইদের সাক্ষাতে খুঁজে আমার কাছে আপনারই যা কিছু থাকতে পারে, তা নিন।’ আসলে যাকোব জানতেন না যে, রাখেল-ই সেগুলো চুরি করেছিলেন।
৩১:৩৩ তখন লাবান যাকোবের তাঁবুতে এবং পরে লিয়ার তাঁবুতে ও দুই দাসীর তাঁবুতে ঢুকলেন, কিন্তু কিছুই পেলেন না। তারপর লিয়ার তাঁবু থেকে তিনি রাখেলের তাঁবুতে ঢুকলেন।
৩১:৩৪ রাখেল সেই ঠাকুরগুলোকে নিয়ে উটের একটা গদির ভিতরে রেখে সেগুলোর উপরে বসে ছিলেন; লাবান তাঁর তাঁবুর সর্বত্র খোঁজাখুঁজি করলেও সেগুলোকে পেলেন না।
৩১:৩৫ তখন তিনি পিতাকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘প্রভু আমার, আপনার সামনে আমি যে উঠতে পারলাম না, এতে ক্ষুব্ধ হবেন না, কেননা আমি ঋতু অবস্থায় আছি।’ ফলে লাবান খোঁজ করলেও সেই ঠাকুরগুলোকে পেলেন না।
৩১:৩৬ তখন যাকোব ক্রুদ্ধ হয়ে লাবানের সঙ্গে ঝগড়া করতে লাগলেন; তাঁকে বললেন, ‘আমার অপরাধ কী, আমার পাপও কী যে, জ্বলে উঠে আপনি আমার পিছু পিছু ধাওয়া করেছেন?
৩১:৩৭ আমার সব দ্রব্য-সামগ্রী খোঁজাখুঁজি করে আপনি এখন আপনার বাড়ির কোন্‌ জিনিস পেলেন? আমার ও আপনার ভাইদের সামনে তা রাখুন, এঁরাই দু’পক্ষের বিচার করুন।
৩১:৩৮ এই কুড়ি বছর আমি আপনার কাছে কাটিয়েছি; আপনার মেষীদের বা ছাগীদের গর্ভপাত হয়নি, আর আমি আপনার পালের ভেড়া কখনও খাইনি।
৩১:৩৯ বন্য পশুর মুখে বিদীর্ণ কোন মেষও আপনার কাছে কখনও আনিনি: এর ক্ষতি নিজেই বহন করতাম, এবং দিনে বা রাতে যা চুরি হত, তার বিনিময় আপনি আমার কাছ থেকেই নিতেন।
৩১:৪০ আমার এমন দশা ছিল যে, দিনমানে উত্তাপ ও রাত্রিবেলায় শীত আমাকে গ্রাস করত; ঘুম আমার চোখ থেকে দূরে পালিয়ে যেত।
৩১:৪১ এই কুড়ি বছর আমি আপনার বাড়িতে ছিলাম; আপনার দুই মেয়ের জন্য চৌদ্দ বছর, ও আপনার পশুপালের জন্য ছ’বছর কাজ করেছি, আর আপনি এর মধ্যে দশ বারই আমার মজুরি পাল্টিয়েছেন।
৩১:৪২ আমার পিতার পরমেশ্বর, আব্রাহামের পরমেশ্বর ও ইসায়াকের সেই ভীতিপ্রদ যদি আমার পক্ষে না থাকতেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি এখন আমাকে খালি হাতে বিদায় দিতেন! কিন্তু পরমেশ্বর আমার মনঃপীড়া ও আমার হাতের শ্রম দেখেছেন, এজন্য গত রাতে বিচারের নিষ্পত্তি করলেন।’
৩১:৪৩ তখন লাবান যাকোবকে উত্তরে বললেন, ‘এই মেয়েরা আমারই মেয়ে, এই ছেলেরা আমারই ছেলে, আর এই পশুপাল আমারই পশুপাল; তুমি যা কিছু দেখছ, এ সবই আমার। এখন আমার এই মেয়েদের এবং যাদের এরা প্রসব করেছে, তাদের সেই ছেলেদের আমি কি করব?
৩১:৪৪ এসো, আমি ও তুমি নিজেদের মধ্যে একটা সন্ধি স্থির করি, আমার ও তোমার মধ্যে তা সাক্ষীরূপে দাঁড়াক।’
৩১:৪৫ তখন যাকোব একটা পাথর নিয়ে স্তম্ভরূপে দাঁড় করালেন,
৩১:৪৬ যাকোব তাঁর জ্ঞাতিভাইদের বললেন, ‘আপনারাও পাথর কুড়িয়ে নিন।’ তাই তাঁরা পাথর জড় করে এক শিলাস্তূপ করলেন, এবং সেই জায়গায় ওই স্তূপের কাছে খাওয়া-দাওয়া করলেন।
৩১:৪৭ লাবান তার নাম যেগার-সাহাদুথা রাখলেন, অপরদিকে যাকোব তার নাম রাখলেন গাল্‌-এদ।
৩১:৪৮ লাবান বললেন, ‘এই স্তূপ আজ তোমার ও আমার মধ্যে সাক্ষী হোক।’ এজন্য তার নাম গাল্‌-এদ
৩১:৪৯ ও মিস্পাও রাখা হল, কেননা তিনি বললেন, ‘আমরা একে অপরের কাছে অদৃশ্য থাকলেও প্রভুই আমার ও তোমার মধ্যে প্রহরী থাকবেন।
৩১:৫০ তুমি যদি আমার মেয়েদের প্রতি দুর্ব্যবহার কর, আর যদি আমার এই মেয়েদের ছাড়া অন্য স্ত্রীকে বিবাহ কর, তবে কোন মানুষ আমাদের মধ্যে থাকবে না বটে, কিন্তু স্বয়ং পরমেশ্বর আমার ও তোমার মধ্যে সাক্ষী হবেন।’
৩১:৫১ লাবান যাকোবকে আরও বললেন, ‘এই স্তূপ দেখ, এই স্তম্ভও দেখ যা আমি আমার ও তোমার মধ্যে দাঁড় করালাম।
৩১:৫২ আমিও এই রাশি পার হয়ে তোমার দিকে যাব না, তুমিও এই রাশি আর এই স্তম্ভ পার হয়ে আমার দিকে আসবে না, অন্যথা অমঙ্গল ঘটবে—এর সাক্ষী এই রাশি, আর এর সাক্ষী এই স্তম্ভ।
৩১:৫৩ আব্রাহামের পরমেশ্বর ও নাহোরের পরমেশ্বর—তিনি তো ছিলেন তাঁদের পিতার পরমেশ্বর—আমাদের মধ্যে বিচার করবেন।’ তখন যাকোব তাঁর পিতা ইসায়াকের সেই ভীতিপ্রদের দিব্যি দিয়ে শপথ করলেন।
৩১:৫৪ যাকোব সেই পর্বতে বলি উৎসর্গ করে খাওয়া-দাওয়া করতে তাঁর জ্ঞাতিভাইদের নিমন্ত্রণ করলেন; আর তাঁরা খাওয়া-দাওয়া করে সেই পর্বতে রাত কাটালেন।
৩২:১ পরদিন খুব সকালে উঠে লাবান নিজের পুত্রকন্যাদের চুম্বন করে তাদের আশীর্বাদ করলেন। পরে লাবান রওনা হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন।
৩২:২ যাকোব নিজের পথে যেতে যেতে পরমেশ্বরের দূতেরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন;
৩২:৩ তাঁদের দেখে যাকোব বললেন, ‘এ পরমেশ্বরের সেনা-শিবির,’ আর সেই জায়গার নাম মাহানাইম রাখলেন।
৩২:৪ যাকোব নিজের আগে আগে সেইর দেশের এদোমের খোলা মাঠে তাঁর ভাই এসৌয়ের কাছে দূতদের পাঠালেন;
৩২:৫ তিনি তাদের এই আদেশ দিলেন, ‘তোমরা আমার প্রভু এসৌকে বলবে, আপনার দাস যাকোব একথা বলছে, আমি লাবানের কাছে বেশ কিছু দিন ছিলাম, আজ পর্যন্তই সেখানে ছিলাম।
৩২:৬ আমার এখন গবাদি পশু, গাধা, মেষপাল ও দাস-দাসী আছে। আমি আমার প্রভুর কাছে এই সংবাদ পাঠিয়েছি, যেন তাঁর দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হতে পারি।’
৩২:৭ দূতেরা যাকোবের কাছে ফিরে এসে বলল, ‘আমরা আপনার ভাই এসৌয়ের কাছে গিয়েছি; তিনি নিজেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসছেন, সঙ্গে করে চারশ’ লোক নিয়ে আসছেন।’
৩২:৮ যাকোব ভীষণ ভয় পেলেন, উদ্বিগ্নও হয়ে উঠলেন। যে সকল লোক তাঁর সঙ্গে ছিল, তাদের ও গবাদি পশু, মেষপাল ও উটদের বিভক্ত করে দু’টো শিবির করলেন;
৩২:৯ কেননা তিনি ভাবছিলেন, ‘এসৌ এসে এক শিবির আক্রমণ করলেও তবু অপর শিবির রেহাই পাবে।’
৩২:১০ যাকোব বললেন, ‘হে আমার পিতা আব্রাহামের পরমেশ্বর ও আমার পিতা ইসায়াকের পরমেশ্বর, হে প্রভু, তুমি যে নিজে আমাকে বলেছিলে, তোমার দেশে, তোমার মাতৃভূমিতে ফিরে যাও, আর আমি তোমার মঙ্গল করব,
৩২:১১ তুমি এখন এই দাসের প্রতি যে সমস্ত কৃপা ও যে সমস্ত বিশ্বস্ততা দেখিয়েছ, আমি তার কিছুরই যোগ্য নই। আমি কেবল নিজের লাঠি নিয়েই এই যর্দন পার হয়েছিলাম, আর এখন দুই শিবির হয়ে উঠেছি।
৩২:১২ বিনয় করি: আমার ভাই এসৌয়ের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার কর, কেননা আমি তাকে ভয় করি, পাছে সে এসে আমাকে আক্রমণ করে, ছেলেদের সঙ্গে মায়েদেরও আক্রমণ করে।
৩২:১৩ তুমিই তো বলেছ, আমি নিশ্চয় তোমার মঙ্গল করব, এবং তোমার বংশকে সমুদ্রতীরের বালুকণারই মত করব, যা তার বহুসংখ্যার জন্য গণনার অতীত।’
৩২:১৪ যাকোব সেই জায়গায় থেকেই রাত কাটালেন।
তাঁর কাছে যা কিছু ছিল, তার মধ্য থেকে কতগুলো জিনিস নিয়ে তাঁর ভাই এসৌয়ের জন্য এই উপহার প্রস্তুত করলেন:
৩২:১৫ দু’শো ছাগী ও কুড়িটা ছাগ, দু’শো মেষী ও কুড়িটা মেষ,
৩২:১৬ শাবক সমেত দুগ্ধবতী ত্রিশটা উট, চল্লিশটা গাভী ও দশটা বৃষ, এবং কুড়িটা গাধী ও দশটা গাধার বাচ্চা।
৩২:১৭ তিনি তাঁর এক এক দাসের হাতে এক এক পাল আলাদা করে তুলে দিয়ে সেই দাসদের বললেন, ‘তোমরা আমার আগে আগে এগিয়ে যাও, এবং এক এক পালের মধ্যে কিছুটা জায়গা রাখ।’
৩২:১৮ অগ্রগামী যে দাস, তাকে তিনি এই আজ্ঞা দিলেন, ‘তুমি আমার ভাই এসৌয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি যখন জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি কার লোক? কোথায় যাচ্ছ? এই যে পশুপাল তোমার আগে আগে চলছে, তা কার?
৩২:১৯ তখন উত্তরে তুমি বলবে, এই সমস্ত কিছু আপনার দাস যাকোবের; তিনি উপহার রূপে এই সমস্ত পশু আমার প্রভু এসৌয়ের জন্য পাঠালেন; আর দেখুন, তিনি নিজেই আমাদের পিছু পিছু আসছেন।’
৩২:২০ দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি যারা নানা পালের পিছু পিছু যাওয়ার কথা, তাদের সকলকেও তিনি এই আজ্ঞা দিয়ে বললেন, ‘এসৌয়ের দেখা পেলে তোমরা এই এই ধরনের কথা বলবে;
৩২:২১ তোমরা আরও বলবে, দেখুন, আপনার দাস যাকোব নিজেই আমাদের পিছু পিছু আসছেন।’ কেননা তিনি ভাবছিলেন, ‘আমি আগে আগে উপহার পাঠিয়ে তাকে প্রশমিত করব, তারপর তার সামনে এসে উপস্থিত হব; হয় তো সে আমার প্রতি প্রসন্নতা দেখাবে।’
৩২:২২ এভাবে তাঁর আগে আগে উপহার এগিয়ে গেল, কিন্তু তিনি সেই রাত শিবিরেই কাটালেন।
৩২:২৩ সেই রাতে তিনি উঠে তাঁর দুই স্ত্রী, দুই দাসী ও এগারো ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যাব্বোক নদী যেখানে হেঁটে পার হওয়া যায়, সেখান দিয়ে পার হলেন।
৩২:২৪ ওদের এনে তিনি নদীর ওপারে পাঠিয়ে দিলেন, তাঁর যা কিছু ছিল, তাও পাঠিয়ে দিলেন।
৩২:২৫ যাকোব একা রইলেন, এবং কে যেন একজন ভোর পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ধুলায় গড়াগড়ি করলেন;
৩২:২৬ যখন দেখলেন, তিনি তাঁর উপর জয়ী হতে পারেন না, তখন যাকোবের কোমরের পাশে আঘাত হানলেন, আর তাঁর সঙ্গে এভাবে লড়াই করার ফলে যাকোবের কোমরের হাড়টা জায়গা থেকে সরে গেল।
৩২:২৭ তখন তিনি বললেন, ‘আমাকে যেতে দাও, কেননা ভোর হয়ে আসছে।’ যাকোব উত্তরে বললেন, ‘আপনি আমাকে আশীর্বাদ না করলে আমি আপনাকে যেতে দেব না।’
৩২:২৮ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার নাম কী?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমার নাম যাকোব।’
৩২:২৯ তিনি বলে চললেন, ‘তোমাকে আর যাকোব বলে ডাকা হবে না, তোমার নাম হবে ইস্রায়েল, কারণ তুমি পরমেশ্বরের সঙ্গে ও মানুষের সঙ্গে লড়াই করেছ ও জয়ীও হয়েছ!’
৩২:৩০ তখন যাকোব জিজ্ঞাসা করলেন, ‘দয়া করে, আমাকে আপনার নিজের নাম বলুন।’ তিনি তাঁকে উত্তরে বললেন, ‘কেন আমার নাম জিজ্ঞাসা করছ?’ আর সেইখানে তিনি যাকোবকে আশীর্বাদ করলেন।
৩২:৩১ যাকোব সেই জায়গার নাম পেনুয়েল রাখলেন; তিনি বললেন, ‘আমি তো পরমেশ্বরকে মুখোমুখিই দেখেছি, অথচ আমার প্রাণ বেঁচে থাকল।’
৩২:৩২ তিনি যখন পেনুয়েল ছেড়ে এগিয়ে গেলেন, তখন সূর্য উঠছে; তাঁর কোমরের জন্য তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন।
৩২:৩৩ এজন্যই ইস্রায়েল সন্তানেরা আজ পর্যন্ত কোমরের উপরের উরুতসন্ধির শিরা খায় না, কেননা তিনি যাকোবের কোমরের পাশে অর্থাৎ তাঁর উরুতসন্ধির শিরায় আঘাত হেনেছিলেন।
৩৩:১ যাকোব চোখ তুলে চাইলেন, আর দেখ, এসৌ আসছেন, ও তাঁর সঙ্গে চারশ’ লোক। তিনি তখন লিয়া, রাখেল ও দুই দাসীর মধ্যে সন্তানদের ভাগ ভাগ করে দিলেন;
৩৩:২ সকলের আগে তিনি দুই দাসীকে ও তাদের সন্তানদের, এদের পিছনে লিয়াকে ও তাঁর সন্তানদের, এবং সকলের পিছনে রাখেলকে ও যোসেফকে রাখলেন।
৩৩:৩ তিনি নিজে সকলের আগে আগে গেলেন, ও সাত বার মাটিতে মুখ করে প্রণিপাত করতে করতে তাঁর ভাই এসৌয়ের দিকে এগিয়ে গেলেন।
৩৩:৪ কিন্তু এসৌ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দৌড়ে এসে তাঁর গলা ধরে আলিঙ্গন ও চুম্বন করলেন, এবং দু’জনেই কাঁদতে লাগলেন।
৩৩:৫ পরে এসৌ চোখ তুলে স্ত্রীলোকদের ও ছেলেদের দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এরা তোমার কে?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘এরা সেই সন্তান, পরমেশ্বর অনুগ্রহ দেখিয়ে যাদের আপনার এই দাসকে দান করেছেন।’
৩৩:৬ তখন দাসীরা ও তাদের সন্তানেরা এগিয়ে এসে প্রণিপাত করল;
৩৩:৭ লিয়া ও তাঁর সন্তানেরাও এগিয়ে এসে প্রণিপাত করলেন; শেষে যোসেফ ও রাখেল এগিয়ে এসে প্রণিপাত করলেন।
৩৩:৮ তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি যে বড় যাত্রীদলের দেখা পেলাম, তার উদ্দেশ্য কী?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘আমার প্রভুর দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হবার জন্য।’
৩৩:৯ এসৌ বললেন, ‘আমার যথেষ্ট আছে, ভাই। তোমার যা, তা তোমারই থাকুক।’
৩৩:১০ যাকোব বললেন, ‘তা হবে না। আমি যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হয়ে থাকি, তবে আমার হাত থেকে আমার উপহার গ্রহণ করুন; কেননা আমার পক্ষে আপনার মুখ দর্শন করা পরমেশ্বরেরই শ্রীমুখ দর্শন করার মত, যেহেতু আপনি এখন আমাকে প্রসন্নতার সঙ্গে গ্রহণ করলেন।
৩৩:১১ আমার অনুরোধ, আপনার কাছে যে উপহার আনা হয়েছে, তা গ্রহণ করে নিন; কেননা পরমেশ্বর আমার প্রতি সদয় হয়েছেন, আর আমার সবকিছু আছে।’ যাকোব এইভাবে সাধাসাধি করলে এসৌ তা গ্রহণ করে নিলেন।
৩৩:১২ এসৌ বললেন, ‘এসো, এবার রওনা হই; আমি তোমার পাশে পাশে চলব।’
৩৩:১৩ তিনি তাঁকে বললেন, ‘আমার প্রভু জানেন, ছেলেরা নরম, তাছাড়া দুগ্ধবতী মেষী ও গাভীগুলোও আমাকে বহন করতে হচ্ছে; এক দিন মাত্রও জোরে চালালে সমস্ত পালই মরবে।
৩৩:১৪ প্রভু আমার, আপনার দোহাই, আপনি আপনার দাসের আগে আগে যান; আর আমি, এই যে পশুপাল আমার আগে আগে চলছে, তারই শক্তি অনুসারে এবং ছেলেদের চলবার শক্তি অনুসারে ধীরে ধীরে চলব, যে পর্যন্ত সেইরে আমার প্রভুর কাছে এসে পৌঁছব।’
৩৩:১৫ এসৌ বললেন, ‘কমপক্ষে আমার সঙ্গী কয়েকজন লোক তোমার কাছে রেখে যাই!’ তিনি বললেন, ‘কিসের জন্য? আমার প্রভুর দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হলেই হল!’
৩৩:১৬ তাই সেই একই দিনে এসৌ সেইরের দিকে ফিরে গেলেন।
৩৩:১৭ কিন্তু যাকোব সুক্কোতে গিয়ে নিজের জন্য ঘর ও পশুদের জন্য কয়েকটা পর্ণকুটির তৈরী করলেন; এজন্য সেই স্থান সুক্কোৎ নামে অভিহিত।
৩৩:১৮ যাকোব পাদ্দান-আরাম থেকে ফিরে আসার পথে কানান দেশে সিখেমের শহরে নিরাপদে পৌঁছলেন; তিনি নগরদ্বারের বাইরে তাঁবু গাড়লেন।
৩৩:১৯ পরে সিখেমের পিতা যে হামোর, তাঁর সন্তানদের একশ’ রুপোর টাকা দিয়ে তিনি সেইখানে একখণ্ড জমি কিনলেন যেখানে তাঁবু গেড়েছিলেন।
৩৩:২০ সেখানে একটি যজ্ঞবেদি স্থাপন করে তার নাম এল্‌-এলোহে-ইস্রায়েল রাখলেন।
৩৪:১ যে মেয়েকে লিয়া যাকোবের ঘরে প্রসব করেছিলেন, সেই দীণা সেই দেশের মেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে বাইরে গেল।
৩৪:২ কিন্তু দেশাধিপতি হিব্বীয় হামোরের ছেলে সিখেম তাকে দেখতে পেলেন, এবং তাকে ছিনতাই করে তার সঙ্গে মিলিত হতে বাধ্য করলেন।
৩৪:৩ যাকোবের মেয়ে দীণার প্রতি তাঁর প্রাণ আসক্ত হল, তিনি সেই যুবতীকে ভালবাসলেন ও তাকে মধুর কথা শোনালেন।
৩৪:৪ পরে তিনি নিজ পিতা হামোরকে বললেন, ‘আমার স্ত্রী হবার জন্য এই মেয়েকে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।’
৩৪:৫ ইতিমধ্যে যাকোব শুনতে পেয়েছিলেন যে, তাঁর আপন মেয়ে দীণা কলঙ্কিত হয়েছে, কিন্তু তাঁর ছেলেরা পশুপালের সঙ্গে মাঠে ছিল বলে তারা ফিরে না আসা পর্যন্ত যাকোব চুপ করে থাকলেন।
৩৪:৬ পরে সিখেমের পিতা হামোর যাকোবের সঙ্গে এই ব্যাপারে কথাবার্তা বলতে এসে উপস্থিত হলেন।
৩৪:৭ যাকোবের ছেলেরা মাঠ থেকে ফিরে এসে যখন ব্যাপারটা শুনল, তখন ক্ষুব্ধ ও অধিক ক্রোধান্বিত হল, কারণ যাকোবের মেয়ের সঙ্গে শুয়ে সিখেম ইস্রায়েলের মধ্যে ঘৃণ্য কাজ করেছিলেন: তেমন ব্যবহার নিতান্তই অনুচিত!
৩৪:৮ হামোর তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে বললেন, ‘আপনাদের এই মেয়ের প্রতি আমার ছেলে সিখেমের প্রাণ আসক্ত হয়েছে; আপনাদের দোহাই, আমার ছেলের সঙ্গে তার বিবাহ দিন।
৩৪:৯ এমনকি, আমাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করুন: আপনারা আপনাদের মেয়েদের আমাদের দেবেন ও আমাদের মেয়েদের নেবেন।
৩৪:১০ আপনারা আমাদের সঙ্গে বাস করবেন, দেশ আপনাদের জন্য খোলাই রয়েছে; এখানে বসতি করুন, অবাধে যাতায়াত করুন, সম্পদ সঞ্চয় করুন।’
৩৪:১১ আর সিখেম দীণার পিতাকে ও ভাইদের এই কথাও বললেন, ‘আহা, আমি যেন আপনাদের দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হতে পারি! আপনারা যা বলবেন, আমি তা আপনাদের দেব।
৩৪:১২ যৌতুক ও উপহার খুশিমত বাড়ান, আপনাদের কথা অনুসারে আমি তা দেব, কিন্তু আমার সঙ্গে মেয়েটির বিবাহ দিন।’
৩৪:১৩ কিন্তু তিনি তাদের বোন দীণাকে কলঙ্কিত করেছিলেন বিধায় যাকোবের ছেলেরা ছলনার সঙ্গেই কথাবার্তা বলে সিখেমকে ও তাঁর পিতা হামোরকে উত্তর দিল;
৩৪:১৪ তারা তাঁদের বলল, ‘অপরিচ্ছেদিত মানুষকে আমাদের বোন দেব, এমন কাজ আমরা করতে পারি না; করলে আমাদের দুর্নাম হবে।
৩৪:১৫ কেবল এই শর্তেই আমরা আপনাদের কথায় সম্মত হব, অর্থাৎ আপনাদের প্রতিটি পুরুষলোককে পরিচ্ছেদিত করে যদি আপনারা আমাদের মত হন,
৩৪:১৬ তবে আমরা আপনাদের কাছে আমাদের মেয়েদের দেব ও আপনাদের মেয়েদের নিজেরা নেব, এবং আপনাদের সঙ্গে বাস করে এক জাতি হব।
৩৪:১৭ কিন্তু পরিচ্ছেদনের ব্যাপারে আপনারা যদি আমাদের কথা না শোনেন, তাহলে আমরা আমাদের ওই মেয়েকে নিয়ে চলে যাব।’
৩৪:১৮ তাদের এই কথায় হামোর ও তাঁর ছেলে সিখেম সন্তুষ্ট হলেন;
৩৪:১৯ যুবকটা ইতস্তত না করে তেমনটি করলেন, কেননা যাকোবের মেয়েকে তিনি খুবই ভালবাসতেন; আবার তিনি তাঁর পিতৃকুলে সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন।
৩৪:২০ তাই হামোর ও তাঁর ছেলে সিখেম তাঁদের নগরদ্বারে এসে নগরবাসীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে লাগলেন; তাঁরা বললেন,
৩৪:২১ ‘সেই লোকেরা শান্ত প্রকৃতির মানুষ; সুতরাং তারা এই দেশে বসতি করুক ও অবাধে যাতায়াত করুক; দেশে তাদের জন্য যথেষ্ট জায়গা আছে। এসো, আমরা তাদের মেয়েদের নিই ও আমাদের মেয়েদের তাদের দিই।
৩৪:২২ কিন্তু তাদের কেবল এই শর্ত রয়েছে, আমাদের মধ্যে প্রতিটি পুরুষলোক যদি তাদের মত পরিচ্ছেদিত হয়, তবেই তারা আমাদের সঙ্গে বাস করে এক জাতি হতে সম্মত আছে।
৩৪:২৩ তখন তাদের ধন, সম্পত্তি ও পশুগুলো কি আমাদেরই হবে না? তাই এসো, তাদের কথায় সম্মতি জানাই, যেন তারা আমাদের মধ্যে বসতি করতে পারে!’
৩৪:২৪ তখন যত লোকের সেই নগরদ্বারে প্রবেশাধিকার ছিল, তারা সকলে হামোরের ও তাঁর ছেলে সিখেমের কথায় সম্মত হল: যত লোকের সেই নগরদ্বারে প্রবেশাধিকার ছিল, সেই সকল পুরুষলোক পরিচ্ছেদন গ্রহণ করল।
৩৪:২৫ কিন্তু তৃতীয় দিনে তারা যখন পীড়ায় ভুগছিল, তখন দীণার সহোদর সিমেয়োন ও লেবি, যাকোবের এই দুই ছেলে নিজ নিজ খড়্গ তুলে নিয়ে অবাধে শহরে ঢুকে সকল পুরুষলোককে বধ করল।
৩৪:২৬ এইভাবে হামোর ও তাঁর ছেলে সিখেমকে খড়্গের আঘাতে বধ করে তারা সিখেমের বাড়ি থেকে দীণাকে নিয়ে চলে এল।
৩৪:২৭ তাঁরা তাদের বোনকে কলঙ্কিত করেছিলেন বিধায় যাকোবের ছেলেরা মৃতদেহগুলির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শহর লুট করল।
৩৪:২৮ তারা ওদের সকলের মেষ-ছাগ, গবাদি পশু ও গাধাগুলোকে এবং শহরে ও মাঠে যা কিছু ছিল সবই কেড়ে নিল;
৩৪:২৯ ওদের শিশু ও স্ত্রীলোকদের বন্দি করে তাঁদের সমস্ত ধন ও বাড়ির মধ্যে যা কিছু ছিল, তা সব লুট করে নিল।
৩৪:৩০ তখন যাকোব সিমেয়োন ও লেবিকে বললেন, ‘তোমরা দেশবাসীদের কাছে, এই কানানীয় ও পেরিজীয়দের কাছে আমাকে ঘৃণার পাত্র করে কুটিল সমস্যার মধ্যেই ফেলেছ, অথচ আমার লোকজন অল্প। তারা আমার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আমার উপর জয়ী হবে আর পরিবার সহ আমার বিনাশ ঘটবে।’
৩৪:৩১ উত্তরে তারা বলল, ‘তবে আমাদের বোন যে একটা বেশ্যার মত ব্যবহৃত হবে, এমনটি কি হতে পারে?’
৩৫:১ পরমেশ্বর যাকোবকে বললেন, ‘ওঠ, বেথেলে গিয়ে সেইখানে বসতি কর; এবং তোমার ভাই এসৌয়ের কাছ থেকে তুমি যখন পালিয়ে যাচ্ছিলে, তখন যিনি তোমাকে দেখা দিয়েছিলেন, সেই ঈশ্বরের উদ্দেশে সেখানে একটি যজ্ঞবেদি গাঁথ।’
৩৫:২ যাকোব তাঁর ঘরের পরিজন ও তাঁর সঙ্গী সকলকে বললেন, ‘তোমাদের কাছে যত বিদেশী দেবতা আছে, তাদের দূর করে দাও; নিজেদের শুচিশুদ্ধ করে পোশাক বদলি কর।
৩৫:৩ পরে এসো, আমরা বেথেলে চলে যাই; সেখানে আমি সেই ঈশ্বরের উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি গাঁথব, যিনি আমার সঙ্কটের দিনে আমার ডাকে সাড়া দিলেন এবং আমার যাত্রাপথে আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকলেন।’
৩৫:৪ তারা তখন তাদের কাছে যে সব দেবতা ও তাদের কানে যত মাকড়ি ছিল, তা যাকোবের হাতে তুলে দিল, এবং তিনি সিখেমের কাছে যে ওক্‌ গাছটা ছিল তার তলায় সেই সবকিছু মাটিতে পুঁতে রাখলেন।
৩৫:৫ পরে তারা সেখান থেকে রওনা হল। তখন ঐশ্বরিক এমন সন্ত্রাস চারদিকের শহরগুলোকে আঘাত করল যে, সেখানকার লোকেরা কেউই যাকোবের সন্তানদের পিছনে ধাওয়া করল না।
৩৫:৬ যখন যাকোব ও তাঁর সঙ্গীরা সকলে কানান দেশের সেই লুজে, অর্থাৎ বেথেলে এসে পৌঁছলেন,
৩৫:৭ তখন তিনি সেখানে একটি যজ্ঞবেদি গাঁথলেন আর জায়গাটার নাম এল্‌-বেথেল রাখলেন; কারণ তিনি যখন ভাইয়ের কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন পরমেশ্বর সেইখানে তাঁর কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন।
৩৫:৮ সেসময়েই রেবেকার ধাইমা দেবোরার মৃত্যু হল; তাকে বেথেলের নিচের জায়গায় সেই ওক্‌ গাছের তলায় সমাধি দেওয়া হল; আর এজন্যই জায়গাটার নাম কান্নার ওক্‌ রাখা হল।
৩৫:৯ পরমেশ্বর যাকোবের কাছে আর একবার দেখা দিলেন—সেসময়ে যাকোব পাদ্দান-আরাম থেকে ফিরে আসছিলেন—আর তাঁকে আশীর্বাদ করলেন;
৩৫:১০ পরমেশ্বর তাঁকে বললেন,
‘তোমার নাম যাকোব;
তোমাকে আর যাকোব বলে ডাকা হবে না,
তোমার নাম বরং হবে ইস্রায়েল।’
তাই তাঁকে ইস্রায়েল বলে ডাকা হল।
৩৫:১১ পরমেশ্বর তাঁকে আরও বললেন,
‘আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর,
ফলবান হও, বংশবৃদ্ধি কর;
তোমা থেকে এক জাতি, এমনকি এক জাতিসমাজেরই উদ্ভব হবে;
তোমার কটিদেশ থেকে নানা রাজা উৎপন্ন হবে।
৩৫:১২ যে দেশ আমি আব্রাহামকে ও ইসায়াককে দিয়েছি,
সেই দেশ তোমাকে ও তোমার ভাবী বংশকে দেব।’
৩৫:১৩ পরমেশ্বর যে স্থানে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সেই স্থানে তাঁকে ছেড়ে ঊর্ধ্বে চলে গেলেন।
৩৫:১৪ তিনি যে স্থানে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সেই স্থানে যাকোব একটা স্মৃতিস্তম্ভ, পাথরেরই একটা স্তম্ভ দাঁড় করিয়ে তার উপরে পানীয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করলেন ও তেল ঢেলে দিলেন।
৩৫:১৫ পরমেশ্বর যে স্থানে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন, যাকোব সেই স্থানের নাম বেথেল রাখলেন।
৩৫:১৬ পরে তাঁরা বেথেল ছেড়ে চলে গেলেন। এফ্রাথায় পৌঁছবার অল্প পথ বাকি থাকতে রাখেলের প্রসব-বেদনা হল, এবং তাঁর প্রসব করতে বড় কষ্ট হল।
৩৫:১৭ প্রসবযন্ত্রণা তীব্রতম হওয়ার সময়ে ধাত্রী তাঁকে বলল, ‘ভয় করো না, এবারও তোমার একটি পুত্রসন্তান হবে।’
৩৫:১৮ প্রাণত্যাগের সময়ে—তিনি আসলে মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন—তিনি সন্তানের নাম বেনোনি রাখলেন, কিন্তু তাঁর পিতা তার নাম বেঞ্জামিন রাখলেন।
৩৫:১৯ এইভাবে রাখেলের মৃত্যু হল; তাঁকে এফ্রাথার (অর্থাৎ বেথলেহেমের) পথের ধারে সমাধি দেওয়া হল।
৩৫:২০ যাকোব তাঁর কবরের উপরে একটা স্মৃতিস্তম্ভ দাঁড় করালেন; রাখেলের কবরের এই স্মৃতিস্তম্ভ আজও আছে।
৩৫:২১ পরে ইস্রায়েল সেখান থেকে রওনা হলেন, এবং মিগ্দাল-এদেরের ওপাশে তাঁবু খাটালেন।
৩৫:২২ ইস্রায়েল সেই দেশে বাস করার সময়ে রূবেন তাঁর পিতার উপপত্নী বিল্হার সঙ্গে শুতে গেলেন; ব্যাপারটা ইস্রায়েল জানতে পারলেন।
সেসময় যাকোবের সন্তানেরা বারোজন ছিলেন।
৩৫:২৩ লিয়ার সন্তানেরা: যাকোবের জ্যেষ্ঠ পুত্র রূবেন এবং সিমেয়োন, পরে লেবি, যুদা, ইসাখার ও জাবুলোন;
৩৫:২৪ রাখেলের সন্তানেরা: যোসেফ ও বেঞ্জামিন।
৩৫:২৫ রাখেলের দাসী বিল্হার সন্তানেরা: দান ও নেফ্তালি।
৩৫:২৬ লিয়ার দাসী সিল্পার সন্তানেরা: গাদ ও আসের। এরা যাকোবের সন্তানেরা; পাদ্দান-আরামেই তাদের জন্ম।
৩৫:২৭ যাকোব তাঁর পিতা ইসায়াকের কাছে মাম্রেতে, কিরিয়াৎ-আর্বায় অর্থাৎ সেই হেব্রোনে এলেন, যেখানে আব্রাহাম ও ইসায়াক বেশ কিছু দিন বাস করেছিলেন।
৩৫:২৮ ইসায়াকের বয়স একশ’ বছর হয়েছিল।
৩৫:২৯ পরে ইসায়াক বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ু হয়ে প্রাণত্যাগ করে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে মিলিত হলেন। তাঁর সন্তান এসৌ ও যাকোব তাঁকে সমাধি দিলেন।
৩৬:১ এসৌয়ের অর্থাৎ এদোমের বংশতালিকা এ:
৩৬:২ এসৌ কানানীয়দের মেয়েদের মধ্য থেকেই স্ত্রী নিলেন: তারা ছিল হিত্তীয় এলোনের কন্যা আদা ও হোরীয় জিবেয়োনের পৌত্রী আনার কন্যা অহলিবামা;
৩৬:৩ এবং নেবায়োতের বোন অর্থাৎ ইসমায়েলের কন্যা বাসেমাৎ।
৩৬:৪ এসৌয়ের ঘরে আদা এলিফাজকে, ও বাসেমাৎ রেউয়েলকে প্রসব করে,
৩৬:৫ এবং অহলিবামা যেয়ুশ, যালাম ও কোরাহ্‌-কে প্রসব করে; এরা এসৌয়ের সন্তান, কানান দেশে তাদের জন্ম।
৩৬:৬ পরে এসৌ তাঁর স্ত্রী পুত্র কন্যাদের ও বাড়ির অন্য সকল লোককে, তাঁর সমস্ত মেষপাল, পশুপাল ও সমস্ত ধন, এবং কানান দেশে সঞ্চয় করা সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে ভাই যাকোব থেকে বেশ দূরে, সেইর দেশেই চলে গেলেন,
৩৬:৭ কেননা তাঁদের প্রচুর সম্পত্তি থাকায় একত্রে বাস করা তাঁদের পক্ষে সুবিধাজনক ছিল না, এবং যে দেশে তাঁরা সেসময় বাস করছিলেন, তাঁদের পশুধনের কারণে সেই দেশে স্থান কুলাতে পারছিল না।
৩৬:৮ এইভাবে এসৌ অর্থাৎ এদোম সেইরের পার্বত্য অঞ্চলে বসতি করলেন।
৩৬:৯ সেইরের পার্বত্য অঞ্চলে এদোমীয়দের পূর্বপুরুষ এসৌয়ের বংশতালিকা এ।
৩৬:১০ এসৌয়ের সন্তানদের নাম এ: এসৌয়ের স্ত্রী আদার সন্তান এলিফাজ; এসৌয়ের স্ত্রী বাসেমাতের সন্তান রেউয়েল।
৩৬:১১ এলিফাজের সন্তানেরা: তেমান, ওমার, জেফো, গাতাম ও কেনাজ।
৩৬:১২ এসৌয়ের সন্তান এলিফাজের ছিল তিম্না নামে এক উপপত্নী, সে এলিফাজের ঘরে আমালেককে প্রসব করে। এরাই এসৌয়ের স্ত্রী আদার সন্তান।
৩৬:১৩ রেউয়েলের সন্তানেরা: নাহাৎ, জেরাহ্‌, শাম্মা ও মিজ্জা; এরাই এসৌয়ের স্ত্রী বাসেমাতের সন্তান।
৩৬:১৪ জিবেয়োনের পৌত্রী আনার কন্যা যে অহলিবামা এসৌয়ের স্ত্রী ছিল, এরাই তার সন্তান: যেয়ুশ, যালাম ও কোরাহ্‌।
৩৬:১৫ এসৌয়ের সন্তানদের দলপতিরা এই। এসৌয়ের জ্যেষ্ঠ পুত্র যে এলিফাজ, তাঁর সন্তানেরা: দলপতি তেমান, দলপতি ওমার, দলপতি জেফো, দলপতি কেনাজ,
৩৬:১৬ দলপতি কোরাহ্‌, দলপতি গাতাম ও দলপতি আমালেক; এদোম দেশের এলিফাজ বংশীয় এই দলপতিরা আদার সন্তান।
৩৬:১৭ এসৌয়ের সন্তান রেউয়েলের সন্তানেরা: দলপতি নাহাৎ, দলপতি জেরাহ্‌, দলপতি শাম্মা ও দলপতি মিজ্জা; এদোম দেশের রেউয়েল বংশীয় এই দলপতিরা এসৌয়ের স্ত্রী বাসেমাতের সন্তান।
৩৬:১৮ এসৌয়ের স্ত্রী অহলিবামার সন্তানেরা: দলপতি যেয়ুশ, দলপতি যালাম ও দলপতি কোরাহ্‌; আনার কন্যা যে অহলিবামা এসৌয়ের স্ত্রী ছিল, এই দলপতিরা তার সন্তান।
৩৬:১৯ এঁরাই এসৌয়ের অর্থাৎ এদোমের সন্তান, এঁরাই তাদের দলপতি।
৩৬:২০ দেশবাসী হোরীয় সেইরের সন্তানেরা এই: লোটান, শোবাল, জিবেয়োন, আনা,
৩৬:২১ দিসোন, এৎসের ও দিসান; সেইরের এই সন্তানেরা ছিলেন এদোম দেশে হোরীয় বংশের দলপতি।
৩৬:২২ লোটানের সন্তানেরা: হোরী ও হেমাম, এবং তিম্না ছিল লোটানের বোন।
৩৬:২৩ শোবালের সন্তানেরা: আল্‌বান, মানাহাৎ, এবাল, শেফো ও ওনাম।
৩৬:২৪ জিবেয়োনের সন্তানেরা: আয়া ও আনা; এই আনাই তার নিজের পিতা জিবেয়োনের গাধার পাল চরাবার সময়ে প্রান্তরে উষ্ণ জলের উৎস আবিষ্কার করেছিল।
৩৬:২৫ আনার সন্তান দিসোন, ও আনার কন্যা অহলিবামা।
৩৬:২৬ দিসোনের সন্তানেরা: হেম্দান, এসবান, ইত্রান ও কেরান।
৩৬:২৭ এৎসেরের সন্তানেরা: বিল্হান, জায়াবান ও আকান।
৩৬:২৮ দিসানের সন্তানেরা: উজ ও আরান।
৩৬:২৯ হোরীয় বংশের দলপতিরা এই: দলপতি লোটান, দলপতি শোবাল, দলপতি জিবেয়োন, দলপতি আনা,
৩৬:৩০ দলপতি দিসোন, দলপতি এৎসের ও দলপতি দিসান। গোষ্ঠী অনুসারে এঁরাই সেইর দেশে হোরীয়দের দলপতি।
৩৬:৩১ ইস্রায়েল সন্তানদের উপরে কোন রাজা রাজত্ব করার আগে এঁরাই এদোম দেশে রাজা ছিলেন:
৩৬:৩২ বেয়োরের সন্তান বেলা এদোম দেশে রাজত্ব করেন, তাঁর রাজধানীর নাম দিন্হাবা।
৩৬:৩৩ বেলার মৃত্যুর পরে তাঁর পদে বস্রা-নিবাসী জেরাহ্‌র সন্তান যোবাব রাজত্ব করেন।
৩৬:৩৪ যোবাবের মৃত্যুর পরে তেমান দেশীয় হুসাম তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
৩৬:৩৫ হুসামের মৃত্যুর পরে বেদাদের সন্তান যে হাদাদ মোয়াব অঞ্চলে মিদিয়ানকে আঘাত করেছিলেন, তিনি তাঁর পদে রাজত্ব করেন; তাঁর রাজধানীর নাম আবিৎ।
৩৬:৩৬ হাদাদের মৃত্যুর পরে মাস্রেকা-নিবাসী সাম্লা তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
৩৬:৩৭ সাম্লার মৃত্যুর পরে রেহোবোৎ-নাহার-নিবাসী সৌল তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
৩৬:৩৮ সৌলের মৃত্যুর পরে আকবোরের সন্তান বায়াল-হানান তাঁর পদে রাজত্ব করেন।
৩৬:৩৯ আকবোরের সন্তান বায়াল-হানানের মৃত্যুর পরে হাদাদ তাঁর পদে রাজত্ব করেন; তাঁর রাজধানীর নাম পাউ, ও তাঁর স্ত্রীর নাম মেহেটাবেল: সে মে-জাহাব দেশীয় মাট্রেদের কন্যা।
৩৬:৪০ গোত্র, স্থান ও নাম অনুসারে এসৌয়ের যে দলপতিরা, তাঁদের নাম এই: দলপতি তিম্না, দলপতি আল্‌বাহ্‌, দলপতি যেথেৎ,
৩৬:৪১ দলপতি অহলিবামা, দলপতি এলাহ্‌, দলপতি পিনোন,
৩৬:৪২ দলপতি কেনাজ, দলপতি তেমান, দলপতি মিব্সার,
৩৬:৪৩ দলপতি মাগ্দিয়েল ও দলপতি ইরাম। এঁরাই নিজ নিজ অধিকৃত দেশে নিজ নিজ বসতিস্থান অনুসারে এদোমের দলপতি। ঠিক এই এসৌই এদোমীয়দের আদিপুরুষ।
৩৭:১ যাকোব সেই কানান দেশে বসতি করলেন, যে দেশে তাঁর পিতা বেশ কিছু দিন ধরে থেকেছিলেন।
৩৭:২ যাকোবের বংশকাহিনী এ।
যোসেফের বয়স তখন সতের বছর। ছোট হওয়ায় সে তার ভাইদের সঙ্গে, তার পিতার বধূ বিল্হা ও সিল্পার সন্তানদের সঙ্গে পশুপাল চরাত। একদিন যোসেফ তাদের সম্বন্ধে পিতার কাছে অসন্তোষজনক কথা পেশ করল।
৩৭:৩ যোসেফ বার্ধক্যের সন্তান হওয়ায় ইস্রায়েল সকল সন্তানের চেয়ে তাকেই বেশি ভালবাসতেন; তার জন্য তিনি যুবরাজেরই উপযুক্ত লম্বা-হাতা একটা জোব্বা তৈরি করিয়ে দিয়েছিলেন।
৩৭:৪ পিতা তার সকল ভাইয়ের চেয়ে তাকেই বেশি ভালবাসতেন দেখে তার ভাইয়েরা তাকে এতই ঘৃণা করত যে, তার সঙ্গে কুশল আলাপও করতে পারত না।
৩৭:৫ যোসেফ একদিন একটা স্বপ্ন দেখল, আর সেই কথা ভাইদের জানালে তারা তাকে আরও বেশি ঘৃণা করল।
৩৭:৬ সে তাদের বলল, ‘তোমরা একটু শোন আমি কেমন স্বপ্ন দেখেছি।
৩৭:৭ দেখ, আমরা মাঠে আটি বাঁধছিলাম, আর হঠাৎ আমার আটি উঠে দাঁড়িয়ে রইল; এবং দেখ, তোমাদের আটিগুলো আমার আটিকে চারপাশে ঘিরে তার সামনে প্রণিপাত করল!’
৩৭:৮ তার ভাইয়েরা তাকে বলল, ‘তুমি কি হয় তো আমাদের রাজা হবে? আমাদের উপরে হয় তো কর্তৃত্ব করবে?’ তার স্বপ্ন ও তার কথার জন্য তারা তাকে আরও ঘৃণা করল।
৩৭:৯ সে আর একটা স্বপ্ন দেখল, তাও ভাইদের কাছে বর্ণনা করল। সে বলল, ‘দেখ, আমি আর একটা স্বপ্ন দেখেছি; দেখ, সূর্য, চাঁদ ও এগারোটা তারা আমার উদ্দেশে প্রণিপাত করল।’
৩৭:১০ সে তার পিতা ও ভাইদের কাছে এর বর্ণনা দিলে তার পিতা তাকে ধমক দিয়ে বললেন, ‘তুমি এ কেমন স্বপ্ন দেখলে? আমি, তোমার মা ও তোমার ভাইয়েরা, আমরা সকলে কি হয় তো তোমার কাছে এসে মাটিতে মুখ করে প্রণিপাত করব?’
৩৭:১১ তার প্রতি তার ভাইদের হিংসা আরও বেড়ে গেল, কিন্তু পিতা মনে মনে কথাটা ভাবতে লাগলেন।
৩৭:১২ তার ভাইয়েরা পিতার পশুপাল চরাতে সিখেমে গিয়েছিল।
৩৭:১৩ তখন ইস্রায়েল যোসেফকে বললেন, ‘তোমার ভাইয়েরা সিখেমে পশুপাল চরাচ্ছে, তাই না? এসো, আমি তোমাকে তাদের কাছে পাঠিয়ে দিই।’
৩৭:১৪ সে উত্তরে বলল, ‘আমি প্রস্তুত!’ তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি গিয়ে তোমার ভাইদের অবস্থা ও পশুপালের অবস্থা জেনে নাও; তারপর ফিরে এসে আমাকে জানাও।’ তিনি হেব্রোনের নিম্নভূমি থেকে তাকে পাঠিয়ে দিলেন, আর সে সিখেমে গিয়ে পৌঁছল।
৩৭:১৫ সে বনপ্রান্তরে ঘুরছে, এমন সময় একটা লোক তার দেখা পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী খোঁজ করছ?’
৩৭:১৬ সে উত্তরে বলল, ‘আমার ভাইদের খোঁজ করছি; অনুগ্রহ করে আমাকে বল, তারা কোথায় পাল চরাচ্ছে।’
৩৭:১৭ লোকটা বলল, ‘তারা এই জায়গা ছেড়ে অন্য দিকে চলে গেছে; নিজেই তো শুনেছি, তারা বলছিল, চল, দোথানে যাই।’ তাই যোসেফ তার ভাইদের খোঁজে রওনা হয়ে দোথানে তাদের খুঁজে পেল।
৩৭:১৮ তারা দূর থেকে তাকে দেখতে পেল, এবং সে কাছে আসবার আগে তাকে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র করল।
৩৭:১৯ তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল, ‘ওই দেখ, স্বপ্নদর্শীটা আসছে!
৩৭:২০ তবে এসো, আমরা ওকে হত্যা করে কোন একটা কুয়োর মধ্যে ফেলে দিই; পরে বলব, কোন বন্যজন্তু ওকে গ্রাস করেছে। তবে দেখতে পারব, ওর সমস্ত স্বপ্নের কী হয়!’
৩৭:২১ কিন্তু রূবেন কথাটা শুনলেন, এবং তাকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করলেন; তিনি বললেন, ‘না, আমরা ওকে প্রাণে মারব না।’
৩৭:২২ তাদের আরও বললেন, ‘রক্তপাত করো না; ওকে প্রান্তরের এই কুয়োর মধ্যে ফেলে দাও, কিন্তু ওর উপরে হাত বাড়িয়ো না।’ তাঁর অভিপ্রায় ছিল, তিনি তাকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার ক’রে পিতার কাছে ফিরিয়ে আনবেন।
৩৭:২৩ যোসেফ যখন ভাইদের কাছে এসে পৌঁছল, তখন তার গায়ে সেই যে লম্বা-হাতা জোব্বাটা পরা ছিল, তারা তা খুলে নিল;
৩৭:২৪ এবং তাকে ধরে কুয়োর মধ্যে ফেলে দিল; কুয়োটা শূন্য ছিল, তার মধ্যে জল ছিল না।
৩৭:২৫ পরে তারা খেতে বসেছে, এমন সময় চোখ তুলে চাইল, আর দেখ, গিলেয়াদ থেকে এক দল ইসমায়েলীয় মরুযাত্রী এগিয়ে আসছে; তাদের উটের পিঠে রয়েছে দামী গঁদ, সুরভি মলম ও গন্ধনির্যাসের বোঝা, যা তারা মিশর দেশে নিয়ে যাচ্ছে।
৩৭:২৬ তখন যুদা তার ভাইদের বললেন, ‘আমাদের ভাইকে হত্যা করে তার রক্ত ঢেকে রাখলে আমাদের কী লাভ?
৩৭:২৭ এসো, আমরা ওই ইসমায়েলীয়দের কাছে ওকে বিক্রি করে দিই, আমরা ওর উপর হাত তুলব না; ও তো আমাদের ভাই, আমাদের মাংস!’ এতে তার ভাইয়েরা রাজি হল।
৩৭:২৮ কয়েকজন মিদিয়ানীয় বণিক সেখান দিয়ে যাচ্ছিল; তারা যোসেফকে কুয়ো থেকে তুলে নিয়ে ইসমায়েলীয়দের কাছে কুড়িটা রুপোর টাকায় বিক্রি করে দিল। এভাবে যোসেফকে মিশর দেশে নিয়ে যাওয়া হল।
৩৭:২৯ যখন রূবেন কুয়োর কাছে ফিরে গেলেন, তখন দেখ, যোসেফ সেখানে নেই; নিজের পোশাক ছিঁড়ে তিনি ভাইদের কাছে ফিরে এসে বললেন,
৩৭:৩০ ‘ছেলেটি আর নেই; এখন আমি, আমি কোথায় যাব?’
৩৭:৩১ তারা যোসেফের জামাকাপড় নিল, ও একটা ছাগ মেরে তার রক্তে তা ডুবিয়ে দিল।
৩৭:৩২ তারপর সেই লম্বা-হাতা জোব্বা পিতার কাছে পাঠিয়ে এই বলে তাঁর সামনে হাজির করাল: ‘আমরা তা এইমাত্র পেলাম; ভাল করে দেখুন, এ আপনার সন্তানের জোব্বা কিনা।’
৩৭:৩৩ তিনি তা চিনতে পেরে বললেন, ‘এ তো আমার সন্তানের জোব্বা; কোন বন্যজন্তু তাকে গ্রাস করেছে। যোসেফ টুকরো টুকরো হয়েছে!’
৩৭:৩৪ যাকোব নিজের পোশাক ছিঁড়ে কোমরে চটের কাপড় পরে সন্তানটির জন্য বহুদিন ধরে শোক করলেন।
৩৭:৩৫ তাঁর সমস্ত পুত্রকন্যারা তাঁকে সান্ত্বনা দিতে এলেও তিনি কোন সান্ত্বনা মেনে নিলেন না; বললেন, ‘না, আমি শোক করতে করতে আমার সন্তানের কাছে পাতালে নেমে যেতে চাই!’ আর তার পিতা তার জন্য কাঁদলেন।
৩৭:৩৬ এদিকে সেই মিদিয়ানীয়েরা যোসেফকে মিশরে নিয়ে গিয়ে ফারাওর উচ্চপদস্থ কর্মচারী ও প্রধান গৃহাধ্যক্ষ পোটিফারের কাছে বিক্রি করল।
৩৮:১ সেসময়ে যুদা তাঁর ভাইদের ছেড়ে আদুল্লামীয় একটা লোকের কাছে থাকতে গেলেন যার নাম হিরা।
৩৮:২ সেখানে শুয়া নামে এক কানানীয় লোকের মেয়েকে দেখে যুদা তাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করে তার সঙ্গে মিলিত হলেন।
৩৮:৩ সে গর্ভবতী হয়ে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে তার নাম এর্‌ রাখল।
৩৮:৪ আবার গর্ভবতী হয়ে সে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে তার নাম ওনান রাখল।
৩৮:৫ আর একবার গর্ভবতী হয়ে সে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে তার নাম সেলা রাখল; এর প্রসবকালে সে খেজিবে ছিল।
৩৮:৬ যুদা একটি মেয়েকে এনে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র এরের সঙ্গে বিবাহ দিলেন; মেয়েটির নাম তামার;
৩৮:৭ কিন্তু যুদার জ্যেষ্ঠ পুত্র সেই এর প্রভুর দৃষ্টিতে দুষ্ট হওয়ায় প্রভু তার মৃত্যু ঘটালেন।
৩৮:৮ তখন যুদা ওনানকে বললেন, ‘তুমি তোমার ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হও, ও দেবর হিসাবে যা কর্তব্য তার প্রতি তা সাধন করে তোমার আপন ভাইয়ের জন্য বংশ রক্ষা কর।’
৩৮:৯ কিন্তু ওই বংশ তার নিজেরই বলে গণ্য হবে না জেনে ওনান, ভ্রাতৃবংশ উৎপন্ন করার অনিচ্ছায়, ভ্রাতৃজায়ার কাছে যতবার যেত, ততবার মাটিতে রেতঃপাত করত।
৩৮:১০ তেমন কাজ প্রভুর দৃষ্টিতে অন্যায় হওয়ায় তিনি তারও মৃত্যু ঘটালেন।
৩৮:১১ তখন যুদা পুত্রবধূ তামারকে বললেন, ‘যে পর্যন্ত আমার ছেলে সেলা বড় না হয়, সেপর্যন্ত তুমি তোমার আপন পিতৃগৃহে গিয়ে বিধবাই থাক।’ কেননা তিনি ভাবছিলেন, ‘পাছে ভাইদের মত সেও মরে।’ তাই তামার পিতৃগৃহে চলে গেল।
৩৮:১২ বহুদিন কেটে গেল, আর শুয়ার মেয়ে যুদার স্ত্রী মারা গেল। শোকপালনের সময় শেষ হলে যুদা তাঁর বন্ধু আদুল্লামীয় হিরার সঙ্গে তিম্নায় তাদের কাছে চললেন, যারা তার মেষগুলোর লোম কাটছিল।
৩৮:১৩ যখন তামারকে এই খবর দেওয়া হল, ‘দেখ, তোমার শ্বশুর তাঁর মেষগুলোর লোম কাটতে তিম্নায় যাচ্ছেন,’
৩৮:১৪ তখন সে বিধবার কাপড় খুলে নিজের চেহারা গোপন করার জন্য গায়ে একটা আবরণ জড়িয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করে তিম্নার পথে অবস্থিত এনাইমের প্রবেশদ্বারে বসে রইল; কেননা সে দেখতে পেয়েছিল যে, সেলা বড় হলেও তার সঙ্গে তার বিবাহ হল না।
৩৮:১৫ যুদা তাকে দেখে সেবাদাসী মনে করলেন, কেননা তার মুখ ঢাকা ছিল;
৩৮:১৬ তাই তিনি সেই পথ ধরে তার কাছে গিয়ে বললেন, ‘আমাকে তোমার কাছে আসতে দাও।’ তিনি তো জানতেন না যে, সে তাঁর পুত্রবধূ। তামার বলল, ‘আমার কাছে আসবার জন্য আমাকে কী দেবে?’
৩৮:১৭ তিনি বললেন, ‘পাল থেকে একটা ছাগলছানা পাঠিয়ে দেব।’ তামার বলল, ‘যতক্ষণ তা না পাঠাও, ততক্ষণ আমার কাছে কি কিছু বন্ধক রাখবে?’
৩৮:১৮ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি বন্ধক রাখব?’ তামার উত্তরে বলল, ‘তোমার সীলমোহর, তোমার সুতা ও তোমার হাতের ওই লাঠি।’ তখন তিনি তাকে সেগুলি দিয়ে তার কাছে গেলেন। আর তামার গর্ভবতী হল।
৩৮:১৯ পরে সে উঠে চলে গেল, এবং আবরণটা খুলে আবার নিজের বিধবার কাপড় পরল।
৩৮:২০ যুদা সেই স্ত্রীলোকের কাছ থেকে বন্ধকটা ফিরে নেবার জন্য তাঁর আদুল্লামীয় বন্ধুর হাতে ছাগলছানাটা পাঠিয়ে দিলেন, কিন্তু সে তাকে পেল না।
৩৮:২১ তখন সে সেখানকার লোকদের জিজ্ঞাসা করল, ‘এনাইমের পথের ধারে যে সেবাদাসী ছিল, সে কোথায়?’ তারা উত্তরে বলল, ‘এখানে কোন সেবাদাসী আসেইনি।’
৩৮:২২ তাই সে যুদার কাছে ফিরে গিয়ে বলল, ‘আমি তাকে পেলাম না, এমনকি সেখানকার লোকেরাও বলল, এখানে কোন সেবাদাসী আসেইনি।’
৩৮:২৩ তখন যুদা বললেন, ‘তার কাছে যা আছে, তা সেই রাখুক, নতুবা আমরা বিদ্রূপের বস্তু হব। তুমি তো দেখছ, আমি এই ছাগলছানাটা পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি তাকে পেলে না।’
৩৮:২৪ প্রায় তিন মাস পরে যুদাকে এই খবর দেওয়া হল, ‘আপনার পুত্রবধূ তামার বেশ্যাচার করেছে; এমনকি, তার বেশ্যাচারের ফলে তার গর্ভ হয়েছে।’ যুদা বললেন, ‘তাকে বাইরে এনে পুড়িয়ে দেওয়া হোক!’
৩৮:২৫ তাকে বাইরে আনা হচ্ছিল, এমন সময় সে শ্বশুরকে বলে পাঠাল, ‘এই সমস্ত জিনিস যার, সেই পুরুষ দ্বারাই আমার গর্ভ হয়েছে।’ সে আরও বলল, ‘এই সীলমোহর, সুতা ও লাঠি কার? চিনে দেখুন!’
৩৮:২৬ সেগুলি চিনে যুদা বললেন, ‘আমার চেয়ে সে-ই বেশি ধার্মিক, যেহেতু আমি তাকে আমার ছেলে সেলাকে দিইনি।’ তার সঙ্গে যুদার আর কোন দৈহিক সম্পর্ক হল না।
৩৮:২৭ তামারের প্রসবকাল উপস্থিত হলে, দেখ, তার উদরে যমজ সন্তান।
৩৮:২৮ প্রসবকালে একটা শিশু হাত বের করল, আর ধাত্রী তার সেই হাত ধরে লাল সুতা বেঁধে বলল, ‘এই প্রথম ভূমিষ্ঠ হল।’
৩৮:২৯ কিন্তু সে হাত ফিরিয়ে নিলে, দেখ, তার ভাইই ভূমিষ্ঠ হল; তখন ধাত্রী বলল, ‘তুমি কেমন করে নিজের জন্য জায়গা খুলে দিলে?’ তাই তার নাম পেরেস হল।
৩৮:৩০ পরে তার ভাই ভূমিষ্ঠ হল, তার হাতে বাঁধা ছিল সেই লাল সুতা, তাই তার নাম জেরাহ্‌ হল।
৩৯:১ যোসেফকে মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এবং ফারাওর উচ্চপদস্থ কর্মচারী ও প্রধান গৃহাধ্যক্ষ সেই মিশরীয় পোটিফার তাঁকে সেই ইসমায়েলীয়দের কাছ থেকে কিনেছিলেন, যারা তাঁকে সেখানে নিয়ে গেছিল।
৩৯:২ প্রভু যোসেফের সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন, আর তিনি যাই কিছু করতেন, তাতে সফল হতেন। তিনি তাঁর মিশরীয় মনিবের ঘরে থাকতেন,
৩৯:৩ আর যখন তাঁর মনিব দেখতে পেলেন যে, প্রভু তাঁর সঙ্গে সঙ্গে আছেন, এবং তিনি যা কিছু করেন, প্রভু তাঁর হাতে তা সফল করছেন,
৩৯:৪ তখন যোসেফ তাঁর দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হলেন ও তাঁর ভারপ্রাপ্ত মানুষ হয়ে উঠলেন; এমনকি তিনি যোসেফকে নিজের ব্যক্তিগত প্রধান অধ্যক্ষ করে তাঁর হাতে তাঁর সবকিছুর ভার তুলে দিলেন।
৩৯:৫ আর যে সময় থেকে তিনি যোসেফকে নিজের বাড়ির ও সবকিছুর অধ্যক্ষ করলেন, সে সময় থেকে প্রভু যোসেফের খাতিরে সেই মিশরীয়ের বাড়ি আশীর্বাদ করলেন; বাড়িতে ও মাঠে তাঁর যে সমস্ত সম্পত্তি ছিল, সেই সবকিছুর উপরে প্রভুর আশীর্বাদ বিরাজ করল।
৩৯:৬ তাই তিনি যোসেফের হাতে তাঁর সবকিছুর ভার তুলে দিলেন; নিজে যা খেতেন, তাছাড়া অন্য কোন বিষয়ে তাঁর কাছে কৈফিয়ত চাইতেন না।
এদিকে যোসেফের গঠন খুবই সুন্দর ছিল, আর তাঁর চেহারা আকর্ষণীয়।
৩৯:৭ এই সমস্ত ঘটনার পর এমনটি ঘটল যে, যোসেফের উপর তাঁর মনিবের স্ত্রীর খুব চোখ পড়ল; তাঁকে বলল, ‘আমার সঙ্গে শোও।’
৩৯:৮ কিন্তু তিনি রাজি হলেন না, আর তাঁর মনিবের স্ত্রীকে বললেন, ‘দেখুন, তাঁর বাড়িতে যা কিছু আছে, আমার মনিব আমার কাছ থেকে তার কৈফিয়ত চান না; আমারই হাতে সবকিছু রেখেছেন;
৩৯:৯ এই বাড়িতে তিনি নিজেই আমার চেয়ে বড় নন! তিনি সবকিছুর মধ্যে কেবল আপনাকেই আমার অধীন করেননি, কারণ আপনি তাঁর বধূ। তাই আমি কেমন করে তেমন বড় অন্যায় করতে ও পরমেশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করতে পারি?’
৩৯:১০ আর সে দিনের পর দিন যোসেফকে একথা বলতে থাকলেও তবু তিনি তার সঙ্গে শুতে কিংবা তার সঙ্গে থাকতে কখনও রাজি হলেন না।
৩৯:১১ একদিন যোসেফ নিজের কাজ করার জন্য ঘরের মধ্যে ঢুকলেন; বাড়ির লোকজনেরা কেউই ভিতরে ছিল না; তখন সে যোসেফের পোশাক ধরে বলল, ‘আমার সঙ্গে শোও।’
৩৯:১২ কিন্তু যোসেফ তার হাতে তাঁর পোশাক ফেলে রেখে বাইরে পালিয়ে গেলেন।
৩৯:১৩ সে যখন দেখল, যোসেফ তার হাতে পোশাক ফেলে রেখে বাইরে পালিয়ে গেলেন,
৩৯:১৪ তখন নিজের দাসদের ডেকে বলল, ‘দেখ, আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করার জন্য একটা হিব্রুকেই তিনি এখানে নিয়ে এসেছেন! সে আমার সঙ্গে শোবার জন্য আমার কাছে এসেছিল, কিন্তু আমি জোর গলায় চিৎকার করলাম।
৩৯:১৫ আমার চিৎকার শুনে সে আমার কাছে তার পোশাক ফেলে রেখে বাইরে পালিয়ে গেল।’
৩৯:১৬ স্ত্রীলোকটি তাঁর পোশাক নিজেরই কাছে রাখল, যে পর্যন্ত মনিব ঘরে না এলেন;
৩৯:১৭ তখন সে তাঁকে সেই একই কথা বলল: ‘তুমি যে হিব্রু দাসকে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছ, সে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করতে আমার কাছে এসেছিল;
৩৯:১৮ কিন্তু আমি যখন চিৎকার করলাম, সে তখন আমার কাছে তার পোশাক ফেলে রেখে বাইরে পালিয়ে গেল।’
৩৯:১৯ মনিব যখন শুনলেন যে, তাঁর স্ত্রী বলছে, ‘তোমার দাস আমার প্রতি তেমন ব্যবহার করেছে,’ তখন ক্রোধে জ্বলে উঠলেন।
৩৯:২০ যোসেফের মনিব তাঁকে গ্রেপ্তার করিয়ে দুর্গে দিলেন—সেখানে রাজার বন্দিরা কারারুদ্ধ ছিল।
তাই তিনি সেখানে, সেই দুর্গে থাকলেন।
৩৯:২১ কিন্তু প্রভু যোসেফের সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন, তাঁর প্রতি কৃপা দেখালেন, ও তাঁকে কারারক্ষকের দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র করলেন।
৩৯:২২ তাই কারারক্ষক সকল বন্দির ভার যোসেফের হাতে তুলে দিলেন, এবং সেখানে যা কিছু করা দরকার ছিল, তার দায়িত্ব যোসেফকেই দিল।
৩৯:২৩ তাঁর দায়িত্বে যা কিছু দেওয়া হত, সেদিকে কারারক্ষক কিছুই লক্ষ রাখত না, কেননা প্রভু তাঁর সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন, এবং তিনি যা কিছু করতেন, প্রভু তা সফল করতেন।
৪০:১ এই সমস্ত ঘটনার পরে মিশর-রাজের পাত্রবাহক ও মিষ্টি-প্রস্তুতকারক তাদের প্রভু মিশর-রাজের বিরুদ্ধে অপরাধ করল।
৪০:২ তখন ফারাও তাঁর সেই দুই কর্মচারীর উপর—ওই প্রধান পাত্রবাহক ও প্রধান মিষ্টি-প্রস্তুতকারকের উপর কুপিত হলেন
৪০:৩ এবং প্রধান গৃহাধ্যক্ষের বাড়িতে, সেই দুর্গে যেখানে যোসেফ কারারুদ্ধ ছিলেন, সেই দুর্গেই তাদের কারারুদ্ধ করে রাখলেন।
৪০:৪ প্রধান গৃহাধ্যক্ষ তাদের কাছে যোসেফকে নিযুক্ত করলেন, তিনি যেন তাদের পরিচর্যা করেন। তাই তারা কিছু দিন কারাগারে রইল।
৪০:৫ একদিন এমনটি ঘটল যে, মিশর-রাজের পাত্রবাহক ও মিষ্টি-প্রস্তুতকারক, যারা কারারুদ্ধ হয়েছিল, সেই দু’জনে একই রাতে ভিন্ন ভিন্ন স্বপ্ন দেখল—এক একজনের স্বপ্ন অন্যের স্বপ্ন থেকে ভিন্ন অর্থ বহন করত।
৪০:৬ সকালে যোসেফ তাদের কাছে এলেন, আর দেখ, তাদের মুখ বিষণ্ণ।
৪০:৭ তখন তাঁর সঙ্গে ফারাওর ওই যে দুই কর্মচারী তাঁর মনিবের বাড়িতে কারারুদ্ধ ছিল, তাদের তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আজ আপনাদের মুখ বিষণ্ণ কেন?’
৪০:৮ তারা উত্তরে বলল, ‘আমরা স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু তার অর্থ বুঝিয়ে দেবে এমন কেউ নেই।’ যোসেফ তাদের বললেন, ‘অর্থ দেওয়ার শক্তি কি ঈশ্বর থেকে আসে না? আমার অনুরোধ, স্বপ্নের বিবরণ দিন।’
৪০:৯ তখন প্রধান পাত্রবাহক যোসেফকে তার স্বপ্নের বিবরণ দিল, তাঁকে বলল, ‘আমার স্বপ্নে, দেখ, আমার সামনে এক আঙুরলতা।
৪০:১০ আঙুরলতার তিন শাখা; তাতে কুঁড়ি ধরতে না ধরতেই ফুল দেখা দিল এবং গুচ্ছে গুচ্ছে ফল হয়ে তা পেকে গেল।
৪০:১১ তখন আমার হাতে ফারাওর পানপাত্র ছিল, আর আমি সেই ফলগুলি নিয়ে ফারাওর পাত্রে নিঙড়িয়ে ফারাওর হাতে পাত্রটা দিলাম।’
৪০:১২ যোসেফ তাকে বললেন, ‘এর অর্থ এই: ওই তিন শাখায় তিন দিন বোঝায়।
৪০:১৩ তিন দিনের মধ্যে ফারাও আপনাকে আগেকার পদে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে আপনার মাথা উচ্চ করবেন, আর আপনি ফারাওর হাতে পানপাত্র আবার তুলে দেবেন, যেভাবে তাঁকে দিচ্ছিলেন যখন পাত্রবাহক ছিলেন।
৪০:১৪ কিন্তু আপনার দোহাই, যখন আপনার মঙ্গল হবে, তখন আমাকে স্মরণ করবেন, এবং আমার প্রতি সহৃদয়তা দেখিয়ে ফারাওর কাছে আমার কথা বলে আমাকে এই বাড়ি থেকে বের করে নেবেন।
৪০:১৫ কেননা হিব্রুদের দেশ থেকে আমাকে জোর প্রয়োগেই কেড়ে নেওয়া হয়েছে; এখানেও আমি এমন কিছুই করিনি যার জন্য আমাকে এই কারাকুয়োতে রাখা হচ্ছে।’
৪০:১৬ প্রধান মিষ্টি-প্রস্তুতকারক যখন দেখল, অর্থ মঙ্গলজনক, তখন যোসেফকে বলল, ‘আমিও স্বপ্ন দেখেছি; দেখ, আমার মাথার উপরে সাদা রুটির তিনটে ডালা।
৪০:১৭ তার উপরের ডালায় ফারাওর জন্য সকল প্রকার মিষ্টান্ন ছিল; কিন্তু আমার মাথার উপরে যে ডালা, তা থেকে পাখিরা তা খেয়ে ফেলল।’
৪০:১৮ যোসেফ তাঁকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘এর অর্থ এই: সেই তিন ডালায় তিন দিন বোঝায়।
৪০:১৯ তিন দিনের মধ্যে ফারাও আপনাকে একটা কড়িকাঠে ঝুলিয়ে আপনার দেহ থেকে মাথা উচ্চ করবেন, এবং পাখিরা আপনার দেহ থেকে মাংস খেয়ে ফেলবে।’
৪০:২০ আর ঠিক তৃতীয় দিনেই—সেদিন ছিল ফারাওর জন্মদিন—তিনি তাঁর সকল উচ্চপদস্থ কর্মচারীর জন্য একটা ভোজসভার আয়োজন করলেন, এবং তাঁর উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে প্রধান পাত্রবাহকের ও প্রধান মিষ্টি-প্রস্তুতকারকের মাথা উচ্চ করলেন।
৪০:২১ হ্যাঁ, তিনি প্রধান পাত্রবাহককে তার সেই পদে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করলেন, আর সে ফারাওর হাতে আবার পানপাত্র দিতে লাগল;
৪০:২২ কিন্তু তিনি প্রধান মিষ্টি-প্রস্তুতকারককে ঝুলিয়ে দিলেন; যেমনটি যোসেফ তাদের কাছে বলে দিয়েছিলেন।
৪০:২৩ তবু প্রধান পাত্রবাহক যোসেফের কথা স্মরণ করলেন না, তাঁকে ভুলেই গেল।
৪১:১ দু’বছর পরে ফারাও একটা স্বপ্ন দেখলেন। দেখ, তিনি নদীকূলে দাঁড়িয়ে আছেন;
৪১:২ আর দেখ, নদী থেকে সাতটা সুশ্রী ও মোটা-সোটা গাভী উঠে এল, ও খাগড়া বনে চরতে লাগল।
৪১:৩ সেগুলির পরে, দেখ, আর সাতটা কুশ্রী ও রুগ্ন গাভী নদী থেকে উঠে এল, ও নদীর কূলে ওই গাভীদের কাছে দাঁড়াল।
৪১:৪ কিন্তু সেই কুশ্রী ও রুগ্ন গাভীগুলো ওই সাতটা সুশ্রী ও মোটা-সোটা গাভীকে খেয়ে ফেলল। তখন ফারাওর ঘুম ভেঙে গেল।
৪১:৫ তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়লেন ও দ্বিতীয়বারের মত স্বপ্ন দেখলেন; দেখ, এক বৃন্তে সাতটা বড় বড় ভাল ভাল শিষ ধরল।
৪১:৬ সেগুলোর পরে, দেখ, পুববাতাসে দগ্ধ অন্য সাতটা ক্ষীণ শিষও ধরল।
৪১:৭ আর এই ক্ষীণ শিষগুলো ওই সাতটা বড় বড় পূর্ণাঙ্গ শিষ গ্রাস করল। ফারাওর ঘুম ভেঙে গেল: আর দেখ, এসব স্বপ্নমাত্র!
৪১:৮ সকালে তাঁর মন অস্থির ছিল, তাই তিনি লোক পাঠিয়ে মিশরের সকল মন্ত্রজালিক ও সেখানকার সকল জ্ঞানীগুণীকে ডাকিয়ে আনলেন। ফারাও তাদের কাছে স্বপ্নের বর্ণনা দিলেন, কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই ফারাওকে স্বপ্নের অর্থ বলতে পারল না।
৪১:৯ তখন প্রধান পাত্রবাহক ফারাওকে উদ্দেশ করে বলল, ‘আজ আমার মনে পড়ছে যে, আমি দোষী হলাম:
৪১:১০ সেসময় ফারাও তাঁর দুই দাসের উপর, আমার ও প্রধান মিষ্টি-প্রস্তুতকারকের উপর, কুপিত হয়ে আমাদের প্রধান গৃহাধ্যক্ষের বাড়িতে কারারুদ্ধ করেছিলেন।
৪১:১১ সে ও আমি এক রাতে স্বপ্ন দেখেছিলাম; কিন্তু দু’জনের স্বপ্নের অর্থ ভিন্ন ছিল।
৪১:১২ তখন সেখানে হিব্রু এক যুবক আমাদের সঙ্গে ছিল, সে ছিল প্রধান গৃহাধ্যক্ষের দাস; আমরা তার কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করলে সে আমাদের তার অর্থ বলল; এক একজনকেই নিজ নিজ স্বপ্নের অর্থ বলল।
৪১:১৩ আর সে আমাদের যেমন অর্থ বলেছিল, ঠিক তেমনি ঘটল: আমাকে আমার আগেকার পদে ফিরিয়ে নেওয়া হল, আর অপরকে ফাঁসি দেওয়া হল।’
৪১:১৪ তখন ফারাও যোসেফকে ডেকে পাঠালেন। তারা কারাকুয়ো থেকে তাঁকে শীঘ্রই বের করে আনল; তিনি দাড়ি কাটলেন, পোশাক বদলি করলেন, ও ফারাওর সামনে এসে উপস্থিত হলেন।
৪১:১৫ ফারাও যোসেফকে বললেন, ‘আমি এক স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু এমন কেউ নেই যে তার অর্থ বলতে পারে। তোমার সম্বন্ধে আমি শুনেছি যে, তুমি স্বপ্ন শুনলেই তার অর্থ বলতে পার।’
৪১:১৬ যোসেফ ফারাওকে উত্তরে বললেন, ‘আমি নয়, পরমেশ্বরই ফারাওর মঙ্গলের জন্য উত্তর দেবেন!’
৪১:১৭ তখন ফারাও যোসেফকে বললেন, ‘দেখ, আমি স্বপ্নে নদীকূলে দাঁড়িয়ে ছিলাম;
৪১:১৮ আর দেখ, নদী থেকে সাতটা সুশ্রী ও মোটা-সোটা গাভী উঠে এল, ও খাগড়া বনে চরতে লাগল।
৪১:১৯ সেগুলির পরে, দেখ, অন্য সাতটা দুর্বল, কুশ্রী ও রুগ্ন গাভী উঠে এল; সারা মিশর দেশ জুড়ে তেমন কুশ্রী গাভী আমি কখনও দেখিনি।
৪১:২০ আর এই রুগ্ন ও কুশ্রী গাভীগুলো সেই আগেকার মোটা-সোটা সাতটা গাভীকে খেয়ে ফেলল।
৪১:২১ এগুলো সেগুলোর দেহে ঢুকল ঠিকই, কিন্তু এমনটি বোঝা যাচ্ছিল না যে, সেগুলোর দেহে ঢুকেছে, কেননা সেগুলো আগেকার মত কুশ্রীই রইল।
৪১:২২ তখন আমার ঘুম ভেঙে গেল। পরে আমি আর এক স্বপ্ন দেখেছি; আর দেখ, এক বৃন্তে বড় বড় ভাল ভাল সাতটা শিষ ধরল।
৪১:২৩ আর দেখ, সেগুলোর পরে ম্লান, ক্ষীণ ও পুববাতাসে দগ্ধ সাতটা শিষও ধরল।
৪১:২৪ আর এই ক্ষীণ শিষগুলো সেই ভাল সাতটা শিষকে গ্রাস করল। এই স্বপ্ন আমি মন্ত্রজালিকদের বললাম, কিন্তু কেউই তার অর্থ আমাকে বলতে পারল না।’
৪১:২৫ তখন যোসেফ ফারাওকে বললেন, ‘ফারাওর স্বপ্ন আসলে এক; পরমেশ্বর যা করতে যাচ্ছেন, তা-ই ফারাওর কাছে জানিয়ে দিয়েছেন।
৪১:২৬ ওই সাতটা ভাল গাভী সাত বছর, এবং ওই সাতটা ভাল শিষও সাত বছর: স্বপ্ন এক!
৪১:২৭ সেগুলোর পরে যে সাতটা রুগ্ন ও কুশ্রী গাভী উঠে এল, তারাও সাত বছর; এবং পুববাতাসে দগ্ধ যে সাতটা রুগ্ন শিষ ধরল, তাও সাত বছর: দুর্ভিক্ষেরই সাত বছর হবে।
৪১:২৮ আমি ফারাওকে ঠিক তাই বললাম: পরমেশ্বর যা করতে যাচ্ছেন, তা ফারাওকে দেখিয়েছেন।
৪১:২৯ দেখুন, এমন সাত বছর আসছে, যখন সারা মিশর দেশে অধিক শস্য-প্রাচুর্য হবে;
৪১:৩০ কিন্তু সেগুলোর পরে দুর্ভিক্ষেরই এমন সাত বছর আসবে, যখন মিশর দেশে সমস্ত শস্য-প্রাচুর্যের কথা ভুলে যাওয়া হবে, এবং সেই দুর্ভিক্ষ দেশকে নিঃশেষ করে ফেলবে।
৪১:৩১ পরবর্তীকালীন যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে, তা এতই কষ্টকর হবে যে, দেশে আগেকার শস্য-প্রাচুর্যের কথা আর মনে পড়বে না।
৪১:৩২ ফারাওর কাছে দু’বার স্বপ্ন দেখাবার কারণ এই: পরমেশ্বর এই সমস্ত কিছু স্থির করেছেন, এবং পরমেশ্বর তা শীঘ্রই ঘটাবেন।
৪১:৩৩ সুতরাং এখন ফারাও একজন বুদ্ধিসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাবান মানুষকে পাবার কথা চিন্তা করুন, এবং তাঁকে মিশর দেশের উপরে নিযুক্ত করুন।
৪১:৩৪ তাছাড়া ফারাও এও করুন: দেশে নানা অধ্যক্ষ নিযুক্ত ক’রে, যে সাত বছর শস্য-প্রাচুর্য হবে, সে সময়ে মিশর দেশ থেকে পাঁচ ভাগের এক ভাগ শস্য কর হিসাবে আদায় করুন।
৪১:৩৫ তাঁরা সেই আগামী শুভ বছরগুলোর খাদ্য-দ্রব্য সংগ্রহ করুন, ও ফারাওর নিজের অধীনে শহরে শহরে খাদ্যের জন্য শস্য জমিয়ে রাখুন ও রক্ষা করুন।
৪১:৩৬ এভাবে মিশর দেশে যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে, সেই সাত বছর দুর্ভিক্ষের জন্য সেই খাদ্য দেশের জন্য মজুত হিসাবে রাখা হবে, তাতে দুর্ভিক্ষে দেশের বিনাশ ঘটবে না।’
৪১:৩৭ ফারাওর ও তাঁর সকল পরিষদের দৃষ্টিতে কথাটা উত্তম মনে হল।
৪১:৩৮ ফারাও তাঁর পরিষদদের বললেন, ‘এঁর মত মানুষ যাঁর অন্তরে পরমেশ্বরের আত্মা আছেন, আমরা এমন আর কাকে পাব?’
৪১:৩৯ ফারাও যোসেফকে বললেন, ‘যেহেতু পরমেশ্বর তোমাকে এই সমস্ত কিছু জানিয়ে দিয়েছেন, সেজন্য তোমার মত বুদ্ধিসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাবান কেউই নেই।
৪১:৪০ তুমিই আমার প্রধান অধ্যক্ষ হবে; আমার সকল প্রজা তোমার বাণীর পক্ষে দাঁড়াবে; কেবল সিংহাসনে আমি তোমার চেয়ে বড় থাকব।’
৪১:৪১ ফারাও যোসেফকে একথাও বললেন, ‘দেখ, আমি তোমাকে সমস্ত মিশর দেশের উপরে নিযুক্ত করলাম।’
৪১:৪২ ফারাও হাত থেকে নিজের আঙটি খুলে যোসেফের হাতে দিলেন, তাঁকে রেশমী কাপড়ের শুভ্র পোশাক পরালেন, এবং তাঁর গলায় সোনার হার দিলেন।
৪১:৪৩ তাঁকে তাঁর নিজের দ্বিতীয় রথে উঠতে দিলেন, এবং তাঁর আগে আগে লোকে ঘোষণা করে বলত, ‘হাঁটু পাত!’
এইভাবে তিনি সমস্ত মিশর দেশের অধ্যক্ষপদে অধিষ্ঠিত হলেন।
৪১:৪৪ পরে ফারাও যোসেফকে বললেন, ‘আমি ফারাও বটে, কিন্তু তোমার হুকুম ছাড়া সারা মিশর দেশে কেউই হাত কি পা নাড়াতে পারবে না।’
৪১:৪৫ ফারাও যোসেফের নাম সাফেনাৎ-পানেয়াহ্‌ রাখলেন, এবং তাঁর সঙ্গে ওন শহরের যাজক পোটিফেরার কন্যা আসেনাতের বিবাহ দিলেন। আর যোসেফ মিশর দেশ জুড়ে যাতায়াত করতে লাগলেন।
৪১:৪৬ যোসেফ যখন মিশর-রাজ ফারাওর সামনে দাঁড়ান, তখন তাঁর বয়স ত্রিশ বছর। ফারাওর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পর যোসেফ মিশর দেশের সমস্ত জায়গায় ঘুরতে লাগলেন।
৪১:৪৭ আর সেই শস্য-প্রাচুর্যের সাত বছর ধরে ভূমি অপর্যাপ্ত শস্য উৎপন্ন করল।
৪১:৪৮ মিশর দেশে যে সাত বছর শস্য-প্রাচুর্য দেখা দিল, সেই সাত বছরের সমস্ত শস্য সংগ্রহ করে তিনি শহরে শহরে জমিয়ে রাখলেন; অর্থাৎ প্রতিটি শহরের চারপাশের মাঠে যে শস্য হল, সেই শহরেই তা জমিয়ে রাখলেন।
৪১:৪৯ এইভাবে যোসেফ সমুদ্রের বালুকণার মত এমন প্রচুর শস্য সংগ্রহ করলেন যে, তা আর মাপা হল না, কেননা তা পরিমাপের অতীত ছিল।
৪১:৫০ দুর্ভিক্ষ-বর্ষকালের আগে যোসেফের ঘরে দু’টো ছেলের জন্ম হল: ওন-নিবাসী পোটিফেরা যাজকের কন্যা আসেনাৎ তাঁর ঘরে এদের প্রসব করলেন।
৪১:৫১ যোসেফ বড়জনের নাম মানাসে রাখলেন: তিনি বললেন, ‘পরমেশ্বর এমনটি ঘটিয়েছেন, যেন আমি আমার সমস্ত ক্লেশের ও আমার সমস্ত পিতৃকুলের কথা ভুলে যাই।’
৪১:৫২ দ্বিতীয়জনের নাম এফ্রাইম রাখলেন: তিনি বললেন, ‘আমার দুঃখভোগের দেশে পরমেশ্বর আমাকে ফলবান করেছেন।’
৪১:৫৩ তখন মিশর দেশে শস্য-প্রাচুর্যের সাত বছর শেষ হল,
৪১:৫৪ ও সাত বছর-দুর্ভিক্ষ আরম্ভ হল—ঠিক যেমনটি যোসেফ বলেছিলেন। সকল দেশেই দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, কিন্তু সারা মিশর দেশে খাদ্য ছিল।
৪১:৫৫ কিন্তু যখন সারা মিশর দেশেও ক্ষুধা দেখা দিল, আর প্রজারা ফারাওর কাছে খাদ্যের জন্য চিৎকার করল, তখন ফারাও মিশরীয় সকলকে বললেন, ‘যোসেফের কাছে যাও; তিনি তোমাদের যা বলবেন, তাই কর।’
৪১:৫৬ সেসময়ে দুর্ভিক্ষ সারা পৃথিবী জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন যোসেফ সব গোলাঘর খুলে মিশরীয়দের কাছে শস্য বিক্রি করতে লাগলেন; এমনকি মিশর দেশেও দুর্ভিক্ষ প্রবল হতে চলল।
৪১:৫৭ লোকে সমগ্র পৃথিবী থেকেই মিশর দেশে যোসেফের কাছে শস্য কিনতে আসছিল, কেননা সারা পৃথিবী জুড়েই দুর্ভিক্ষ প্রবল হয়ে উঠেছিল।
৪২:১ যাকোব জানতে পারলেন, মিশর দেশে শস্য পাওয়া যায়; তাই তাঁর ছেলেদের বললেন, ‘তোমরা একে অন্যের মুখের দিকে চেয়ে অনর্থক বলাবলি করছ কেন?’
৪২:২ তিনি বলে চললেন, ‘দেখ, আমি শুনলাম, মিশরে শস্য আছে। তোমরা সেইখানে যাও, আমাদের জন্য শস্য কিনে নিয়ে এসো, তাহলেই আমরা বাঁচব, মরব না।’
৪২:৩ তখন যোসেফের ভাইদের মধ্যে দশজন শস্য কিনবার জন্য মিশরে গেলেন;
৪২:৪ কিন্তু যাকোব যোসেফের সহোদর বেঞ্জামিনকে ভাইদের সঙ্গে পাঠালেন না; তিনি ভাবছিলেন, ‘পাছে তার কোন অমঙ্গল ঘটে!’
৪২:৫ সুতরাং যারা সেখানে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে ইস্রায়েলের ছেলেরাও শস্য কিনবার জন্য গেলেন, কেননা কানান দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল।
৪২:৬ দেশের উপরে অধিকারপ্রাপ্ত মানুষ হওয়ায় যোসেফই দেশের সমস্ত লোকের কাছে শস্য বিক্রি করতেন; তাই যোসেফের ভাইয়েরা তাঁর কাছে গিয়ে মাটিতে মাথা নত করে প্রণিপাত করলেন।
৪২:৭ যোসেফ তাঁর ভাইদের দেখামাত্র তাঁদের চিনতে পারলেন, কিন্তু তাঁদের কাছে অপরিচিতের মতই ব্যবহার করলেন; তাঁদের সঙ্গে রুক্ষভাবেই কথা বললেন; তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কোথা থেকে আসছ?’ তাঁরা উত্তরে বললেন, ‘কানান দেশ থেকে খাদ্য কিনতে এসেছি।’
৪২:৮ তাই যখন যোসেফ ভাইদের চিনতে পারলেন কিন্তু তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন না,
৪২:৯ তখন যোসেফের সেই স্বপ্নের কথা মনে পড়ল, যা তিনি তাঁর ভাইদের সম্বন্ধে দেখেছিলেন; তাঁদের বললেন, ‘তোমরা গুপ্তচর! তোমরা দেশের দুর্বল জায়গা দেখতে এসেছ।’
৪২:১০ তাঁরা বললেন, ‘না, প্রভু, আপনার এই দাসেরা খাদ্য কিনতেই এসেছে;
৪২:১১ আমরা সকলে এক পিতার সন্তান; আমরা তো সৎলোক, আপনার এই দাসেরা গুপ্তচর নয়।’
৪২:১২ কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, ‘না, না, তোমরা দেশের দুর্বল জায়গা দেখতে এসেছ!’
৪২:১৩ তাঁরা বললেন, ‘আপনার এই দাসেরা বারো ভাই, কানান দেশনিবাসী একজনেরই সন্তান। দেখুন, আমাদের ছোট ভাই বর্তমানে পিতার কাছে রয়েছে, আর একজন আর নেই।’
৪২:১৪ তখন যোসেফ তাঁদের বললেন, ‘আমি তোমাদের যা বলেছি, আসলে ঠিক তাই: তোমরা গুপ্তচর!
৪২:১৫ তোমাদের এইভাবেই যাচাই করা হবে: আমি ফারাওর প্রাণের দিব্যি দিয়ে বলছি, তোমাদের ছোট ভাই এখানে না আসা পর্যন্ত তোমরা এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে না।
৪২:১৬ তোমাদের একজনকে পাঠিয়ে তোমাদের সেই ভাইকে নিয়ে এসো; তোমরা বন্দি অবস্থায় থাকবে। এইভাবে তোমাদের কথা যাচাই করা হোক, যেন জানা যেতে পারে তোমরা সত্যবাদী কিনা। নইলে, আমি ফারাওর প্রাণের দিব্যি দিয়ে বলছি, তোমরা নিশ্চয়ই গুপ্তচর!’
৪২:১৭ আর তিনি তাঁদের কারাগারে তিন দিন রাখলেন।
৪২:১৮ তৃতীয় দিনে যোসেফ তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এই কাজ কর, তবেই বাঁচবে; আমি তো পরমেশ্বরকে ভয় করি।
৪২:১৯ তোমরা যদি সৎলোক হও, তবে তোমাদের এক ভাই তোমাদের সেই কারাগারে বন্দি অবস্থায় থাকুক; আর তোমরা তোমাদের নিজ নিজ বাড়ির খাদ্য-অভাবের জন্য শস্য নিয়ে যাও;
৪২:২০ পরে তোমাদের ছোট ভাইকে আমার কাছে নিয়ে আসবে; তোমরা যা কিছু বলেছ, তা এইভাবে প্রমাণিত হবে, আর তোমাদের মরতে হবে না।’ তাঁরা সম্মত হলেন।
৪২:২১ তখন তাঁরা একে অপরকে বললেন, ‘নিশ্চয় আমাদের ভাইয়ের বিষয়ে আমাদের অপরাধের জন্য আমাদের শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে, কেননা সে আমাদের কাছে মিনতি করলে আমরা তাঁর প্রাণের দুর্দশা দেখেও তাকে শুনিনি; এজন্য আমাদের উপর এই দুর্দশা নেমে পড়েছে।’
৪২:২২ রূবেন তাঁদের উদ্দেশ করে বলে উঠলেন, ‘আমি কি তোমাদের বলেছিলাম না, ছেলেটির বিরুদ্ধে তোমরা পাপ করো না? কিন্তু তোমরা শোননি; এই যে, এখন আমাদের কাছ থেকে তার রক্তের হিসাব নেওয়া হচ্ছে!’
৪২:২৩ তাঁরা জানতেন না যে, যোসেফ তাঁদের এই কথা বুঝতে পারছিলেন, কেননা দু’পক্ষের মধ্যে সব কথাবার্তা দোভাষীর মাধ্যমেই হচ্ছিল।
৪২:২৪ তাঁদের কাছ থেকে সরে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেললেন। পরে ফিরে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন; ও তাঁদের মধ্য থেকে সিমেয়োনকে বেছে নিয়ে তাঁদের সামনেই দড়ি দিয়ে তাঁকে বাঁধবার হুকুম দিলেন।
৪২:২৫ যোসেফ তাঁদের বস্তায় শস্য ভরে দিতে, প্রত্যেকজনের বস্তায় টাকা ফিরিয়ে দিতে, ও তাঁদের যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী দিতে হুকুম দিলেন; তাঁদের জন্য সেইমত করা হল।
৪২:২৬ তাঁদের নিজ নিজ গাধার পিঠে শস্য চাপিয়ে দিয়ে তাঁরা সেখান থেকে চলে গেলেন।
৪২:২৭ তাঁরা এক জায়গায় রাত কাটাচ্ছেন, এমন সময় তাঁদের একজন নিজের গাধাকে খাবার দিতে গিয়ে বস্তা খুলে দিলেন, তখন নিজের টাকা দেখতে পেলেন, আর দেখ, বস্তার মুখেই সেই টাকা!
৪২:২৮ তিনি ভাইদের বললেন, ‘টাকাটা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে! দেখ, আমার বস্তাতেই রয়েছে।’ তাঁদের প্রাণ একেবারে উড়ে গেল, সকলে ভয়ে কাঁপতে লাগলেন, একে অপরকে বললেন, ‘পরমেশ্বর আমাদের কীবা করলেন?’
৪২:২৯ কানান দেশে তাঁদের পিতা যাকোবের কাছে ফিরে এসে তাঁরা তাঁদের যা কিছু ঘটেছিল, সেই সমস্ত কথা তাঁকে জানালেন;
৪২:৩০ বললেন, ‘যে লোক সেই দেশের প্রভু, তিনি আমাদের সঙ্গে রুক্ষভাবেই কথা বললেন, আর দেশের গুপ্তচর বলে আমাদের অভিযুক্ত করলেন।
৪২:৩১ আমরা তাঁকে বললাম, আমরা সৎলোক, গুপ্তচর নই;
৪২:৩২ আমরা বারো ভাই, সকলেই এক পিতার সন্তান; কিন্তু একজন আর নেই, এবং ছোটজন বর্তমানে কানান দেশে পিতার কাছে রয়েছে।
৪২:৩৩ কিন্তু সেই লোক, সেই দেশের প্রভু আমাদের বললেন, আমি এতেই জানতে পারব যে, তোমরা সৎলোক: তোমাদের এক ভাইকে আমার কাছে রেখে তোমাদের বাড়ির খাদ্য-অভাবের জন্য শস্য নিয়ে যাও;
৪২:৩৪ পরে তোমাদের সেই ছোট ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো; তাহলেই আমি বুঝতে পারব যে, তোমরা গুপ্তচর নও, তোমরা সৎলোক। তখন আমি তোমাদের ভাইকে তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দেব, এবং তোমরা অবাধে দেশে যাতায়াত করতে পারবে।’
৪২:৩৫ তাঁরা বস্তা থেকে শস্য ঢেলে দিলে, দেখ, প্রত্যেকে নিজ নিজ বস্তায় নিজ নিজ টাকার থলি পেলেন। সেই সমস্ত টাকার থলি দেখে তাঁরা ও তাঁদের পিতা ভয় পেলেন।
৪২:৩৬ তখন তাঁদের পিতা যাকোব বললেন, ‘তোমরা আমাকে সন্তান-বঞ্চিত করছ! যোসেফ আর নেই, সিমেয়োন আর নেই, আবার বেঞ্জামিনকেও নিয়ে যেতে চাচ্ছ। এই সবকিছু আমার মাথায় এসে পড়ছে!’
৪২:৩৭ তখন রূবেন তাঁর পিতাকে বললেন, ‘আমি যদি তোমার কাছে তাকে ফিরিয়ে না আনি, তবে আমার দুই ছেলেকে হত্যা করবে; তাকে আমার হাতে তুলে দাও; আমি তাকে তোমার কাছে আবার ফিরিয়ে আনব।’
৪২:৩৮ কিন্তু তিনি বললেন, ‘আমার ছেলেটি তোমাদের সঙ্গে যাবেই না, কারণ তার সহোদর মারা গেছে, সে একা রয়েছে। তোমরা যে যাত্রা করতে যাচ্ছ, সেই যাত্রাপথে যদি তার কোন অমঙ্গল ঘটে, তবে তোমরা আমার এই পাকা চুল শোকে পাতালে নামিয়ে দেবে।’
৪৩:১ কিন্তু দেশ জুড়ে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে থাকল।
৪৩:২ তাঁরা মিশর থেকে যে শস্য নিয়ে এসেছিলেন, তা খেতে খেতে ফুরিয়ে গেলে তাঁদের পিতা তাঁদের বললেন, ‘তোমরা আবার যাও, আমাদের জন্য কিছু খাদ্য কিনে নিয়ে এসো।’
৪৩:৩ তখন যুদা তাঁকে বললেন, ‘কিন্তু সেই লোক আমাদের স্পষ্টই বলেছেন, তোমাদের ভাই তোমাদের সঙ্গে না থাকলে তোমরা আমার মুখ দেখতে পাবে না।
৪৩:৪ তুমি আমাদের সঙ্গে আমাদের ভাইকে পাঠাতে সম্মত হলে আমরা গিয়ে তোমার জন্য খাদ্য কিনে নিয়ে আসব;
৪৩:৫ কিন্তু তাকে পাঠাতে সম্মত না হলে আমরা যাব না, কারণ লোকটি আমাদের বলেছেন, তোমাদের ভাই তোমাদের সঙ্গে না থাকলে তোমরা আমার মুখ দেখতে পাবে না।’
৪৩:৬ তখন ইস্রায়েল বললেন, ‘তোমাদের আর এক ভাই আছে, তেমন কথা ওই লোকটাকে বলে তোমরা আমার উপর কেন এমন দুর্দশা এনেছ?’
৪৩:৭ তাঁরা উত্তরে বললেন, ‘তিনি আমাদের ও আমাদের পরিবার সম্বন্ধে ঘন ঘন জিজ্ঞাসাবাদ করলেন, বললেন, তোমাদের পিতা কি এখনও বেঁচে আছেন? তোমাদের কি আরও ভাই আছে? আর আমরা সেই প্রশ্ন অনুসারে উত্তর দিয়েছিলাম। কেমন করে জানতে পারতাম যে, তিনি বলবেন, তোমাদের ভাইকে এখানে নিয়ে এসো?’
৪৩:৮ যুদা তাঁর পিতা ইস্রায়েলকে বললেন, ‘ছেলেটিকে আমার সঙ্গে পাঠিয়ে দাও; আমরা সঙ্গে সঙ্গে রওনা হব, যেন তুমি ও আমাদের ছেলেরা ও আমরা বাঁচতে পারি, কেউ যেন না মরে।
৪৩:৯ আমিই তার জামিন হলাম, আমারই হাত থেকে তাকে দাবি করবে। যদি আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে না আনি ও তোমার সামনে উপস্থিত না করি, তবে আমি আজীবন তোমার কাছে অপরাধী থাকব।
৪৩:১০ এত দেরি না করলে আমরা ইতিমধ্যে দ্বিতীয়বারের মত ফিরে আসতে পারতাম!’
৪৩:১১ তখন তাঁদের পিতা ইস্রায়েল তাঁদের বললেন, ‘যদি তেমনটি হতে হয়, তবে একাজ কর: তোমরা নিজ নিজ পাত্রে এই দেশের সেরা দ্রব্য—সুরভি মলম, মধু, দামী গঁদ, গন্ধনির্যাস, পেস্তা ও বাদাম কিছু কিছু নিয়ে গিয়ে সেই লোককে উপহার রূপে দান কর।
৪৩:১২ হাতে তোমরা দ্বিগুণ টাকা নাও, এবং তোমাদের বস্তার মুখে যে টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাও হাতে করে আবার নিয়ে যাও; হয় তো বা একটা ভুল ঘটেছিল।
৪৩:১৩ তোমাদের ভাইকেও নিয়ে যাও; এবার রওনা হও, আবার সেই লোকের কাছে যাও।
৪৩:১৪ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সেই লোকের কাছে তোমাদের করুণার পাত্র করুন, যেন তিনি তোমাদের সেই অন্য ভাইকে ও বেঞ্জামিনকে মুক্ত করে দেন। আমাকে যদি সন্তান-বঞ্চিত হতে হয়, সন্তান-বঞ্চিত হবই!’
৪৩:১৫ তাঁরা সেই উপহার নিলেন, আর সেইসঙ্গে দ্বিগুণ টাকা ও বেঞ্জামিনকে নিয়ে রওনা হলেন, এবং মিশরে পৌঁছে যোসেফের সামনে দাঁড়ালেন।
৪৩:১৬ তাঁদের সঙ্গে বেঞ্জামিনকে দেখে যোসেফ তাঁর গৃহের প্রধান কর্মচারীকে বললেন, ‘এই কয়েকটি লোককে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাও, ও একটা পশু মেরে তা প্রস্তুত কর, কারণ দুপুরে এঁরা আমার সঙ্গে বসে খাবেন।’
৪৩:১৭ যোসেফ যেমন বললেন, কর্মচারী সেইমত করলেন: তাঁদের যোসেফের বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
৪৩:১৮ যোসেফের বাড়িতে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এতে তাঁরা ভয় পেলেন; একে অপরকে বললেন, ‘আগে আমাদের বস্তায় যে টাকা ফেরানো হয়েছিল, তারই জন্য আমাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে: হ্যাঁ, আমাদের আক্রমণ করে তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে ও আমাদের তাদের দাস করবে; আমাদের গাধাগুলিও কেড়ে নেবে।’
৪৩:১৯ তাই তাঁরা যোসেফের প্রধান কর্মচারীর কাছে গিয়ে বাড়ির প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন;
৪৩:২০ তাঁরা বললেন, ‘মহাশয়, আমরা আগে একবার খাদ্য কিনতে এসেছিলাম;
৪৩:২১ পরে এমন জায়গায় গিয়ে যেখানে রাত কাটাব আমরা নিজ নিজ বস্তা খুলে দিলাম, আর দেখুন, প্রত্যেকজনের টাকা তার বস্তার মুখে—ঠিক পরিমাণ টাকা; কিন্তু তা আমরা আবার হাতে করে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছি,
৪৩:২২ এবং খাদ্য কিনবার জন্য আরও টাকা নিয়ে এসেছি; আর আমরা তো জানি না, কেইবা আমাদের সেই টাকা আমাদের বস্তায় দিয়েছে।’
৪৩:২৩ লোকটি বললেন, ‘শান্ত হোন, ভয় করবেন না; আপনাদের পরমেশ্বর, আপনাদের পিতৃপুরুষদের পরমেশ্বর আপনাদের বস্তায় আপনাদের জন্য ধন দিয়েছেন; আমি আপনাদের টাকা পেয়েছি।’ আর সিমেয়োনকে বের করে তাঁকে তাঁদের কাছে আনলেন।
৪৩:২৪ পরে সে তাঁদের যোসেফের বাড়ির ভিতরে নিয়ে গিয়ে জল দিল, আর তাঁরা পা ধুয়ে নিলেন, এবং সে তাঁদের গাধাগুলোকে খাবার দিল।
৪৩:২৫ দুপুরে যোসেফ আসবেন বিধায় তাঁরা উপহারটা সাজালেন, কেননা তাঁরা শুনেছিলেন যে, সেইখানে তাঁদের খাওয়া-দাওয়া করতে হবে।
৪৩:২৬ যোসেফ ঘরে এলে তাঁরা তাঁদের সঙ্গে যে উপহার ছিল, তা তাঁর কাছে নিবেদন করলেন, ও তাঁর সামনে মাটিতে মুখ করে প্রণিপাত করলেন।
৪৩:২৭ তাঁরা কেমন আছেন তা জিজ্ঞাসা করে তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমরা যে বৃদ্ধের কথা বলেছিলে, তোমাদের সেই পিতা কেমন আছেন? তিনি কি এখনও বেঁচে আছেন?’
৪৩:২৮ তাঁরা উত্তরে বললেন, ‘আপনার দাস আমাদের পিতা ভালই আছেন, তিনি এখনও বেঁচে আছেন।’ আর তাঁরা মাথা নত করে প্রণিপাত করলেন।
৪৩:২৯ যোসেফ চোখ তুলে তাঁর ভাই বেঞ্জামিনকে, তাঁর আপন সহোদরকে দেখে বললেন, ‘তোমাদের যে ছোট ভাইয়ের কথা আমাকে বলেছিলে, সে কি এই?’ আর বলে চললেন, ‘বৎস, পরমেশ্বর তোমার প্রতি সদয় হোন!’
৪৩:৩০ তখন যোসেফ তাড়াতাড়ি বাইরে চলে গেলেন, কারণ তাঁর ভাইয়ের প্রতি এমন মায়া অনুভব করছিলেন যে, তিনি কাঁদতে চাচ্ছিলেন: নিজের ঘরে গিয়ে সেখানে কেঁদে ফেললেন।
৪৩:৩১ পরে মুখ ধুয়ে তিনি বাইরে এলেন, ও নিজেকে সংবরণ করে হুকুম দিলেন: ‘খাদ্য পরিবেশন করা হোক!’
৪৩:৩২ তা তাঁর জন্য আলাদাভাবে পরিবেশন করা হল, তাঁর ভাইদেরও জন্য ও তাঁর মিশরীয় পরিজনদেরও জন্য আলাদাভাবে পরিবেশন করা হল, কারণ মিশরীয়েরা হিব্রুদের সঙ্গে খেতে বসে না, মিশরীয়দের পক্ষে তা করা জঘন্যই কর্ম।
৪৩:৩৩ তাঁরা যোসেফের সামনে নিজ নিজ আসন নিলেন—বড়জন থেকে ছোটজন পর্যন্ত নিজ নিজ বয়স অনুসারেই আসন নিলেন, এবং বিস্মিত হয়ে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন।
৪৩:৩৪ তিনি নিজেরই অংশ থেকে খাদ্যের অংশ তুলে তাঁদের পরিবেশন করালেন; কিন্তু বেঞ্জামিনের অংশ সকলের অংশের চেয়ে পাঁচগুণ বড় ছিল। আর তাঁরা তাঁর সঙ্গে ফুর্তি করে পান করলেন।
৪৪:১ পরে তিনি তাঁর প্রধান কর্মচারীকে এই হুকুম দিলেন, ‘এই লোকদের বস্তায় যত শস্য ধরে, তা ভরে দাও, এবং প্রত্যেকজনের টাকা তার বস্তার মুখে রাখ।
৪৪:২ ছোটজনের বস্তার মুখে তার কেনা শস্যের টাকার সঙ্গে আমার বাটি, আমার রুপোর যে বাটি, তাও রাখ।’ সে যোসেফের হুকুম অনুসারে কাজ করল।
৪৪:৩ সকাল হলে তাঁরা গাধাগুলোর সঙ্গে রওনা হলেন।
৪৪:৪ তাঁরা শহর থেকে বেরিয়ে গিয়ে একটু দূরে যেতে না যেতেই যোসেফ তাঁর বাড়ির প্রধান কর্মচারীকে বললেন, ‘শীঘ্রই, ওই লোকদের পিছনে দৌড়ে যাও। তাঁদের নাগাল পেয়ে তাঁদের বল, উপকারের বিনিময়ে তোমরা অপকার করেছ কেন?
৪৪:৫ এ কি সেই বাটি নয়, যা থেকে আমার প্রভু পান করেন ও যার মধ্য দিয়ে দৈব গণনা করেন? তেমন কাজ করায় তোমরা অন্যায় করেছ।’
৪৪:৬ তাই সে যখন তাঁদের নাগাল পেল, তখন সেই কথাই বলল।
৪৪:৭ তাঁরা তাকে বললেন, ‘আমার প্রভু কেন এই কথা বলছেন? আপনার দাসেরা যে তেমন কাজ করবে, তা দূরের কথা!
৪৪:৮ দেখুন, আমরা নিজ নিজ বস্তার মুখে যে টাকা পেয়েছিলাম, তা কানান দেশ থেকে আবার আপনার কাছে ফিরিয়ে এনেছি; আমরা কেমন করে আপনার প্রভুর বাড়ি থেকে সোনা-রুপো চুরি করব?
৪৪:৯ আপনার দাসদের মধ্যে যার কাছে তা পাওয়া যাবে, সে মরবে; আর আমরা আমার প্রভুর দাস হব।’
৪৪:১০ সে বলল, ‘আচ্ছা, তোমরা যেমন বলেছ, সেইমত হোক; যার কাছে তা পাওয়া যাবে, সে আমার দাস হবে, আর বাকি সকলে নির্দোষী হবে।’
৪৪:১১ তাঁরা শীঘ্রই নিজেদের বস্তাগুলো মাটিতে নামিয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ বস্তার মুখ খুলে দিলেন;
৪৪:১২ আর সে বড়জন থেকে শুরু করে ছোটজনের বস্তা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করল: বাটিটা বেঞ্জামিনের বস্তায়ই পাওয়া গেল!
৪৪:১৩ তখন তাঁরা নিজেদের পোশাক ছিঁড়লেন, ও নিজ নিজ গাধার পিঠে বস্তা চাপিয়ে দিয়ে শহরে ফিরে গেলেন।
৪৪:১৪ যুদা ও তাঁর ভাইয়েরা যখন যোসেফের বাড়িতে এলেন, তিনি তখনও সেখানে ছিলেন; তাই তাঁরা তাঁর সম্মুখে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।
৪৪:১৫ যোসেফ তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এ কেমন কাজ করেছ? তোমরা কি একথা জানতে না যে, আমার মত মানুষ দৈব গণনা করে?’
৪৪:১৬ যুদা বললেন, ‘আমরা আমার প্রভুকে কী উত্তর দেব? কী কথা বলব? কেমন করে নিজেদের নির্দোষী বলে সাব্যস্ত করব? পরমেশ্বর নিজেই আপনার দাসদের অপরাধ উদ্ঘাটন করেছেন; এই যে, আমরা ও যার কাছে বাটিটা পাওয়া গেছে, সকলেই প্রভুর দাস হলাম!’
৪৪:১৭ যোসেফ বললেন, ‘আমি যে এমন কাজ করব, তা দূরের কথা! বাটিটা যার কাছে পাওয়া গেছে, সে-ই আমার দাস হবে; তোমাদের দিক থেকে, তোমরা শান্ত মনে তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যেতে পার।’
৪৪:১৮ তখন যুদা এগিয়ে গেলেন, বললেন, ‘প্রভু আমার, আপনার এই দাসকে অনুমতি দেওয়া হোক, সে যেন আমার প্রভুর কাছে ব্যক্তিগত ভাবেই একটা কথা বলতে পারে; এই দাসের উপরে আপনার ক্রোধ জ্বলে না উঠুক, কারণ আপনি ফারাওর সমান!
৪৪:১৯ আমার প্রভু এই দাসদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমাদের কি পিতা বা অন্য ভাই আছে?
৪৪:২০ উত্তরে আমরা আমার প্রভুকে বলেছিলাম, আমাদের বৃদ্ধ পিতা আছেন, এবং তাঁর বৃদ্ধ বয়সের ছোট এক ছেলে আছে; তার সহোদরের মৃত্যু হয়েছে; তাই সে তার মাতার সন্তানদের মধ্যে এখন একাই রয়েছে, এবং তার পিতা তাকে স্নেহ করেন।
৪৪:২১ আপনি আপনার দাসদের বলেছিলেন, তোমরা আমার কাছে তাকে নিয়ে এসো, যেন আমি তাকে নিজের চোখেই দেখতে পাই।
৪৪:২২ আমরা আমার প্রভুকে বলেছিলাম, ছেলেটি পিতাকে ছেড়ে আসতে পারবে না, সে পিতাকে ছেড়ে এলে পিতা মারা যাবেন।
৪৪:২৩ কিন্তু আপনি এই দাসদের বলেছিলেন, সেই ছোট ভাই তোমাদের সঙ্গে না এলে তোমরা আমার মুখ পুনরায় দেখতে পাবে না।
৪৪:২৪ সুতরাং আপনার দাস যে আমার পিতা, তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে আমরা তাঁকে আমার প্রভুর সেই সমস্ত কথা বললাম।
৪৪:২৫ আর যখন আমাদের পিতা বললেন, তোমরা আবার যাও, আমাদের জন্য কিছু খাদ্য কিনে নিয়ে এসো,
৪৪:২৬ তখন আমরা বললাম, না, সেখানে যেতে পারব না; আমাদের সঙ্গে যদি ছোট ভাই থাকে, তবে যাব; কেননা ছোট ভাইটি সঙ্গে না থাকলে আমরা সেই লোকের মুখ দেখতে পাব না।
৪৪:২৭ তাই আপনার দাস আমার পিতা বললেন, তোমরা তো জান, আমার সেই স্ত্রীর গর্ভে কেবল দু’টো ছেলের জন্ম হয়েছে;
৪৪:২৮ যখন তাদের মধ্যে একজন আমাকে ছেড়ে চলে গেল, তখন আমি ভাবলাম, তাকে নিশ্চয় টুকরো টুকরো করা হয়েছে! আর সেসময় থেকে আমি তাকে আর দেখতে পাইনি।
৪৪:২৯ এখন আমার কাছ থেকে একেও নিয়ে গেলে যদি তার কোন অমঙ্গল ঘটে, তোমরা এই পাকা চুল শোকে পাতালে নামিয়ে দেবে।
৪৪:৩০ তাই আপনার দাস যে আমার পিতা, আমি তাঁর কাছে ফিরে গেলে আমাদের সঙ্গে যদি এই ছেলে না থাকে, তবে ছেলেটিকে আমাদের সঙ্গে না দেখলে তিনি মারা পড়বেন, কেননা তাঁর প্রাণ এই ছেলের প্রাণের সঙ্গে বাঁধা;
৪৪:৩১ আর এইভাবে আপনার এই দাসেরা আপনার দাস আমাদের পিতার পাকা চুল শোকে পাতালে নামিয়ে দেবেই।
৪৪:৩২ আরও, আপনার দাস আমি আমার পিতার কাছে এই ছেলের জামিন হয়ে বলেছিলাম, আমি যদি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে না আনি, তবে আজীবন পিতার কাছে অপরাধী থাকব।
৪৪:৩৩ সুতরাং অনুনয় করি, এই ছেলের বিনিময়ে আপনার দাস আমিই যেন আমার প্রভুর দাস হয়ে থাকি, কিন্তু ছেলেটিকে আপনি তার ভাইদের সঙ্গে যেতে দিন;
৪৪:৩৪ কেননা ছেলেটি আমার সঙ্গে না থাকলে আমি কেমন করে আমার পিতার কাছে যেতে পারি? না, আমার পিতার মাথায় যে দুর্দশা এসে পড়বে, আমি তা দেখে সহ্য করতে পারব না!’
৪৫:১ তখন যোসেফ কাছে দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের সামনে নিজেকে আর সামলাতে পারলেন না; তিনি বলে উঠলেন, ‘আমার সামনে থেকে সব লোককে বের করে দাও।’ তাই যোসেফ যখন তাঁর ভাইদের কাছে নিজের পরিচয় দিলেন, তখন সেখানে কেউই ছিল না।
৪৫:২ কিন্তু তিনি এত জোরেই কেঁদে উঠলেন যে, মিশরীয়েরা সকলেই তাঁর চিৎকার শুনতে পেল ও কথাটা ফারাওর প্রাসাদেও জানা হল।
৪৫:৩ যোসেফ তাঁর ভাইদের বললেন, ‘আমি যোসেফ; আমার পিতা কি এখনও বেঁচে আছেন?’ কিন্তু তাঁর উপস্থিতির জন্য বিহ্বল হয়ে তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে কোন উত্তর দিতে পারছিলেন না।
৪৫:৪ তখন যোসেফ তাঁর ভাইদের বললেন, ‘এসো, আমার কাছে কাছেই এসো!’ তাঁরা কাছে গেলে তিনি বললেন, ‘আমি যোসেফ, তোমাদের ভাই, যাকে তোমরা মিশরের জন্য বিক্রি করেছিলে।
৪৫:৫ কিন্তু তোমরা যে আমাকে এখানে বিক্রি করেছ, এর জন্য দুঃখ করো না, শোক করো না; কেননা তোমাদের প্রাণ বাঁচাবার জন্যই পরমেশ্বর তোমাদের আগে আগে আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।
৪৫:৬ কেননা এ দু’বছর হল যে দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে; আর আরও পাঁচ বছর ধরেই কোন চাষ বা ফসল হবে না।
৪৫:৭ পরমেশ্বর পৃথিবীতে তোমাদের বংশ রক্ষা করার জন্য ও মহা উদ্ধারের মধ্য দিয়ে তোমাদের বাঁচাবার জন্যই তোমাদের আগে আগে আমাকে পাঠিয়েছেন।
৪৫:৮ তাই তোমরাই যে আমাকে এখানে পাঠিয়েছ, এমন নয়, পরমেশ্বরই পাঠিয়েছেন, এবং আমাকে ফারাওর পিতারূপে, তাঁর সমস্ত বাড়ির প্রভু ও সারা মিশর দেশের উপরে শাসনকর্তা করেছেন।
৪৫:৯ তোমরা শীঘ্রই আমার পিতার কাছে ফিরে যাও, তাঁকে বল, “তোমার ছেলে যোসেফ একথা বলছে, পরমেশ্বর আমাকে সারা মিশর দেশের কর্তা করেছেন। তুমি আমার কাছে চলে এসো, দেরি করো না।
৪৫:১০ তুমি গোশেন অঞ্চলে বাস করবে, সেখানে তুমি, তোমার সন্তানেরা, তোমার সন্তানদের সন্তানসন্ততিরা, তোমার পশুপাল ও তোমার সর্বস্ব আমার কাছে কাছে থাকবে।
৪৫:১১ সেখানে আমি তোমার অন্নসংস্থানের জন্য ব্যবস্থা করব, কেননা দুর্ভিক্ষ আর পাঁচ বছর থাকবে; তবে তোমাকে ও তোমার পরিজনদের ও তোমার সকল লোককে কোন দুরবস্থা ভোগ করতে হবে না।”
৪৫:১২ তোমরা স্বচক্ষেই দেখতে পাচ্ছ, আমার সহোদর বেঞ্জামিনও স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছে: আমার নিজের মুখই তো তোমাদের কাছে কথা বলছে!
৪৫:১৩ তোমরা এই মিশর দেশে আমার গৌরবের কথা, এবং তোমরা যা কিছু দেখেছ, সেই সমস্ত কথা আমার পিতাকে জানাও। আর শীঘ্রই আমার পিতাকে এখানে নিয়ে এসো।’
৪৫:১৪ তখন তিনি ভাই বেঞ্জামিনের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন, বেঞ্জামিনও তাঁর গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।
৪৫:১৫ তিনি তাঁর সকল ভাইকে চুম্বন করলেন, ও তাঁদের বুকে টেনে আলিঙ্গন করে কেঁদে ফেললেন। তারপর তাঁর ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে লাগলেন।
৪৫:১৬ ইতিমধ্যে ফারাওর বাড়িতেও কথা রটিয়ে পড়েছিল যে, যোসেফের ভাইয়েরা এসেছে; এতে ফারাও ও তাঁর পরিষদেরা সকলেই খুশি হলেন।
৪৫:১৭ ফারাও যোসেফকে বললেন, ‘তোমার ভাইদের বল, তোমরা একাজ কর: তোমাদের বাহনদের পিঠে শস্য চাপিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কানান দেশের দিকে রওনা হও;
৪৫:১৮ পরে তোমাদের পিতাকে ও নিজ নিজ পরিবারকে তুলে নিয়ে আমার কাছে ফিরে এসো; আমি তোমাদের কাছে মিশর দেশের সর্বোত্তম জায়গা দেব, আর তোমরা দেশের সর্বোত্তম স্থান ভোগ করবে।
৪৫:১৯ এখন তুমি তাদের এই আজ্ঞা দাও: তোমরা একাজ কর: তোমরা নিজ নিজ ছেলেমেয়ে ও বধূদের জন্য মিশর দেশ থেকে গাড়ি নিয়ে গিয়ে তাদের ও তোমাদের পিতাকে নিয়ে এসো।
৪৫:২০ তোমাদের দ্রব্য-সামগ্রীর জন্য অযথা দুঃখ করো না, কেননা সারা মিশর দেশের সর্বোত্তম অংশ তোমাদেরই হবে।’
৪৫:২১ ইস্রায়েলের ছেলেরা সেইমত করলেন। যোসেফ ফারাওর আজ্ঞা অনুসারে তাঁদের গাড়ি দিলেন, যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যও দিলেন।
৪৫:২২ তিনি প্রত্যেকজনকে এক এক জোড়া করে জামাকাপড় দিলেন, কিন্তু বেঞ্জামিনকে তিনশ’ রুপোর টাকা ও পাঁচ জোড়া জামাকাপড় দিলেন।
৪৫:২৩ পিতার জন্য তিনি এই সমস্ত জিনিস পাঠালেন: দশটা গাধার পিঠে চাপিয়ে মিশরের সর্বোত্তম দ্রব্য, এবং পিতার যাত্রার জন্য দশটা গাধীর পিঠে চাপিয়ে শস্য, রুটি ও প্রভৃতি খাদ্য-সামগ্রী।
৪৫:২৪ এইভাবে তিনি ভাইদের বিদায় দিলে তাঁরা রওনা হলেন; তিনি তাঁদের বলে দিলেন, ‘পথে নিরাশ হয়ো না!’
৪৫:২৫ তাই তাঁরা মিশর ছেড়ে কানান দেশে তাঁদের পিতা যাকোবের কাছে এসে পৌঁছলেন;
৪৫:২৬ তাঁকে বললেন, ‘যোসেফ এখনও বেঁচে আছে, এমনকি সারা মিশর দেশের উপরে সে-ই শাসনকর্তা হয়েছে।’ কিন্তু তাঁর হৃদয় শীতল থাকল, কারণ তিনি তাঁদের কথা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
৪৫:২৭ কিন্তু যোসেফ তাঁদের যে সমস্ত কথা বলেছিলেন, তাঁরা যখন তা তাঁকে বললেন, এবং তাঁকে নিয়ে যাবার জন্য যোসেফ যে সকল গাড়ি পাঠিয়েছিলেন, তাও যখন তিনি দেখলেন, তখন তাঁদের পিতা যাকোবের আত্মায় নতুন জীবন জেগে উঠল।
৪৫:২৮ ইস্রায়েল বললেন, ‘যথেষ্ট! আমার ছেলে যোসেফ এখনও বেঁচে আছে। মরবার আগে আমাকে গিয়ে তাকে দেখতে হবে!’
৪৬:১ তাই ইস্রায়েল, তাঁর যা কিছু ছিল, তা নিয়ে রওনা হলেন। বের্শেবায় এসে তিনি তাঁর পিতা ইসায়াকের পরমেশ্বরের উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করলেন।
৪৬:২ পরমেশ্বর রাত্রিকালীন দর্শনে ইস্রায়েলকে বললেন, ‘যাকোব, যাকোব!’ তিনি বললেন, ‘এই যে আমি!’
৪৬:৩ তিনি বলে চললেন, ‘আমি ঈশ্বর, তোমার পিতার পরমেশ্বর। তুমি মিশরে যেতে ভয় পেয়ো না, কেননা আমি তোমাকে সেখানে এক মহা জাতি করে তুলব।
৪৬:৪ আমিই তোমার সঙ্গে মিশরে যাব, আমিই সেখান থেকে তোমাকে ফিরিয়েও আনব। যোসেফের হাত তোমার চোখের পাতা বন্ধ করবে।’
৪৬:৫ তাই যাকোব বের্শেবা থেকে রওনা হলেন, আর ইস্রায়েলের সন্তানেরা তাঁদের পিতা যাকোবকে ও নিজ নিজ ছেলেমেয়েদের ও বধূদের সেই সব গাড়িতে করে নিয়ে গেলেন, যা ফারাও তাঁকে বহন করার জন্য পাঠিয়েছিলেন।
৪৬:৬ পশুপাল ও ধনসম্পদ, যা কিছু তারা কানান দেশে সঞ্চয় করেছিল, সবকিছু সঙ্গে নিয়ে তারা মিশরে চলে এল: যাকোব নিজে এলেন, ও তাঁর সঙ্গে তাঁর গোটা বংশ এল;
৪৬:৭ তাঁর সন্তানেরা ও তাঁর সন্তানদের সন্তানেরা, তাঁর কন্যারা ও তাঁর কন্যাদের কন্যারা, তাঁর বংশের এই সকলকেই তিনি সঙ্গে করে মিশরে নিয়ে গেলেন।
৪৬:৮ যে ইস্রায়েল সন্তানেরা (যাকোব ও তাঁর সন্তানেরা) মিশরে গেলেন, তাদের নাম এই: যাকোবের জ্যেষ্ঠ পুত্র রূবেন।
৪৬:৯ রূবেনের সন্তানেরা: হানোক, পাল্লু, হেস্রোন ও কার্মি।
৪৬:১০ সিমেয়োনের সন্তানেরা: যেমুয়েল, যামিন, ওহাদ, যাখিন, জোহার ও কানানীয় স্ত্রীজাত সন্তান সৌল।
৪৬:১১ লেবির সন্তানেরা: গের্শোন, কেহাৎ ও মেরারি।
৪৬:১২ যুদার সন্তানেরা: এর, ওনান, সেলা, পেরেস ও জেরাহ্‌ (কিন্তু এর ও ওনান কানান দেশেই মরল)। পেরেসের সন্তানেরা: হেস্রোন ও হামুল।
৪৬:১৩ ইসাখারের সন্তানেরা: তোলা, পুয়া, যোব ও সিম্রোন।
৪৬:১৪ জাবুলোনের সন্তানেরা: সেরেদ, এলোন ও যাহ্লেল।
৪৬:১৫ এঁরা লিয়ার পুত্রসন্তান; তিনি পাদ্দান-আরামে যাকোবের ঘরে এঁদের ও তাঁর কন্যা দীণাকে প্রসব করেন। যাকোবের এই পুত্রকন্যারা সবসমেত তেত্রিশজন।
৪৬:১৬ গাদের সন্তানেরা: জিফিয়োন, হাগ্গি, সুনি, এজবোন, এরি, আরোদি ও আরেলি।
৪৬:১৭ আসেরের সন্তানেরা: ইম্না, ইস্ভা, ইস্ভি, বেরিয়া ও তাদের বোন সেরাহ্‌। বেরিয়ার সন্তানেরা: হেবের ও মাল্কিয়েল।
৪৬:১৮ এঁরা সেই সিল্পার সন্তান, যাকে লাবান তাঁর কন্যা লিয়াকে দিয়েছিলেন; সে যাকোবের ঘরে এঁদের প্রসব করেছিল। এরা ষোলজন।
৪৬:১৯ যাকোবের স্ত্রী রাখেলের সন্তানেরা: যোসেফ ও বেঞ্জামিন।
৪৬:২০ যোসেফের সন্তানেরা মানাসে ও এফ্রাইম মিশর দেশে জন্মেছিল; ওন শহরের পোটিফেরা যাজকের কন্যা আসেনাৎ তাঁর ঘরে তাদের প্রসব করেছিলেন।
৪৬:২১ বেঞ্জামিনের সন্তানেরা: বেলা, বেখের, আসবেল, গেরা, নামান, এহি, রোস, মুপ্পিম, হুপ্পিম ও আর্দ্‌।
৪৬:২২ এঁরা রাখেলের সন্তান; তিনি যাকোবের ঘরে এঁদের প্রসব করেন। এরা সবসমেত চৌদ্দজন।
৪৬:২৩ দানের সন্তান: হুসিম।
৪৬:২৪ নেফ্তালির সন্তানেরা: যাহ্ৎসিয়েল, গুনি, যেসের ও সিল্লেম।
৪৬:২৫ এঁরা সেই বিহ্লার সন্তান, যাকে লাবান তাঁর কন্যা রাখেলকে দিয়েছিলেন; সে যাকোবের ঘরে এঁদের প্রসব করেছিল। এরা সবসমেত সাতজন।
৪৬:২৬ যাকোবের কটি থেকে উৎপন্ন যে ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে মিশরে প্রবেশ করল, যাকোবের পুত্রবধূ ছাড়া তারা সবসমেত ছেষট্টিজন।
৪৬:২৭ মিশরে যোসেফের যে সন্তানেরা জন্মেছিল, তারা দু’জন। এদের ধরে যাকোবের পরিজন, যারা মিশরে প্রবেশ করল, তারা সবসমেত সত্তরজন।
৪৬:২৮ যুদা যেন গোশেনে আগেই এসে উপস্থিত হন, এই উদ্দেশ্যে যাকোব তাঁর আগে আগে যুদাকে যোসেফের কাছে পাঠিয়েছিলেন; তাই যখন তাঁরা গোশেন প্রদেশে এসে পৌঁছলেন,
৪৬:২৯ তখন যোসেফ তাঁর নিজের রথ সাজিয়ে গোশেনে তাঁর আপন পিতা ইস্রায়েলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। তাঁকে দেখামাত্র তিনি তাঁকে আলিঙ্গন করে তাঁর গলা ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলেন।
৪৬:৩০ ইস্রায়েল যোসেফকে বললেন, ‘তোমার মুখ দেখবার পর এবার আমি মরতে পারি, কেননা তুমি এখনও বেঁচে আছ।’
৪৬:৩১ তখন যোসেফ তাঁর ভাইদের ও পিতার পরিজনদের বললেন, ‘আমি গিয়ে ফারাওকে সংবাদ দেব; তাঁকে বলব, আমার ভাইয়েরা ও পিতার সমস্ত পরিজন, যাঁরা কানান দেশে ছিলেন, আমার কাছে এসেছেন;
৪৬:৩২ তাঁরা পশুপালক, তাঁরা পশুপাল পালন করেন; তাঁরা তাঁদের মেষপাল, পশুপাল ও সবকিছুই এনেছেন।
৪৬:৩৩ তাই ফারাও তোমাদের ডেকে যখন জিজ্ঞাসা করবেন, “তোমাদের পেশা কি?”
৪৬:৩৪ তখন তোমাদের বলতে হবে: “আপনার এই দাসেরা পিতৃপুরুষানুক্রমে বাল্যকাল থেকে আজ পর্যন্ত পশুপাল পালন করে।” একথা কেন, যেন তোমরা গোশেন প্রদেশে বাস করতে পার; কেননা যত পশুপালক মিশরীয়দের ঘৃণার পাত্র।’
৪৭:১ যোসেফ গিয়ে ফারাওকে সংবাদ দিয়ে বললেন, ‘আমার পিতা ও ভাইয়েরা তাঁদের মেষপাল, পশুপাল ও সবকিছুই কানান দেশ থেকে নিয়ে এসেছেন; আপাতত তাঁরা গোশেন প্রদেশে আছেন।’
৪৭:২ ইতিমধ্যে তিনি তাঁর ভাইদের দল থেকে পাঁচজনকে নিয়ে তাঁদের ফারাওর সাক্ষাতে উপস্থিত করেছিলেন।
৪৭:৩ ফারাও যোসেফের ভাইদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের পেশা কি?’ উত্তরে তাঁরা ফারাওকে বললেন, ‘আপনার এই দাসেরা পিতৃপুরুষানুক্রমে পশুপালক।’
৪৭:৪ তাঁরা ফারাওকে আরও বললেন, ‘আমরা এই দেশে কিছু দিনের মত বাস করতে এসেছি, কারণ আপনার এই দাসদের পশুপালের চরাণী হয় না, যেহেতু কানান দেশে অধিক ভারী দুর্ভিক্ষ হয়েছে; তাই আপনার দোহাই, আপনার এই দাসদের গোশেন প্রদেশে বাস করতে দিন।’
৪৭:৫ ফারাও যোসেফকে বললেন, ‘তোমার পিতা ও ভাইয়েরা তোমার কাছে এসেছে।
৪৭:৬ বেশ, তোমার সামনে মিশর দেশ রয়েছে! দেশের সর্বোত্তম জায়গায় তোমার পিতা ও ভাইদের বাস করাও; তারা গোশেন প্রদেশে বাস করুক। আর যদি তাদের মধ্যে কার্যদক্ষ বলে কাউকে কাউকে জান, তাহলে তাদের উপরে আমার নিজের পশুপাল দেখাশোনার ভার আরোপ কর।’
৪৭:৭ এরপর যোসেফ তাঁর পিতা যাকোবকে আনিয়ে ফারাওর সাক্ষাতে উপস্থিত করলেন, আর যাকোব ফারাওকে আশীর্বাদ করলেন।
৪৭:৮ ফারাও যাকোবকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনার বয়স কত?’
৪৭:৯ যাকোব ফারাওকে উত্তর দিয়ে বললেন, ‘প্রবাসী জীবন যাপন করে আমার বয়স একশ’ ত্রিশ বছর হয়েছে; আমার আয়ুর দিনগুলি অল্প ও কষ্টকর হয়েছে; না, আমার আয়ুর দিনগুলি আমার সেই পিতৃপুরুষদের আয়ুর মত হয়নি, যাঁরা প্রবাসী জীবন যাপন করলেন।’
৪৭:১০ যাকোব ফারাওকে আশীর্বাদ করে তাঁর সম্মুখ থেকে বিদায় নিলেন।
৪৭:১১ তখন যোসেফ ফারাওর আজ্ঞামত মিশর দেশে, সর্বোত্তম অঞ্চলে, সেই রাম্সেস প্রদেশেই তাঁর পিতা ও ভাইদের বসিয়ে দিলেন; অধিকার রূপে তাঁদের জমিজমাও দিলেন।
৪৭:১২ যোসেফ তাঁর পিতা, ভাইদের ও পিতার সমস্ত পরিজনের জন্য, তাঁদের ছেলেমেয়েদের সংখ্যা অনুসারে, অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন।
৪৭:১৩ সেসময় সমগ্র দেশ জুড়ে আর খাদ্য-সামগ্রী ছিল না, কারণ দুর্ভিক্ষ অতি ভারী হয়ে উঠেছিল; দুর্ভিক্ষের কারণে মিশর দেশ ও কানান দেশ অবসন্ন হয়ে পড়েছিল।
৪৭:১৪ মিশর দেশে ও কানান দেশে যত রুপো ছিল, যোসেফ শস্য বিতরণের বিনিময়ে তা সংগ্রহ করে ফারাওর প্রাসাদে বুঝিয়ে দিলেন।
৪৭:১৫ মিশর দেশে ও কানান দেশে একবার টাকা ফুরিয়ে গেলে মিশরীয়েরা সকলে যোসেফের কাছে এসে বলল, ‘আমাদের খাদ্য দিন, আমাদের টাকা ফুরিয়ে গেছে বলে আমরা কি আপনার চোখের সামনে মরব?’
৪৭:১৬ যোসেফ উত্তরে বললেন, ‘তোমাদের পশুদের দিয়ে দাও; যদি টাকা ফুরিয়ে গিয়ে থাকে, তবে তোমাদের পশুর বিনিময়ে তোমাদের খাদ্য দেব।’
৪৭:১৭ আর তারা যোসেফের কাছে নিজ নিজ পশু আনলে যোসেফ ঘোড়া, মেষপাল, পশুপাল ও গাধাগুলোর বিনিময়ে তাদের খাদ্য দিতে লাগলেন; এভাবে যোসেফ সেই বছরের মত তাদের সমস্ত পশুর বিনিময়ে খাদ্য দিয়ে তাদের চালিয়ে দিলেন।
৪৭:১৮ সেই বছর অতিবাহিত হলে তারা পরবর্তী বছরে তাঁর কাছে এসে বলল, ‘আমরা আমার প্রভুর কাছে একথা গোপন রাখতে পারি না যে, আমাদের সমস্ত টাকা ফুরিয়ে গেছে, পশুধনও আমার প্রভুরই হয়েছে; এখন আমাদের শরীর ও জমি ছাড়া আমার প্রভুর জন্য আর কিছুই বাকি নেই।
৪৭:১৯ আমরা ও আমাদের জমি কেন একইসঙ্গে আপনার চোখের সামনে মরব? আপনি খাদ্যের বিনিময়ে আমাদের ও আমাদের জমি কিনে নিন; আমরা নিজ নিজ জমির সঙ্গে ফারাওর দাস হব। কিন্তু আমাদের বীজ দিন, তাহলে আমরা বাঁচব, মারা পড়ব না, আমাদের জমিও মরুভূমি হবে না।’
৪৭:২০ তখন যোসেফ মিশরের সমস্ত জমি ফারাওর জন্য কিনলেন, কেননা তাদের পক্ষে দুর্ভিক্ষ অসহ্য হওয়ায় মিশরীয়েরা প্রত্যেকে নিজ নিজ চাষের জমি বিক্রি করল। এর ফলে গোটা দেশ ফারাওর অধিকার হল।
৪৭:২১ আর তিনি মিশরের এক সীমা থেকে অন্য সীমা পর্যন্ত প্রজা সকলকে শহরে শহরে স্থানান্তর করলেন।
৪৭:২২ তিনি কেবল যাজকদের জমি কিনলেন না, কারণ ফারাও যাজকদের ভাতা দিতেন, তাই তারা ফারাওর দেওয়া ভাতা ভোগ করত; এজন্য তারা নিজেদের জমি বিক্রি করল না।
৪৭:২৩ যোসেফ লোকদের বললেন, ‘দেখ, আমি আজ তোমাদের ও তোমাদের জমি ফারাওর জন্য কিনলাম। এই যে তোমাদের বীজ! তোমরা এখন এই বীজ বোন।
৪৭:২৪ কিন্তু যা যা উৎপন্ন হবে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ ফারাওকে দিতে হবে, বাকি চার ভাগ খেতের বীজের জন্য এবং তোমাদের ও পরিজনদের খাদ্যের জন্য এবং ছেলেমেয়েদের খাদ্যের জন্য তোমাদেরই থাকবে।’
৪৭:২৫ তারা বলল, ‘আপনি আমাদের প্রাণ বাঁচালেন! আমার প্রভুর অনুগ্রহের পাত্র হওয়া, এটুকু আমাদের দেওয়া হোক, আর আমরা ফারাওর দাস হব।’
৪৭:২৬ আর তেমন ব্যবস্থা যোসেফ বিধিরূপেই জারি করলেন, আর মিশরের জমি সম্বন্ধে এই বিধি আজ পর্যন্তই চলছে, যা অনুসারে পাঁচ ভাগের এক ভাগ ফারাওকে দিতে হয়। কেবল যাজকদের জমিই ফারাওর হয়নি।
৪৭:২৭ এদিকে ইস্রায়েল মিশর দেশে, সেই গোশেন অঞ্চলে, বসতি করলেন; তারা সেখানে জমিজমা অধিকার করে ফলবান হল এবং তাদের সংখ্যা অধিক বৃদ্ধিশীল হয়ে উঠল।
৪৭:২৮ মিশর দেশে যাকোব সতের বছর জীবনযাপন করলেন; যাকোবের পুরো আয়ু হল একশ’ সাতচল্লিশ বছর।
৪৭:২৯ ইস্রায়েলের মৃত্যুর দিন যখন কাছে এল, তখন তিনি তাঁর ছেলে যোসেফকে ডাকিয়ে তাঁকে বললেন, ‘আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হয়ে থাকি, তবে তোমার দোহাই, তুমি আমার জঙ্ঘার নিচে হাত রাখ, এবং আমার প্রতি কৃপা ও বিশ্বস্ততা দেখাও: মিশরে আমাকে সমাধি দিয়ো না!
৪৭:৩০ আমি যখন আমার পিতৃপুরুষদের কাছে শয়ন করব, তখন তুমি আমাকে মিশর থেকে বের করে নিয়ে তাঁদের সমাধিস্থানে সমাধি দাও।’ যোসেফ বললেন, ‘আপনি যা বললেন, তাই করব।’
৪৭:৩১ কিন্তু যাকোব আরও বললেন, ‘দিব্যি দিয়ে শপথ কর!’ আর তিনি তাঁর কাছে দিব্যি দিয়ে শপথ করলেন। তখন ইস্রায়েল খাটের মাথায় শুয়ে পড়লেন।
৪৮:১ এই সমস্ত ঘটনার পর যোসেফকে এই সংবাদ দেওয়া হল: ‘দেখুন, আপনার পিতা অসুস্থ।’ তাই তিনি তাঁর দুই ছেলে মানাসে ও এফ্রাইমকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন।
৪৮:২ কথাটা যাকোবকে জানানো হল: ‘দেখুন, আপনার ছেলে যোসেফ এসেছেন।’ তখন ইস্রায়েল বাকিটুকু শক্তি সঞ্চয় করে খাটে উঠে বসলেন।
৪৮:৩ যাকোব যোসেফকে বললেন, ‘কানান দেশে, সেই লুজে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাকে দেখা দিয়েছিলেন, এবং আমাকে আশীর্বাদ করে
৪৮:৪ বলেছিলেন, “দেখ, আমি তোমাকে ফলবান করব, তোমার বংশবৃদ্ধি করব, আর তোমাকে এক জাতিসমাজ করে তুলব, এবং তোমার ভাবী বংশকে চিরস্থায়ী অধিকারার্থে এই দেশ দেব।”
৪৮:৫ এখন শোন, মিশরে তোমার কাছে আমার আসবার আগে তোমার যে দুই ছেলে মিশর দেশে জন্মেছে, তারা আমারই হবে: হ্যাঁ, রূবেন ও সিমেয়োনের মত এফ্রাইম ও মানাসেও আমারই হবে।
৪৮:৬ কিন্তু এদের পরে তোমার ঘরে যারা জন্মাবে, তোমার সেই ছেলেরা তোমারই হবে, এবং এই দুই ভাইয়ের নামে এদেরই উত্তরাধিকারে তারা পরিচিত হবে।
৪৮:৭ আরও, পাদ্দান থেকে আমার আসবার সময়ে, কানান দেশে তোমার মা রাখেল এফ্রাথায় পৌঁছবার অল্প পথ বাকি থাকতেই পথিমধ্যে মরলেন; তাই আমি সেখানে, এফ্রাথার (অর্থাৎ বেথলেহেমের) পথের ধারে তাঁকে সমাধি দিলাম।’
৪৮:৮ পরে ইস্রায়েল যোসেফের দুই ছেলেকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এরা কে?’
৪৮:৯ যোসেফ পিতাকে বললেন, ‘এরা আমার সেই ছেলে, যাদের পরমেশ্বর এদেশে আমাকে দিয়েছেন।’ তখন তিনি বললেন, ‘তোমার দোহাই, এদের আমার কাছে আন, আমি যেন এদের আশীর্বাদ করি।’
৪৮:১০ বার্ধক্যের জন্য ইস্রায়েলের চোখ ক্ষীণ হয়ে এসেছিল, তিনি ভাল মত আর দেখতে পাচ্ছিলেন না। তাই যোসেফ তাদের তাঁর কাছে এগিয়ে দিলেন আর তিনি তাদের চুম্বন ও আলিঙ্গন করলেন।
৪৮:১১ ইস্রায়েল যোসেফকে বললেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, তোমার মুখ আর দেখতে পাব না; কিন্তু দেখ, পরমেশ্বর আমাকে তোমার বংশকেও দেখতে দিলেন!’
৪৮:১২ তখন যোসেফ তাঁর দুই হাঁটুর মধ্য থেকে তাদের সরিয়ে দিলেন, ও মাটিতে মুখ করে প্রণিপাত করলেন।
৪৮:১৩ পরে যোসেফ দু’জনকে নিয়ে তাঁর ডান হাত দিয়ে এফ্রাইমকে ধরে ইস্রায়েলের বাঁদিকে, ও বাঁ হাত দিয়ে মানাসেকে ধরে ইস্রায়েলের ডানদিকে তাঁর কাছে কাছে এগিয়ে দিলেন।
৪৮:১৪ কিন্তু ইস্রায়েল ভুলবশত ডান হাত বাড়িয়ে তা এফ্রাইমের মাথায় দিলেন—অথচ এ কনিষ্ঠই ছিল—এবং বাঁ হাত মানাসের মাথায় রাখলেন—অথচ এ জ্যেষ্ঠই ছিল।
৪৮:১৫ পরে তিনি এ বলেই যোসেফকে আশীর্বাদ করলেন:
‘সেই পরমেশ্বর,
যাঁর সাক্ষাতে আমার পিতৃপুরুষ আব্রাহাম ও ইসায়াক হেঁটে চলছিলেন
—সেই পরমেশ্বর, যিনি প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত আমার পালক হয়ে আসছেন—
৪৮:১৬ সেই দূত, যিনি আমাকে সমস্ত বিপদ থেকে মুক্ত করেছেন
—তিনিই এই বালক দু’টিকে আশীর্বাদ করুন,
যেন এদের দ্বারা আমার নাম
ও আমার পিতৃপুরুষ আব্রাহাম ও ইসায়াকের নাম স্মরণ করা হয়,
এবং দেশ জুড়ে এদের বহু বহু বংশবৃদ্ধি হয়।’
৪৮:১৭ এফ্রাইমের মাথায়ই যে পিতা ডান হাত দিয়েছেন, তা লক্ষ করে যোসেফ অসন্তুষ্ট হলেন; তাই তিনি এফ্রাইমের মাথা থেকে মানাসের মাথায় রাখবার জন্য পিতার হাত তুলে ধরলেন।
৪৮:১৮ পিতাকে তিনি বললেন, ‘পিতা, এমন নয়; এ-ই জ্যেষ্ঠজন, এরই মাথায় ডান হাত দিন।’
৪৮:১৯ কিন্তু তাঁর পিতা অসম্মত হলেন, বললেন, ‘সন্তান, তা আমি জানি, আমি জানি; এও এক জাতি হয়ে উঠবে, এও মহান হবে! তবু এর কনিষ্ঠ ভাই এর চেয়ে মহান হবে, ও তার বংশ জাতিসমাজ হয়ে উঠবে।’
৪৮:২০ তাই সেদিন তিনি এই বলে তাদের আশীর্বাদ করলেন,
‘তোমাদের দ্বারাই ইস্রায়েল আশীর্বাদ করবে, তারা বলবে:
পরমেশ্বর তোমাকে এফ্রাইম ও মানাসের মতই করুন।’
এভাবে তিনি মানাসের আগে এফ্রাইমকেই প্রাধান্য দিলেন।
৪৮:২১ পরে ইস্রায়েল যোসেফকে বললেন, ‘আমি এবার মরতে বসেছি; কিন্তু পরমেশ্বর তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকবেন ও তোমাদের তোমাদের পিতৃপুরুষদের দেশে ফিরিয়ে নেবেন।
৪৮:২২ তোমার ভাইদের চেয়ে তোমাকে আমি সিখেম অর্থাৎ একটা অংশ বেশি দিচ্ছি; তা নিজের খড়্গ ও ধনুক দ্বারা আমোরীয়দের হাত থেকে নিয়েছিলাম।’
৪৯:১ যাকোব তাঁর ছেলেদের কাছে ডেকে বললেন, ‘একত্র হও, যেন ভাবীকালে তোমাদের প্রতি যা ঘটবে, তা তোমাদের বলতে পারি।
৪৯:২ যাকোবের সন্তানেরা, একত্র হও, শোন;
তোমাদের পিতা ইস্রায়েলের কথা শোন।
৪৯:৩ রূবেন, তুমি আমার প্রথমজাত;
তুমি আমার প্রাণশক্তি, এবং আমার পুরুষত্বের প্রথমফল;
তুমি মহিমায় প্রধান, শক্তিতে প্রধান।
৪৯:৪ তুমি ফুটন্ত জলরাশির মত; তোমার প্রাধান্য থাকবে না;
কেননা তুমি তোমার পিতার বাসর দখল করেছিলে,
আমার মিলন-শয্যায় উঠে তা কলুষিত করেছিলে।
৪৯:৫ সিমেয়োন ও লেবি দুই সহোদর;
তাদের খড়্গ দৌরাত্ম্যের অস্ত্র;
৪৯:৬ তাদের মন্ত্রণাসভায় যেন না ঢোকে আমার প্রাণ!
তাদের আসরে যেন যোগ না দেয় আমার হৃদয়!
কেননা তাদের ক্রোধে তারা নরহত্যা করল,
নিজেদের ইচ্ছার বশেই বৃষের শিরা ছিন্ন করল।
৪৯:৭ তাদের ক্রোধ অভিশপ্ত হোক, কেননা তা প্রচণ্ড;
তাদের কোপ অভিশপ্ত হোক, কেননা তা নিষ্ঠুর।
আমি তাদের যাকোবে বিভক্ত করব,
ইস্রায়েলে তাদের বিক্ষিপ্ত করব।
৪৯:৮ যুদা, তোমার ভাইয়েরা তোমারই স্তব করবে;
তোমার হাত তোমার শত্রুদের ঘাড় চেপে ধরবে;
তোমার পিতার সন্তানেরা তোমার সামনে প্রণিপাত করবে।
৪৯:৯ যুদা একটা যুবসিংহ;
বৎস, নিহত শিকার ফেলে রেখে তুমি উঠে এলে।
সে পা গুটিয়ে বসে আছে একটা সিংহের মত,
একটা সিংহীরই মত—তাকে ওঠাবে, এমন সাহস কার?
৪৯:১০ যুদা থেকে রাজদণ্ড যাবে না,
তার দু’ পায়ের মাঝখান থেকে বিচারদণ্ড যাবে না,
যতদিন না তিনি আসেন রাজদণ্ড যাঁর অধিকার,
জাতিসকল যাঁর আনুগত্য স্বীকার করবে।
৪৯:১১ সে আঙুরলতায় বাঁধে নিজের গাধা,
সেরা আঙুরলতায় নিজের গাধার বাচ্চা;
সে আঙুররসে ধুয়ে নেয় নিজের পোশাক,
আঙুরের রক্তে নিজের কাপড়।
৪৯:১২ তার চোখ আঙুররসে রক্তবর্ণ,
তার দাঁত দুধে স্বেতবর্ণ।
৪৯:১৩ জাবুলোন সমুদ্রতীরে বাস করবে,
হবে যত জাহাজের আশ্রয়স্থল,
সিদোনমুখীই তার পাশ।
৪৯:১৪ ইসাখার একটা বলবান গাধা
যা মেষপালের মধ্যে শায়িত;
৪৯:১৫ সে যখন দেখল, বিশ্রামস্থান কেমন উত্তম,
যখন দেখল, দেশটি কেমন মনোরম,
তখন ভার বইতে কাঁধ পেতে দিল
ও মেহনতি কাজের দাস হল।
৪৯:১৬ দান নিজের প্রজাদের বিচার করবে
ইস্রায়েলের অন্য সকল গোষ্ঠীর মত।
৪৯:১৭ দান পথের একটা সাপ হোক,
হোক রাস্তার এমন চন্দ্রবোড়া,
যা অশ্বের পায়ে কামড় দেয়,
ফলে অশ্বারোহী পিছনে পড়ে যায়।
৪৯:১৮ প্রভু, আমি তোমার পরিত্রাণের প্রত্যাশায় আছি!
৪৯:১৯ গাদকে সৈন্যদল আক্রমণ করবে,
কিন্তু সে পিছন থেকে তাদের উপর আঘাত হানবে।
৪৯:২০ আসের থেকে উত্তম খাদ্য উৎপন্ন হবে;
সে রাজারই উপযুক্ত খাদ্য সরবরাহ করবে।
৪৯:২১ নেফ্তালি একটা দ্রুত হরিণী,
যা মনোরম শাবক প্রসব করে।
৪৯:২২ যোসেফ একটি উর্বর তরু-পল্লব,
সে উৎসের ধারে উর্বর তরু-পল্লব,
যার শাখাগুলো প্রাচীরের উপরে ছড়িয়ে পড়ে।
৪৯:২৩ তীরন্দাজেরা তাকে কঠোর ক্লেশ দিল,
তীরের আঘাতে তাকে উৎপীড়ন করল;
৪৯:২৪ কিন্তু তার ধনুক অক্ষুণ্ণ থাকল,
তার বাহু বলবান রইল
যাকোবের সেই শক্তিমানের বাহু দ্বারা,
সেই পালকের নামে, যিনি ইস্রায়েলের শৈল,
৪৯:২৫ তোমার পিতার সেই ঈশ্বর দ্বারা, যিনি তোমার সহায়,
সেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর দ্বারা, যিনি তোমাকে আশীর্বাদ করেন:
ঊর্ধ্ব থেকে স্বর্গীয় আশীর্বাদ,
অধোলোকে গহ্বরের আশীর্বাদ,
বুক ও গর্ভের আশীর্বাদ।
৪৯:২৬ প্রাচীন পর্বতমালার আশীর্বাদের চেয়ে,
চিরন্তন গিরিমালার আকর্ষণের চেয়ে
তোমার পিতার আশীর্বাদই প্রাচুর্যময়।
তেমন আশীর্বাদ নেমে আসুক যোসেফের মাথায়,
তারই শিরে, ভাইদের মধ্যে যে নিবেদিতজন!
৪৯:২৭ বেঞ্জামিন একটা নেকড়ের মত যা দীর্ণ-বিদীর্ণ করে;
প্রভাতে, সে নিজের শিকার গ্রাস করে,
সন্ধ্যায়, লুণ্ঠিত সম্পদ ভাগ করে নেয়।’
৪৯:২৮ এঁরা সকলে ইস্রায়েলের গোষ্ঠী, সংখ্যায় বারো; এঁদের পিতা আশীর্বাদ করার সময়ে একথা বললেন; এঁদের প্রত্যেকজনের উপরে বিশেষ বিশেষ আশীর্বাদ উচ্চারণ করলেন।
৪৯:২৯ পরে যাকোব তাঁদের এই আজ্ঞা দিলেন, ‘আমি আমার জাতির সঙ্গে মিলিত হতে চলেছি। হিত্তীয় এফ্রোনের সেই একখণ্ড জমিতে যে গুহা রয়েছে, সেই গুহাতে আমার পিতৃপুরুষদের সঙ্গে আমাকে সমাধি দাও;
৪৯:৩০ সেই গুহা কানান দেশে মাম্রের সামনে মাখপেলার সেই একখণ্ড জমিতে রয়েছে; আব্রাহাম জমি সমেত গুহাটা হিত্তীয় এফ্রোনের কাছ থেকে সমাধিস্থান হিসাবে কিনেছিলেন।
৪৯:৩১ সেইখানে আব্রাহামকে ও তাঁর স্ত্রী সারাকে সমাধি দেওয়া হয়েছে, সেইখানে ইসায়াককে ও তাঁর স্ত্রী রেবেকাকে সমাধি দেওয়া হয়েছে, এবং সেইখানে আমি নিজে লিয়াকে সমাধি দিয়েছি;
৪৯:৩২ সেই একখণ্ড জমি ও জমির গুহাটা হিত্তীয়দের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল।’
৪৯:৩৩ ছেলেদের কাছে এই আজ্ঞা দেওয়া শেষ করার পর যাকোব বিছানায় পা দু’টো তুলে নিলেন, এবং প্রাণত্যাগ করে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে মিলিত হলেন।
৫০:১ তখন যোসেফ তাঁর পিতার মুখের উপর পড়লেন, তাঁর উপরে কাঁদলেন ও তাঁকে চুম্বন করলেন।
৫০:২ পরে যোসেফ তাঁর চিকিৎসকদের তাঁর পিতার দেহে ক্ষয়-নিবারক দ্রব্য দিতে আজ্ঞা দিলেন; চিকিৎসকেরা ইস্রায়েলের দেহে ক্ষয়-নিবারক দ্রব্য দিল।
৫০:৩ সেই কাজে তাদের চল্লিশ দিন লাগল, কেননা ক্ষয়-নিবারক দ্রব্য দিতে তত দিন লাগে। মিশরীয়েরা তাঁর জন্য সত্তর দিন ধরে শোকপালন করল।
৫০:৪ শোকপালনের দিনগুলি অতীত হলে যোসেফ ফারাওর পরিজনদের বললেন, ‘যদি আমি আপনাদের দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হয়ে থাকি, তবে ফারাওর কর্ণগোচরে এই কথা দিন যে,
৫০:৫ আমার পিতা আমাকে দিব্যি দিয়ে শপথ করিয়ে বলেছেন: “আমি এবার মরতে বসেছি; কানান দেশে নিজের জন্য যে সমাধিগুহা খুঁড়েছি, তুমি আমাকে সেই সমাধিগুহায় রাখ।” সুতরাং আমার অনুরোধ, আমাকে যেতে দিন; আমি পিতাকে সমাধি দিয়ে আবার আসব।’
৫০:৬ ফারাও বললেন, ‘যাও, তোমার পিতা তোমাকে দিব্যি দিয়ে যে শপথ করিয়েছেন, তুমি সেই অনুসারে তাঁকে সমাধি দাও।’
৫০:৭ তাই যোসেফ তাঁর পিতাকে সমাধি দিতে রওনা হলেন; আর তাঁর সঙ্গে গেলেন ফারাওর উচ্চপদস্থ কর্মচারী সকলেই—তাঁর গৃহের প্রাচীনেরা ও মিশর দেশের প্রাচীনেরা সকলে—
৫০:৮ এবং যোসেফের গোটা পরিবার, তাঁর ভাইয়েরা ও তাঁর পিতৃকুল। তাঁরা গোশেন প্রদেশে কেবল তাঁদের ছেলেমেয়ে, মেষপাল ও পশুপাল রেখে গেলেন।
৫০:৯ আবার তাঁর সঙ্গে চলল যুদ্ধরথ ও অশ্বারোহী দল—এ ছিল বিরাট এক সমারোহ!
৫০:১০ যর্দনের ওপারে আটাদের খামারে এসে পৌঁছে তাঁরা মহা ও গম্ভীর বিলাপ-অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করলেন; সেখানে যোসেফ পিতার উদ্দেশে সাত দিন শোকপালন উদ্‌যাপন করলেন।
৫০:১১ আটাদের খামারে তেমন শোকপালন দেখে সেই দেশনিবাসী কানানীয়েরা বলল, ‘মিশরীয়দের জন্য এ মহা শোকপালন!’ এজন্য যর্দনের ওপারে সেই জায়গা আবেল-মিজ্রাইম নামে অভিহিত হল।
৫০:১২ যাকোব তাঁর ছেলেদের যেমন আজ্ঞা দিয়েছিলেন, তাঁরা সেইমত তাঁর সৎকার করলেন।
৫০:১৩ তাই তাঁর ছেলেরা তাঁকে কানান দেশে নিয়ে গেলেন, এবং মাম্রের সামনে মাখপেলার সেই একখণ্ড জমিতে যে গুহা রয়েছে—যা আব্রাহাম নিজস্ব সমাধিস্থান হিসাবে হিত্তীয় এফ্রোনের কাছ থেকে কিনেছিলেন—সেই গুহাতে তাঁকে সমাধি দিলেন।
৫০:১৪ পিতাকে সমাধি দেওয়ার পর যোসেফ, তাঁর ভাইয়েরা ও যত লোক তাঁর পিতাকে সমাধি দিতে তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন, সকলে মিশরে ফিরে এলেন।
৫০:১৫ পিতার মৃত্যু হল দেখে যোসেফের ভাইয়েরা বললেন, ‘এবার কী হবে, যদি যোসেফ আমাদের প্রতি অসন্তোষ রাখে, আর আমরা তার প্রতি যে অন্যায় করেছি, তার পুরো প্রতিফল আমাদের দেয়?’
৫০:১৬ তাই তাঁরা যোসেফের কাছে একথা বলে পাঠালেন: ‘তোমার পিতা মৃত্যুর আগে এই আজ্ঞা দিয়েছিলেন,
৫০:১৭ “তোমরা যোসেফকে একথা বল: তোমার ভাইয়েরা তোমার প্রতি অন্যায় করেছে, কিন্তু আমার অনুরোধ, তুমি তাদের সেই অপকর্ম ও পাপ ক্ষমাই কর।” তাই এখন আমরা বিনয় করি, তোমার পিতার পরমেশ্বরের এই দাসদের অপকর্ম ক্ষমা কর।’ তাঁদের এই কথায় যোসেফ কেঁদে ফেললেন।
৫০:১৮ তখন তাঁর ভাইয়েরা নিজেরা গিয়ে তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে বললেন, ‘এই যে, আমরা তোমার দাস।’
৫০:১৯ কিন্তু যোসেফ তাঁদের বললেন, ‘ভয় করো না, আমি কি পরমেশ্বরের স্থান দখল করব?
৫০:২০ তোমরা আমার বিরুদ্ধে অমঙ্গলকর পরিকল্পনা খাটিয়েছিলে বটে, কিন্তু পরমেশ্বর তা মঙ্গলকর পরিকল্পনা করেছেন, যেন তা-ই সাধন করতে পারেন যা তোমরা আজ দেখতে পাচ্ছ, তথা যেন বহুলোকের প্রাণ রক্ষা পায়।
৫০:২১ তাই ভয় করার তোমাদের কিছুই নেই, আমিই তোমাদের ও তোমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু ব্যবস্থা করব।’ এইভাবে তিনি তাঁদের আশ্বাস দিলেন ও তাঁদের অন্তরে সাহস সঞ্চার করলেন।
৫০:২২ যোসেফ ও তাঁর পিতার পিতৃকুল মিশরে বাস করতে লাগলেন; এবং যোসেফ একশ’ দশ বছর বাঁচলেন।
৫০:২৩ যোসেফ এফ্রাইমের তৃতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত দেখলেন; মানাসের সন্তান মাখিরের শিশুসন্তানেরাও তাঁর দুই হাঁটুর উপরে ভূমিষ্ঠ হল।
৫০:২৪ পরে যোসেফ তাঁর ভাইদের বললেন, ‘আমি মরতে বসেছি, কিন্তু পরমেশ্বর নিশ্চয়ই তোমাদের দেখতে আসবেন, এবং আব্রাহাম, ইসায়াক ও যাকোবের কাছে যে দেশ দেবেন বলে দিব্যি দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তোমাদের এই দেশ থেকে বের করে সেই দেশে নিয়ে যাবেন।’
৫০:২৫ যোসেফ ইস্রায়েলের সন্তানদের এই শপথ করালেন, বললেন, ‘পরমেশ্বর নিশ্চয় তোমাদের দেখতে আসবেন, তখন তোমরা এখান থেকে আমার হাড় নিয়ে যাবে।’
৫০:২৬ যোসেফ একশ’ দশ বছর বয়সে মরলেন; তাঁর দেহে ক্ষয়-নিবারক দ্রব্য দেওয়া হল, এবং তাঁকে মিশরে এক শবাধারের মধ্যে রাখা হল।

অধ্যায়ঃ ১০ ১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮ ১৯ ২০ ২১ ২২ ২৩ ২৪ ২৫ ২৬ ২৭ ২৮ ২৯ ৩০ ৩১ ৩২ ৩৩ ৩৪ ৩৫ ৩৬ ৩৭ ৩৮ ৩৯ ৪০ ৪১ ৪২ ৪৩ ৪৪ ৪৫ ৪৬ ৪৭ ৪৮ ৪৯ ৫০

পুরাতন নিয়মঃ আদি যাত্রা লেবীয় গণনা দ্বিতীয় বিবরণ যোশুয়া বিচারকচরিত রুথ ১ম সামুয়েল ২য় সামুয়েল ১ম রাজাবলি ২য় রাজাবলি ১ম বংশাবলি ২য় বংশাবলি এজরা নেহেমিয়া তোবিত যুদিথ এস্থার ১ম মাকাবীয় ২য় মাকাবীয় যোব সামসঙ্গীত প্রবচন উপদেশক পরম গীত প্রজ্ঞা বেন-সিরা ইসাইয়া যেরেমিয়া বিলাপ বারুক এজেকিয়েল দানিয়েল হোসেয়া যোয়েল আমোস ওবাদিয়া যোনা মিখা নাহুম হাবাকুক জেফানিয়া হগয় জাখারিয়া মালাখি
নূতন নিয়মঃ মথি মার্ক লুক যোহন শিষ্যচরিত রোমীয় ১ম করিন্থীয় ২য় করিন্থীয় গালাতীয় এফেসীয় ফিলিপ্পীয় কলসীয় ১ম থেসালোনিকীয় ২য় থেসালোনিকীয় ১ম তিমথি ২য় তিমথি তীত ফিলেমন হিব্রু যাকোব ১ম পিতর ২য় পিতর ১ম যোহন ২য় যোহন ৩য় যোহন যুদ প্রত্যাদেশ